শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

জুমুআর দিনের ফযিলত : মুহাম্মদ বিন ওয়াহিদ



আল্লাহ তাআলার কাছে সব'চে পছন্দের আমল হল নামাজ। আর দিনসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দিন হল জুমুআর দিন। কারণ, এই দিনে আল্লাহ তাআলা তাঁর শ্রেষ্ঠ জীব মানুষকে সব'চে বেশি নেয়ামত দান করেছেন।


এই দিনে হযরত আদম আ.কে সৃষ্টি করা হয়েছে। এই দিনে তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এই দিনেই তাঁকে জান্নাত থেকে বের করা হয়েছে।
এই দিনে পৃথিবীটাকে বানানো হয়েছে এবং এই দিনেই কেয়ামত কায়েম হবে। শুধু তা-ই নয়, এই দিনটিকে আরও বেশি মহিমান্বিত করার জন্য মহান আল্লাহ তাআলা দান করেছেন জুমুআর নামাজ।

হাদীস:
হযরত আবূ হুরাইরা রাযি. থেকে বর্ণিত, হুযূর সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, জুমু‘আর দিন এলে মসজিদের প্রত্যেক দরজায় ফেশেতাগণ বসে যান। তাঁরা একের পর এক আগমনকারীর লিখতে থাকেন। যখন ইমাম (মিম্বরে) বসে পড়েন তখন তাঁরা নথিপত্র গুটিয়ে আলোচনা শোনার জন্য চলে আসেন। মসজিদে সর্বপ্রথম আগমনকারী ব্যক্তি উট দানকারীর সমান, তারপর আগমনকারী ব্যক্তি গরু দানকারীর সমান, তার পরের জন মেষ দানকারীর সমান, এর পরের জন মুরগী দানকারীর সমান এবং তারও পরে আগমনকারী ব্যক্তি ডিম দানকারীর সমান (সওয়াব লাভ করেন)।

জুমুআর নামাজে যাওয়ার আগে গোসল করে যেতে হবে।

হাদিস:
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাযি. থেকে বর্ণিত, হুযূর সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি জুমু‘আর নামাযে যায় সে যেন (যাওয়ার আগে) গোসল করে নেয়।

হাদীস:
হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাযি. বর্ণনা করেন, হুযূর সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, জুমু‘আর দিন যেন প্রত্যেক পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তি গোসল করে, মিসওয়াক করে এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সুগন্ধি ব্যবহার করে।

জুমু‘আর দিনে ছয়টি আমলের বিশেষ ফযীলত

হাদীস: হযরত আউস ইবনে আউস রাযি. থেকে বর্ণিত, হুযূর সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমু‘আর নামাযের জন্য ভালোভাবে গোসল করবে, ওয়াক্ত হওয়ার সাথে সাথে (আযানের অপেক্ষা না করে) মসজিদে চলে যাবে, পায়ে হেঁটে যাবে, বাহনে আরোহণ না করবে, ইমামের কাছাকাছি বসবে, মনোযোগ দিয়ে খুতবা শুনবে, (খুতবা চলাকালীন) কোন কথা না বলবে বা অহেতুক কোনো কাজ না করবে , সে জুমু‘আর নামাযে (আসা-যাওয়ার) পথে প্রতি কদমে এক বছরের নফল রোযা ও এক বছরের নফল নামাযের সওয়াব পাবে।

জুমু‘আর নামাযে গুনাহ মাফ হয়

হাদীস: হযরত আবূ হুরাইরা রাযি. থেকে বর্ণিত, হুযূর সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি গোসল করে জুমু‘আর নামাযে এলো, তাউফীক অনুযায়ী নামায আদায় করলো, ইমামের খুতবা শেষ হওয়া পর্যন্ত চুপ থাকলো, এরপর ইমাম সাহেবের সাথে জুমু‘আর নামায আদায় করলো, তার দুই জুমু‘আর মধ্যবর্তী দিনগুলো এবং অতিরিক্ত আরও তিন দিনের গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়।

হাদীস: হযরত আবূ হুরাইরা রাযি. থেকে বর্ণিত, হুযূর সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামায, এক জুমু‘আ থেকে আরেক জুমু‘আ এবং এক রমযান থেকে অন্য রমযানের মধ্যকার সমস্ত গুনাহের জন্য কাফ্ফারা হয়ে যাবে, যদি কবীরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা হয়।

হাদীস: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. ও হযরত আবূ হুরাইরা রাযি. থেকে বর্ণিত, তাঁরা হুযূর সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তাঁর মিম্বরের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছেন, মানুষ যেন জুমু‘আর নামায ছেড়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকে। নয়তো আল্লাহ তাআলা তাদের অন্তরে মোহর এঁটে দেবেন, এরপর তারা গাফেলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।

এছাড়াও জুমুআর দিন বেশি বেশি দুরুদ শরীফ পড়া। সুরা কাহাফ তিলাওয়াত করা। দুই খুতবার মাঝখানে হাত ওঠানো ছাড়া মনে মনে দুআ করা এবং জুমআর দিন সুর্যাস্তের সময় দুআ করলে আল্লাহ তাআলা সেই দুআ কবুল করে থাকেন।

লেখক: সম্পাদক-মাসিক ঈশান

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য