শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

নাটকে ইসলাম অবমাননা ইস্যুুতে শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে সিলেটে বৈঠক অনুষ্ঠিত


এবিএম আমীর উদ্দিন: বাহুবল প্রতিনিধ-তামাদ্দুন

সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় নির্মিত কতিপয় নাটকে ধর্মীয় পোশাককে আপত্তিকর ভাবে উপস্থাপন করা ও আধ্যাত্মিক রাজধানী সিলেটের সংস্কৃতি বিরোধী আচরণের অভিযোগে সম্প্রতি অনলাইনে সৃষ্ট উদ্ভুত  পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নগরীর হাওয়াপাড়াস্থ একটি টাওয়ারে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সাবেক সংসদ সদস্য কলিম উদ্দীন আহমদ মিলনের সভাপতিত্বে এবং সিলেট- ৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা দিলাওয়ার হোসাইনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সিলেটের তরুণ আলেম সমাজের প্রতিনিধি দল ও অভিযুক্ত নাট্যকর্মীরা নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

আলেম প্রতিনিধি দলের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা মুখলিসুর রহমান, মাওলানা আব্দুল মালিক চৌধুরী, মাওলানা ইমদাদুল হক নোমানী, মাওলানা নিয়াজুর রহমান নিজাম, মাওলানা রুহুল আমীন নগরী, মাওলানা ইনাম বিন সিদ্দিক, মাওলানা বেলাল আহমদ চৌধুরী, মাওলানা আব্দুল মুক্তাদির লায়েক, হাফিজ মনসুর বিন সালেহ প্রমুখ।

নাট্যকর্মীদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন, কামাল উদ্দীন রাসেল,শাহাদাত হোসেন লোলন, শাহেদ মুশাররফ (কটাই), রাসেল হামিদ (কার্টুস), আকরাম প্রমুখ।

র্দীঘ প্রায় দুই ঘন্টা ব্যাপী বৈঠকে নাট্যকর্মীরা বলেন, আমরা সবাই মুসলমান। আমরাও ধর্ম-কর্ম পালন করি। কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। তবে সিলেটের আঞ্চলিক ভাষা-সংস্কৃতিকে নাটকের মাধ্যমে উপস্থাপন করার ক্ষেত্রে আমরা টুপি-দাড়ি ইত্যাদি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আগামীতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করবো। অতীতের কোন কাজে যদি আমাদের ভুল হয়ে থাকে (যা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে) সেটা সংশোধন এবং ভবিষ্যতে আপত্তিকর কোন কাজ না করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

তরুণ আলেম ও নাট্যকর্মীদের মধ্যকার সকল প্রকার ভুল বুঝাবুঝির অবসানকল্পে নিজ নিজ ফেসবুক আইডি থেকে প্রতিহিংসামুলক, আক্রমনাত্মক স্ট্যাটাস মুছে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়। অনলাইনে থাকা (নাটকে) আপত্তিকর কথাবার্তা সংশোধনীর জন্য উভয় পক্ষের ৩ জন করে প্রতিনিধি নির্ধারণ করা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে কলিম উদ্দীন আহমদ মিলন বলেন, সিলেট হলো সারা দেশের তুলনায় শান্তির নগরী। হযরত শাহ জালাল (র) সহ অসংখ্য পীর আউলিয়ার এই জনপদে আমরা কেউই ধমীর্য় বিদ্বেষ চাইনা। নাট্যকর্মীদের ভুল হতেই পারে। তাদের ভুল ধরিয়ে দেয়ার দায়িত্ব আলেম সমাজের। নাট্যকর্মীরা আমাদেরই ভাই,তারা ইচ্ছে করে কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারেননা। অনিচ্ছা সত্বেও যদি হয়ে থাকে সেটা ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান তিনি।
বৈঠকে সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ আর সিলেটী সংস্কৃতির পূণরুদ্ধারে উপস্থিত সকলেই সহমত পোষণ করেন।

উল্লেখ্যযে, নাট্যকার কটাই, কার্টুস এর কতিপয় নাকটে ইসলাম বিদ্বেষী আচরণের অভিযোগ আনেন ইকবাল হাসান জাহিদসহ সিলেটের তরুণ আলেম সমাজ। তারা ফেসবুকে এ নিয়ে আলোচনা করায় সিলেটের ধর্মপ্রাণ মুসল্লীদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। পরে আলেমগন কয়েক দফা বৈঠক করেন।

অপর দিকে নাট্যকর্মীদের পক্ষেও বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সিলেটের শান্ত পরিবেশ কিছুটা অশান্ত-উত্তেজনাকর পরিবেশের দিকেই যাচ্ছিল। এই অবস্থায় মাওলানা দিলাওয়ার হোসাইনের মধ্যস্থতায় উভয়পক্ষের মধ্যে এই সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সবশেষে মোনাজাতের মাধ্যমে বৈঠকের শান্তিপূর্ণ সমাপ্তি হয়।

উপস্থিতি অতিথীদের একাংশ 



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য