শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

ইলমে হাদীসের এক জীবন্ত কিংবদন্তি শায়খুল হাদীস আল্লামা মনির উদ্দিন হাফিজাল্লাহু । এ বি এম আমির উদ্দীন



তিনি কেবল একজন ব্যক্তি নন, একটি ইতিহাস। আমাদের মাথার উপর এক বিশাল ছায়াবৃক্ষ। একদিকে হাদীস কিংবদন্তি , অপরদিকে রঈসুল মুফাসসির। একদিকে এলেম-আমলের নকীব, অপরদিকে সুলুক ও মা'রিফতের শায়েখ।

এমন সাদাসিদা নিভৃতচারী বুজুর্গ আলেম এ জামানাতে বিরল। ভেতরে বাহিরে এক। সাদামাটা চলাফেরা। কোনরূপ শান-শওকত বা দুনিয়ার প্রতি আশক্তি নেই। সাথে কখনো রাখেননা খাদেম-খুদ্দাম। বাজার- হাট, কাপড়-চুপড় নিজের সব কাজ নিজেই করেন। এতবড় একজন বিদগ্ধ হাদীস বিশারদ, কিন্তু কোন প্রকার আত্মঅহংকার নেই।

এতবড় মাপের আলেম, আর শায়খের কাছে যে কোন সাধারন মানুষ কত সহজে মিশতে পারে, এটা দেখলে অবাক হতে হয়। কত সহজে দ্বীন সম্পর্কে জেনে নিতে পারে। আমি এমনও দেখেছি বাজার করার সময়, মাছ বাজারে দাঁড় করিয়েও অনেক পাবলিক একটি মাসআলা জেনে নেয় স্বাচ্ছন্দ্যে। এতে সত্যকারের এই ওয়ারাসাতুল আম্বিয়া ও উম্মাহ দরদী আলেমের ভেতর কোনরূপ অসন্তুষ্টি বা বিরক্তবোধ নেই।

একটি মুহুর্তের জন্য হুজুর কোন গল্প গুজবে কাটাননা। কারো সমালোচনা বা গিবত করতে কেউ দেখেনি। সারাক্ষন কিতাব মুতাআলাই যেন হযরতের জীবনের অবিচ্ছেদ্দ্য অংশ। এতো আমলের পাবন্দ আর তাকওয়াবান মানুষ এই যুগে খোঁজে পাওয়া দুস্কর। হুজুরকে মাহফিলে দাওয়াত দিলে পায়ে হেটেই চলে যান,মাইলের পর মাইল। দুর হলে লোকাল বাসে। ওয়াজ করে আসার সময় গোপনে চলে আসেন, হাদীয়ার ভয়ে।

কুতবে বাঙ্গাল হযরত মাওলানা আমিন উদ্দীন শায়খে কাতিয়া রহ এর প্রতি রমজানে বড়বড় আলেম নিয়ে হযরতের দরসে বোখারিতে বসতেন আর বলতেন, আমি যেন শায়খুল ইসলাম মাদানীর দরসে বসি। মুনির উদ্দীন সাবের দরসে আমি মাদানীর দরস ও তাদরিসের খুশবো পাই।

দীর্ঘ চল্লিশ বছর যাবৎ দেশের প্রাচীনতম (১৯০৫) দ্বীনী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামেয়া কাসিমূল উলুম বাহুবলের" শায়খুল হাদীস তিনি। তাকমিল পর্যন্ত হুজুরের কাছে বুখারী শরীফ কিতাব পড়ার সুযোগ হয়েছে।

আমাদের আকাবির আসলাফের জীবন্ত নমুনা তিনি। বয়স ৮০ ছুঁই ছুঁই। কিন্তু এখনো তিনি ক্লান্তিহীন ক্বালা ক্বালা হাদ্দাসানা... বলে হাদীসের মসনদে তাকরির দেন ঘন্টার পর ঘন্টা। এলেমের এক বিশাল মহিরুহ তিনি। সারাক্ষন অযু অবস্থায় থাকেন। পীর মুরিদীর কোন খানকা নেই। একাধিক বুর্যুগ হযরতকে তাসাউফের খেলাফতি দান করেছেন। কেউ জোড় করে ধরে আব্দার করলে কেবল বাইয়াত করান।

সাহাবা চরিত্রের এক জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত তিনি। এলেম-আমল আর সাহসের এক অনন্য উদাহরন। দুনিয়াবিমূখ এক দরদী রাহবার। এক মহান নিভৃতচারী আল্লাহর ওলী।

আল্লাহ যেন আমাদের মাথার উপর হযরতের ছায়াকে দীর্ঘ করুন।আমিন।

লেখক: বাহুবল প্রতিনিধি। তামাদ্দুন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য