শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

আমার স্বীকৃতি আমার অঙনে। সৈয়দ শামছুল হুদা



ইসলামী ধারার লেখক সংগঠন “জাতীয় লেখক পরিষদ”
এখনো এর আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটেনি। তারপরও প্রস্তুতিমূলক কয়েকটি সভার মাধ্যমে ইতিমধ্যেই সুধী মহলের দৃষ্টি আকর্ষণে যথেষ্ট অগ্রসর হয়েছে এটা বলা যায়। ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর, ফেনী, সাভার, কামরাঙ্গিরচর, মুহাম্মদপুর থেকে শুরু করে বাংলাদেশের শীর্ষ আলেমদের রুহানী বরকত লাভে সক্ষম হয়েছে। আল্লামা আহমদ শফী দা.বা. আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী দা.বা. ও ড. আ ফ ম খালেদ হোসাইন সাহেব দুআ দিয়েছেন। তাদের কাছে এর দাওয়াত ও বার্তা পৌঁছে গেছে। তাঁরা প্রাণখুলে সংগঠনের নাম নিয়ে সফলতার জন্য দুআ দিয়েছেন। আমি মনে করি এটা একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান হওয়ার ক্ষেত্রে প্রথম সফলতা। আমরা যে অঙ্গনের মানুষ সে অঙ্গনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নামটি উঠে এসেছে। আমার স্বীকৃতি আমার অঙ্গনে। আমরা জাফর ইকবাল, শাহরিয়ার কবির, আনিসুল হকদের স্বীকৃতির জন্য পাগলপারা নই।

কীভাবে কাজ করবে এই জাতীয় লেখক পরিষদ?

লেখক পরিষদ তার কাজের সুবিধার্থে তিনটি মূলনীতিকে নির্ধারণ করেছে। এই তিনটি লক্ষ্য অর্জনই তার চূড়ান্ত উদ্দেশ্য। এ তিনটি বিষয়কে আপনি মূলনীতি বলেন, লক্ষ্য বলেন আর উদ্দেশ্যই বলেন সেগুলো হলো :

ক। তরুন লেখকদের পৃষ্ঠপোষকতা দান, তাদেরকে উৎসাহ দেওয়া।

বিভিন্নভাবে এটা হতে পারে। বুনিয়াদী লেখালেখির কর্মশালা আয়োজনের মাধ্যমে। তাদের কর্মগুলোকে স্বীকৃতির মাধ্যমে। তাদের লেখালেখির জগতে আসার পথকে সহজ করে দেওয়ার মাধ্যমে। তাদের জন্য একটি সিলেবাস প্রণয়ণেরও চিন্তা করছে জাতীয় লেখক পরিষদ। লেখক পরিষদ কাউকে লেখক বানিয়ে দিবে না। যাদের মধ্যে লেখালেখির প্রেরণা আছে, উৎসাহ আছে, আগ্রহ আছে, তাদেরকে একটু দিক নির্দেশনা দিবে। এদেরকে একটু টেনে তোলা। এদের যে কোন মেহনত, যে কোন আয়োজনে পরিষদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে পরিষদের অন্যতম কাজ।

খ। লেখকদের কর্মসংস্থান নিয়ে ভাবনা, লেখকদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও লেখক-প্রকাশকদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরী।

একজন লেখকের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা হলো প্রকাশনা। প্রকাশক খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন। প্রতিষ্ঠিত কোন প্রকাশনা নতুন লেখকদের বই প্রকাশ করতে আগ্রহী হয় না। অনেক প্রকাশক চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই বই প্রকাশ করে লাভের মুখ না দেখলে সেটার খেসারত লেখকদেরকে দিতে হয়। লেখকদের সাথে তারা দৃষ্টিকটু আচরণ করেন। ওয়াদা ভঙ্গেরতো কোন শেষই নাই। ভালো প্রকাশকদের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে তোলা। দেশের লেখক সমাজের সাথে প্রকাশকদের আন্তরিকতা তৈরী করা। প্রকাশকদের এটা নিশ্চিত করতে হবে যে, যে কোন প্রকাশক যেন- যেন-তেন প্রকারে বই প্রকাশ না করে। আর বই প্রকাশ করলে সে যেন লেখককে যথাযথ সম্মানী দেয়। তার সম্মানী নিয়ে টালবাহানা না করে। এসব বিষয়ে আওয়াজ তোলা হবে। কথা বলা হবে। সমাধানের যথাসাধ্য চেষ্টা করা হবে। এ ছাড়াও লেখকদের কর্মসংস্থান তৈরীতে মতবিনিময় করা হবে। ইসলামী ধারার লেখকদের কীভাবে- কোথায় কাজে লাগানো যায়, তার জন্য আলোচনা সভা, সেমিনার করা হবে। পরামর্শ দেওয়া হবে।

গ। প্রবীণ লেখকদের সম্মাননা নিশ্চিত করা। তাদের মূল্যায়ন করা।

তরুণ লেখকদের সামনে প্রবীণ লেখকদের মর্যাদা, সম্মান, অধিকার বিষয়ে সচেতনতা তৈরী করা। নবীনরা যেন প্রবীণদের অভিজ্ঞতা থেকে কিছু অর্জনে দূরে সরে না যায় তার পরিবেশ তৈরীতে চেষ্টা চলমান রাখা। আর প্রবীণদের সম্মাননা প্রদানের মাধ্যমে দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়ার আগেই যেন স্বীকৃতি পায় তার একটি সাধ্যমতো মূল্যায়নের চেষ্টা করা। ইতিমধ্যেই যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। নিম্নের ৪টি ক্যাটাগরিতে ৪টি পুরস্কার প্রবর্তন করা যায় কী না তা নিয়ে ভাবনার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

৪টি পুরস্কার হলো :

১। মাওলানা আকরম খাঁ সাংবাদিকতা পুরস্কার।

২। মাওলানা মহিউদ্দীন খান ইসলামী সাহিত্য পুরস্কার।

৩। আল মাহমুদ ছড়া ও কবিতা পুরস্কার ।

৪। আইনুদ্দীন আল আজাদ সঙ্গীত পুরস্কার।


এই চারটি বিষয়ে ৪টি পুরস্কার প্রবর্তন করা যায় কী না তা নিয়ে জাতীয় লেখক পরিষদ ইতিমধ্যেই ভাবতে শুরু করেছে। আত্মপ্রকাশের পর আশা করা যায় এগুলো বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে।

বি আই এম এর একটি প্রোগ্রামে দেশবরেণ্য লেখকদের সাথে একান্ত আলাপের একটি ‍ দৃশ্যে (বাঁয়ে) লেখক। 


প্রশ্ন আসছে একটি সংগঠন থাকতে আরো একটি কেন?

এ প্রশ্নের উত্তরে শুধু এতটুকুই বলবো, ইসলামী ধারার লেখকদের সংখ্যা এখন হাতে গোনা নয়। অনেকেই আছেন নিরবে-নিভৃতে কাজ করছেন। যাদেরকে খুঁজে বের করতে হলে একাধিক সংগঠন প্রয়োজন। আর আমাদের খুবই প্রিয়, ভালোবাসার ঐ সংগঠনের কারো কারো অহমিকা, বড়দের প্রতি এক ধরণের অবজ্ঞা, মতের ভিন্ন হলেই তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য, পাগল-ছাগল আখ্যা দেওয়া ছিল নিত্যদিনের আলোচ্য বিষয়।


জাতীয় লেখক পরিষদের সকল কাজ আঞ্জাম দিচ্ছেন সবার খবর সম্পাদক মাওলানা আবদুল গাফফার। তার আন্তরিক চেষ্টা, রাত-দিনের পরিশ্রমে একটি জায়গায় ইতিমধ্যেই পরিষদকে দাঁড় করাতে সক্ষম হয়েছেন। তার যোগ্যতা নিয়ে, তার অভিজ্ঞতা নিয়ে খুবই আপত্তিকর সব মন্তব্য দেখা যায়। কিছু কষ্টকর স্ট্যাটাস ও মন্তব্যের স্ক্রিনশট আমাদের কাছে আছে। নতুন কিছু হলেই পুরাতন ভেঙ্গে যাবে এমন ধারণা কেন আসে? সবাই যার যার জায়গা থেকে কাজ করে গেলে কোন সমস্যা হওয়ার কথা না। কাজের ক্ষেত্র এখনো অনেক বিস্তৃত। অনেক কাজ আছে করার, অনেক প্রোগ্রাম আছে বাস্তবায়ন করার।


আল্লাহ তায়ালা অনেক সময় দুর্বল লোক দ্বারাও বড় কাজ নেন। সবসময় শুধূ যোগ্যতা দিয়ে সবকিছু হয় না। ইখলাস, আন্তরিকতা, ধারাবাহিক শ্রম, সবাইকে নিয়ে চলার মানসিকতা, যার যার যোগ্যতা ও মর্যাদা অনুসারে সম্মান দিতে পারার মাধ্যমে বড় বড় কাজও সম্পাদন করা যায়।


উপরে যা কিছু বলা হয়েছে তার সবকিছু এভাবে হবে এমনও নয়। পরিষদ পরামর্শ করে যে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এর বাইরেও অনেক কাজ আছে যেগুলো বাস্তবায়ন করতে পারে। অনেক বড় বড় ব্যক্তিগণ এর সাথে দিন দিন সম্পৃক্ত হচ্ছেন, তারাও পরামর্শ দিচ্ছেন। তাদের পরামর্শেই সংগঠনটি এগিয়ে যাচ্ছে। আশাকরছি আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশের পর তার সবকিছুই সবার সামনে আরো বেশি আকারে পরিস্কার হবে।


আল্লাহ তায়ালার কাছে বিনীত প্রার্থনা, তিনি যেন এই মেহনতকে কবুল করেন। জাতীয় লেখক পরিষদকে জাতির আশা-আকাঙ্খা বাস্তবায়নে তৌফিক দেন। এর সাথে যারা জড়িত, সকলকে আন্তরিকতার সাথে, সকল প্রকার হীনমণ্যতা এড়িয়ে এগিয়ে যাওয়ার তৌফিক দান করেন।


লেখক: সম্পাদক-নুরবিডি ডটকম।

19.09.2019




একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য