শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

ধর্ম সংস্কৃতি ও স্বকীয়তার ভিত্তির ওপর ধার্মিক মনীষিদের টাকায় প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়েই ধর্মীয় সংগঠন নিষিদ্ধের আবদার অসুস্থ মননের প্রলাপ ছাড়া আর কিছু নয়। মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী


ভিসি সাহেব ডাকসুর কর্ণধার। তিনি ধর্মভিত্তিক সংগঠন চলতে দিবেন না। ধর্মে বিশ্বাসী ও ধর্মীয় আচরণে অভ্যস্ত শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্র অনুমোদিত একটি সংগঠন করলেও কি তার নাম তথাকথিত সাম্প্রদায়িক সংগঠন বলে বিবেচিত হবে?

যুক্তি যাই হোক। তিনি এসব বলতেই পারেন, কারণ পৃথিবীর গোণায় ধরার মতো ১০০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায়ও তার বিশ্ববিদ্যালয়ের নামটি নেই। অযাচিত মন্তব্য নয়, তার বরং প্রতিষ্ঠানটির মান কিছুটা উন্নত করার চেষ্টায় লেগে থাকা উচিত। নির্মোহ ইতিহাস ঢাবির দুটি নাম তার পাতায় রেকর্ড করে রেখেছে, 'প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ' আর 'মক্কা বিশ্ববিদ্যালয় '। ইতি বা নেতি যাই হোক, ঢাবিকে এ দুটো অভিধার সমন্বিত রূপে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সামান্য হলেও মনযোগী হওয়া উচিত।

তবুও বলে রাখা ভালো, পাগলামি করে আর যাই হোক শিক্ষার্থীদের মধ্যকার ধর্মীয় চেতনা রোধ করা যাবে না ইনশাআল্লাহ। বহুদিন ধরে মাদরাসা থেকে আসা শিক্ষার্থীদের আটকানোর নানা পাঁয়তারা ঢাবি'তে চলেছে, কষ্ট সাধনা করে তারা বহুদূর এগিয়ে যাওয়ায় বলা হয়েছে, এভাবে চলতে থাকলে তো ঢাবি একসময় মাদরাসা হয়ে যাবে।

ভিসি সাহেব তো ইতিহাস ও সংস্কৃতির ছাত্র। তার তো এমনিতেই জানা থাকার কথা যে, মাদরাসা থেকেই আধুনিক বিশ্বের শিক্ষার সূচনা। বাংলাদেশের সাধারণ শিক্ষা মাদরাসা থেকে এসেছে। স্কুল কলেজও মাদরাসার কারিকুলাম জায়গা ও ভবন থেকেই যাত্রা শুরু করে। পূর্ব বঙ্গের মানুষের সামগ্রিক কল্যাণের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা।

ঢাবি প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নে ঢাকার নবাব স্যার সলিমুল্লাহর জমি, টাঙ্গাইলের জমিদার নবাব নওয়াব আলী চৌধুরীর টাকায় তৈরি প্রথম বিল্ডিং এর পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রখ্যাত পীর মাশায়েখ,জমিদার,নবাবসহ কিশোরগঞ্জের বিশিষ্ট সংস্কারক শায়খুল মাশায়েখ আল্লামা ইবারাত খান সাহেবের (আমার প্রপিতামহ) দেওয়া মোটা অংকের দানও নথিপত্র ঘাটলে পাওয়া যাবে। আমার পূর্ব পুরুষের বহু মেনেস্ক্রিপ্ট হাকীম ইরতিজাউর রহমান খান আখুনজাদার মাধ্যমে ঢাবির সংগ্রহশালায় দেওয়া হয়েছে। ঢাবি তো আসলে মাদরাসা থেকেই এসেছে। ধর্মীয় জীবনের অমূল্য চেতনা থেকে এর জন্ম। এখানে ইসলামের বিষয়ে এতো এলার্জি থাকতে পারবে না।

ইসলামের আদর্শে বিশ্বাসী শান্তিপ্রিয় চরিত্রবান দুর্নীতি লুটপাট ও পাপাচারমুক্ত সংগঠনগুলোর জনপ্রিয়তা ও প্রভাব দিনদিন বাড়ছে বলেই হয়তো কারো ইশারায় তিনি এসব বলে থাকবেন।

তবে একটা কথা বলে রাখা ভালো যে, ঢাবি'র উদারতার মধ্যে যদি ইসলামের স্থান না থাকে তাহলে এর জায়গা কীভাবে করে নেওয়া যায়, সেটি ইসলামে বিশ্বাসী, দেশ ও ধর্মপ্রিয় জনগণকেই ভাবতে হবে।

লেখক: সহকারী সম্পাদক-ইনকিলাব

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য