শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

লেখালেখিতে এই স্বাধীনতা বড় অমূল্য ধন। তামিম রায়হান

ছবির কবি তামিম রায়হান 

কাতারে আসার পর পরিচয় হয়েছে এবং ঘনিষ্ঠভাবে চলাফেরা করেছি- এমন মানুষের সংখ্যা হাতেগোনা, মাত্র তিন-চারজন। এঁদের মধ্যে একজন আমার সমবয়সী, বাকিরা বয়সে আমার চেয়ে কিছুটা কম। এক দশক আগে দেশে থাকাকালে আমি ভাবতাম, আমার যা মেজাজ-মর্জি, তাতে আমার সমবয়সীদের ছাড়া কারো সঙ্গে আমার চলা সম্ভব না। কিন্তু প্রবাসজীবনে আনন্দ বেদনার নানা অভিজ্ঞতায় আমার সেই ভাবনা বদলে গেছে অনেক আগে।

এই দূরদেশে এমন অনেককে পেয়েছি যারা বয়সে সমান কিন্তু মানসিকতায় ছোট, আবার কাউকে পেয়েছি এমন যে বয়সে ছোট কিন্তু মানসিকতায় কাছাকাছি। ফলে দ্বিতীয় ধরণের দুয়েকজনের সঙ্গে আমার চলাফেরা ও উঠাবসা রয়েছে। বয়সে ছোট এই দুয়েকজনকে বন্ধুর চেয়ে বরং ভাইয়ের মতো ভাবতে ভালোবাসি। কেউ বন্ধুসমভাই, কেউ ভাইসম বন্ধু।


কখনো সমবয়সী কোনো বন্ধুর সঙ্গে যদি আমার মনোমালিন্য ঘটে, তখন সেটির মীমাংসা করা আমার কাছে খুব সহজ ও স্বাভাবিক হয়। কিন্তু বয়সে ছোট এবং ঘনিষ্ঠ- এমন কারো সঙ্গে বিবাদ হলে এক ধরণের জটিলতা তৈরি হয়। এই সময়ে আমি এ ধরণের সম্পর্কের অশনিসংকেত হাড়ে হাড়ে টের পাই। তারপরও আমি আত্মবিশ্বাসী হই এবং আশায় থাকি- সমস্যা মিটে যাবে এবং সবকিছু আগের চেয়েও ভালো হবে। ফলে আমার আপন বৃত্তের কারো অভিমান দূর করতে গিয়ে আমি কখনো হতাশ না হয়ে আগের সুসম্পর্কের সুখস্মৃতি ভেবে নিজেকে অনুপ্রাণিত করি।
কিন্তু জটিলতা বাড়ে, যখন ‘বয়সে’ একটু ‘ছোট’ কেউ রাগে বা অভিমানে অনুভূতির প্রতি পুরোপুরি অশ্রদ্ধা দেখিয়ে তার চেয়েও আমাকে ‘মানসিক’ ভাবে ‘ছোট’ ভেবে বসে। আমি তখন বেশ বিব্রত বোধ করি, মর্মাহত এবং সঙ্কুচিত হই।


জীবনে চলার পথে ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় অনাকাক্সিক্ষত কিছু বিষয় ঘটবে, তাই বলে মানুষ হিসেবে অন্য মানুষের প্রতি অশ্রদ্ধা কখনো কাম্য নয়। আর সে যদি হয় কিছুকাল আগেরও বেশ কাছের জন, তাহলে তা আরও বেশি অসহনীয় হয়। তবুও করুণাময়ের ভরসায় আমি বিশ্বাসী হই, যে আপন- সে ফিরবে। যে মানুষ- সে কৃতজ্ঞ হবেই।
খুব কাছের দুয়েকজন আমার সঙ্গে ফেসবুকে সংযুক্ত নয়। এর সুফল হলো, সুখে-অসুখে নিজের আবেগ-অনুভূতি খোলামনে লেখা যায়, কে কী ভাবলো- তা নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকে না। লেখালেখিতে এই স্বাধীনতা বড় অমূল্য ধন ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য