শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

আইনুদ্দীন আল আজাদ: কিছু স্বপ্ন কিছু কথা। শাহ ইফতেখার তারিক (১ম পর্ব)



মানুষ পৃথিবীতে আসে, চলে যায়। কিন্তু কিছু মানুষ আছে যাদের চলে যাওয়াটা হয় ব্যতিক্রম। তাদেরকে মানুষ বিভিন্ন কারনে স্বরণ করে। তার অবদানের কারনে। জগতকে মানুষ যখন কিছু দিয়ে দেয়, তখনই তাকে স্বরণ করে জগত। আইনুদ্দীন আল আজাদ এমন একজন মানুষ ছিলেন। তার অবদান ছিলো সমাজ ও মানুষের প্রতি। যার কারনে সমাজ, সমাজের মানুষ ও আমরা তার অবদানকে স্বরণ করি।

আইনুদ্দীন আল আজাদকে যারা চেনে তাদের থেকে আমার দেখা একটু ভিন্ন ধরনের। এর পেছনে একটা কারন আছে। আমি আইনুদ্দীন আল আজাদকে তিনটা রঙে দেখি। তার ব্যক্তিগত জীবনকে একরকম দেখি। তার সাংস্কৃতিক অঙনে পথচলাকে অন্যরকম মূল্যায়ন করি। তার আরেকটা জীবন আছে রাজনৈতিক জীবন। এই তিনটা দিক নিয়ে আইনুদ্দীন আল আজাদ।

আইনুদ্দীন আল আজাদের বড় অবদান হচ্ছে, তৃণমূল পর্যায়ে এদেশের ইসলামী সংগীত নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তিনি শীর্ষ পর্যায়ের। আমার সাথে তার পরিচয় একজন শিল্পী হিসেবে নয় একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে।

সম্ভবত ১৯৯৭ সালের কথা। আমি একটি ছাত্র সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ার সুবাদে একটি জেলা শাখার প্রোগ্রামে যাওয়ার পরে সেই জেলা শাখার একটি ছেলে হামদ পরিবেশন করে। আমি প্রোগ্রাম নিয়েই ব্যস্ত ছিলাম। কিন্তু তার হামদের চমৎকার কন্ঠ আমাকে মুগ্ধ করে। তখন তার সাথে পরিচিত হলাম। জানলাম তার নাম আইনুদ্দীন। এই নামটা আমি লিখে নিয়ে আসলাম। এই নামটিতে একটি সুপ্ত প্রতিভা রয়েছে। তার বিকাশ দরকার।

ঢাকায় এসে তাকে ঢাকায় কিভাবে স্থায়ী করা যায় সেই চিন্তা করলাম। আমার একটা পত্রিকা ছিলো-সাপ্তাহিক লিখনী। সেখানে তাকে নিয়ে আসলাম। মোটকথা তার ঢাকায় আসা ও স্থায়ী হওয়া পুরোটাই ছিলো আমি এবং তিনি। কারন এরই মধ্যে আমার এবং তার বেশ সখ্য গড়ে উঠেছিলো।


আমি আইনুদ্দীন আল আজাদের ভেতর যে বিষয়টি গভীরভাবে লক্ষ্য করতাম তা হল, তিনি একজন স্বপ্নতাড়িত মানুষ ছিলেন। স্বপ্নকে ভালবাসতেন। স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য যতখানি পরিশ্রম দরকার ততখানি চেষ্টা করতেন। বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করতেন না। এ ক্ষেত্রে আমার উপরে তার অভিযোগ ছিল-আপনাদের কথায় ঢাকায় আসলাম যে স্বপ্ন নিয়ে, সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে যত দ্রুত চলা দরকার তত দ্রুত আপনারা চলছেননা। আমাদের চাইতেও তার স্বপ্নের গতি বেশি ছিলো। এতে বুঝা যায় তার মধ্যে উদ্যমতা, কর্মতৎপরতা, স্বপ্ন বাস্তবায়ন, সুদূর পথচলা- এটা তার মধ্যে ছিল।


এটা তার ব্যক্তিগত জীবন। তখন তার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়ে তার সাথে আমার আলাপ হত। পরবর্তীতে কর্মজীবনে ব্যস্ততার কারনে ঐ সম্পর্কে
কিছুটা ভাটা পড়ল। তার আরেকটা বিষয়-মুনাফিকি প্রবণতা তার মধ্যে ছিলনা। তিনি যেটা বিশ্বাস করতেন, তা বলে ফেলতেন।

একটা ঘটনা। আইনুদ্দীন যে সংগঠনটিতে সম্পৃক্ত ছিলেন সেটি থেকে বের হয়ে আসতে একদিন পদত্যাগপত্র জমা দেন। তার এই কান্ড দেখে আমি আশ্চর্য হলাম। আমি জিজ্ঞাসা করলাম কেন পদত্যাগপত্র জমা দিলেন? তিনি বললেন, আমার মধ্যে যে ঘাটতি আছে, তা নিয়ে আমি পদে থাকাটা উচিত মনে করছিনা। এখানে তার স্পষ্ট অবস্থান প্রকাশ পায়। পদের লোভ তার ভেতর ছিলনা। রাজনৈতিক জীবনে দায়িত্বশীল থাকা সত্ত্বেও তিনি একজন কর্মীর মত কাজ করতেন।

কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল থাকা সত্ত্বেও পোস্টার লাগানোর মতো কাজগুলোও তিনি করতেন। রাজনৈতিক জীবনে তার একটা ক্ষোভ ছিল। যে মাত্রায় তিনি কাজ করতে চাইতেন, সেভাবে কাজ করা যাচ্ছিলনা। তিনি প্রায়ই বলতেন, টাকা-পয়সার জন্যই কি আপনারা আমাদেরকে এভাবে গড়ে তুললেন? এভাবে ডাকলেন? কী করলাম আমরা? আর কি কিছুই করার নেই? এই তাড়না, যাতনা অন্তরে তিনি সবসময় লালন করতেন।

চলবে...।

লেখক, স্বত্বাধিকারী: প্রিন্ট মিডিয়া। প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক: স্বরশৈলী। সম্পাদক ও স্বাপ্নিক: লিখনী।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য