শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

মিডিয়া দ্বারা প্রভাবিত আমাদের জীবন। সৈয়দ শামছুল হুদা



প্রচারণা একটি শক্তিশালী বিষয়। এর দ্বারা অনেক মানুষই বিভ্রান্ত হয়ে যায়। খুব কৌশলে মানুষের দৃষ্টিকে এক ঘটনা থেকে অন্য ঘটনার দিকে মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া যায়। বিশেষ করে বাঙ্গালীর তো সুনাম আছেই। হুজুগে বাঙ্গালী। আমরা এই ক্ষেত্রে সবসময়ই শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখেছি।

আমরা শত্রু-মিত্র’র সংজ্ঞা বুঝি না। যে কাজ করছে, যে সামনে আছে, যে এগিয়ে যাচ্ছে তার পেছনে একেবারে নিষ্ঠার সাথে আমাদের বাঁশদান কর্মসূচী চালাতেই হবে। সে কেন এগিয়ে যাচ্ছে? তাকে কে এগিয়ে যেতে বলেছে? তার কি এগিয়ে যাওয়া উচিত? সে এইভাবে কেন এগিয়ে যাচ্ছে? সে এগিয়ে যাক, কিন্তু অমুককে কেন সাথে নিল? অমুকের কী যোগ্যতা আছে? এসব প্রশ্ন দ্বারা আমরা খুব প্রভাবিত হই।

আমার কোন প্রকার সম্পৃক্ততা নেই বা এর সাথে আমার কোন প্রয়োজনীয়তা নেই, বা এই বিষয়ে আমার কোন জানা-শোনা নেই। তারপরও আমাকে এ নিয়ে কথা বলতে হবে। এটা যেন আমাদের একটি মজ্জাগত অভ্যাস। এক্ষেত্রে প্রচারণা খুব ভালো কাজ করে। কোন কথা বা কোন কাজ যদি আমার মতের সাথে না মিলে, তাহলেই হলো, কোন প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও আমি এ বিষয়ে একটি মন্তব্য করবোই। আসলে এর পেছনে কাজ করে প্রচারণা।

ইসলামী বিশ্বের বাইরের মানুষগুলো জীবনকে উপভোগ করার জন্য তারা যে নীতিমালা মেনে চলে, যে আদর্শ-চরিত্র অনুসরণ করে আমরা এর অনেক কিছুই করি না। উপরুন্তু ইসলাম যে আদর্শ গ্রহন করতে বলেছে সে গুলোও মেনে চলি না। পবিত্র কুরআনের সুরা হুজরাতে এ বিষয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা রয়েছে। অন্যের ব্যাপারে নাক না গলানো, অমুলক ধারণাবশত: মন্তব্যকরণ ইত্যাদি আমাদের নিত্যদিনের সহচর। এজন্য আমরা জাগতিকভাবে যেমন উন্নতি করতে পারছি না, আর আখেরাততো শেষ করেই দিচ্ছি।

রোহিঙ্গা বিষয়ে আমরা মিডিয়া দ্বারা খুব বেশি প্রভাবিত হয়েছি। আল্লামা আহমদ শফী দা.বা. এর একটি মন্তব্য নিয়ে আমরা খুব বিরক্ত হয়েছি। এসব বিষয়ে এমন সব মন্তব্য করেছি যেটা আমার মানায় না। কাকে নিয়ে আমার কোন মন্তব্যটা আত্মঘাতি হচ্ছে, কোনটা আমার পক্ষে যাচ্ছে, কোনটা বিপক্ষে যাচ্ছে তার গভীরে যাই না।

আমাদেরকে সবসময় খেয়াল রাখতে হবে বৃহত্তম মুসলিম উম্মাহর স্বার্থের কথা। মনে রাখতে হবে এই ক্ষেত্রে মিডিয়া আমার সবসময় প্রতিপক্ষ। কখনো কখনো তারা ভালো কথা বলে। কিন্তু তাদের মূল মিশনের অন্যতম লক্ষ্য হলো মুসলমানদের দুর্বল করা, বিভাজিত করা, পরস্পরে বিভেদ তৈরী করে রাখা। মিডিয়া আমাদেরকে কখনো সরকারের সমালোচনার ফাঁদে ফেলে দেয়। কখনো শীর্ষ আলেমদের সমালোচনার ফাঁদে ফেলে দেয়। মূলত: এরা আমাদের বন্ধু নয়। একজন আলেমই আমার বন্ধু। আখেরে একজন আল্লামা আহমদ শফীই আমার পরম আস্থার জায়গা। মানুষ হিসেবে ভুল হতেই পারে। তাদের একটু ভুলের জন্য তাদের সব অর্জন ধুলোয় মিশে যেতে পারে না।

মিডিয়া আমাদের মেজাজকে এমনভাবে তৈরী করেছে, যে কারণে শেখ হাসিনার বিরোধিতা করলে চরমভাবে করি, আবার প্রশংসা করলেও সীমা লঙ্ঘন করি। আল্লামা আহমদ শফি দা.বা. এর প্রশংসা করতে গেলে সীমা হারিয়ে ফেলি। আবার সামান্য ভুলের জন্য একেবারে তুলোধুনো করে ফেলি। ডা. জাকির নায়েক নিয়েও আমাদের মাঝে মিডিয়ার কারণে আজ চরম বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর ভক্ত হলে একেবারে অন্ধভক্ত সেজে যাই, আবার বিপক্ষে গেলে তখন তাল হারিয়ে ফেলি।

ভারতীয় উপমহাদেশে হিন্দুধর্মের একটি পরোক্ষ প্রভাব সব ধর্মেই পড়েছে মনে হয়। বড় কিছু দেখলেই মাথাটা বিকিয়ে দিই। এক্ষেত্রে মাজার-মন্দির, পীর-পুরোহিত, শিন্নি আর প্রসাদে কোন পার্থক্য রাখি না। এ মাটির যেন বৈশিষ্ট্যই হয়ে গেছে এটা। এদেশের বড় আলেমরা স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারেন না ভক্তদের সীমাহীন তোষামোদির কারণে। তিনিও একজন মানুষ এটা যেন ভুলেই যাই। মিডিয়া আমাদের সামনে তাদেরকে দেবতার আসনে বসিয়ে দেয়। আবার মিডিয়ায় তাদেরকে আমাদের সামনে প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে ধুলোই মিশিয়ে দেয়। ভারতীয় মিডিয়া এর বড় প্রমাণ। ওরা তালকে তিল বানায়। তিলকে তাল বানায়। আর আমরা সাধারণ পাবলিক স্বাভাবিক বিবেক প্রয়োগের শক্তি হারিয়ে ফেলি।

আসুন, সতর্ক হই। কেউ যেমন সমালোচনার উর্ধ্বে নয়, তেমনি যা - তা বলার অধিকারও আমার নেই। আল্লাহ প্রদত্ত বিবেককে কুরআন ও হাদীসের আলোকে আলোকিত করে ভারসাম্যপূর্ণ জীবন ধারণে চেষ্টা করি।

লেখক: সম্পাদক-নুরবিডি

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য