শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

সম্মানিত আলেমদের নিকট প্রত্যাশা: মুফতী মনোয়ার হোসেন


আবহমান কাল ধরে এ দেশে আলেমগণ দ্বীন প্রচারের সব পথে গণমানুষের নিকট ইসলামকে তুলে ধরে আসছিলেন। মক্তব, মাদরাসা, দাওয়াতে তাবলীগ, জুমাআর খুৎবা, দরসে হাদীস, তাফসীরুল কুরআন, ওয়াজ মাহফিলসহ অনেক মাধ্যমেই এই খেদমতের আঞ্জাম দেয়া হচ্ছিল। বিশেষ করে সকালের মক্তবে উস্তাদ হিসেবে আমরা এমন হুজুরদের পেয়েছি যারা সংসার মাসের পর মাস গ্রামের ভাঙা মসজিদগুলোতে অবস্থান করে ছোট বাচ্চাদের কুরআন শেখাতো। আমাদের দ্বীনের সাথে পরিচয় সেই সকল সংগ্রামি,ত্যাগী মুন্সি সাবদের নিকট থেকেই।

মানুষ হুজুরদের নিকট থেকে কথা শোনবার জন্য দাওয়াত দিত। ওয়াজ মাহফিল আয়োজন করতো। গ্রামের মানুষেরা রাত জেগে চোখের পানিতে সিক্ত হয়ে ওয়াজ শুনতো। এখনো আছে তবে এর ধারা ও পদ্ধতি পরিবর্তন হয়েছে। মানুষ স্বচ্ছলতা অর্জন করেছে তাই ওয়াজ মাহফিলগুলোতে অনেক অর্থ খরচ হচ্ছে, জাকজমক করে আয়োজন করতে যেয়ে সে ওয়াজমাহফিলগুলো অজান্তেই একসময় বিনোদনের কেন্দ্রতে পরিণত হযে যাচ্ছে। সম্মানিত বক্তাগণকে হাদিয়া বা সম্মানিতে মোটা অংকের টাকা গুজে দিতে থাকেন। আর যেহেতু উলামাগণও মানুষ তাই তাদের অনেকেই টাকার আসক্তিতে পরে যেতে থাকেন।

আড়ম্বরপূর্ণ ওয়াজ মাহফিলগুলোতে গণ্য-মান্য ব্যক্তিদের আগমণ ঘটতে থাকে। পাড়ায় পাড়ায় প্রতিযোগিতা হতে থাকে, কার চেয়ে কে বেশি শানদার ওয়াজমাহফিল আয়োজন করতে পারে। এই অসুস্থ প্রতিযোগিতায় মাহফিলের প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয় ‘বক্তা’। সেই বক্তাদেরই চড়া মূল্য হতে থাকে যিনি পরিবেশকে খাপ খাইয়ে মোডিফাইড ইসলাম বলতে থাকেন, সুরের লহরিতে মানুষকে মাতাল বানাতে পারঙ্গম হন। আর আহলে ইলম, আত্মসম্মান সম্পন্ন, মর্যাদাবান আলেমগণ স্বসম্মানে দূরে যেতে থাকেন।

অবিশ্বাস্যভাবে এই অসুস্থ প্রতিযোগিতা ইসলামের মৌলিক হুকুমকে লঙ্ঘন করে যখন মূলে কুঠারাঘাত করতে লাগলো, ইসলামের কিছুই জানেন না শুধু সুরের মাধ্যমে বিনোদন আর্টিস্টরা মানুষকে আনন্দ দিতে লাগলো তখন দায়ীত্বশীল আলেমগণ সচেতন হলেন। কর্তব্য খুৃুঁজতে থাকলেন।

এর আগেই সমাজের শিক্ষিত মানুষ স্টেজ বক্তাদের দেখে তাদের ঘৃণা প্রকাশ করতে থাকলেন। এর ছ্যাবলামির দায়ভার দিতে লাগলেন ভালো আলেমদের এমনকি ইসামকেই লক্ষ্য বস্তুতে পরিণত করলেন একশ্রেণীর ইসলাম বিদ্বেষীরা।

আলহামদুলিল্লাহ! এমনই ক্রান্তিকালে ইসলামপ্রিয় মানুষ যখন বিব্রতবোধ করছিলেন তখন আশান্বিত হবার মত উদ্যোগ নিয়ে, খেদমত নিয় উপস্থিত হয়েছেন তারুন্যের আশার বাতিঘর, যুগের তরুন-প্রবীণ আলেমগণ।

সে প্রয়োজনকে সামনে রেখে ২৮শে সেপ্টেম্বর‘১৯ শনিবার রাজধানীর বিএমএ মিলনায়তনে (প্রেসক্লাবের বিপরীতে) 'ওয়ায়েজ,খতীব ও দায়ীদের করণীয়' শীর্ষক এক কর্মশালা আয়োজন করেছিলেন। এতে দেশের পরিচিত শীর্ষস্থানীয় প্রায় সকল আলেমে দ্বীন, বক্তা,দায়ী উপস্থিত ছিলেন।
.
সময়ের সাহসী কণ্ঠস্বর শাইখুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হকের সার্বিক তত্বাবধানে আলেমদের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসকে মানুষ আশার চোখে দেখছেন। কর্মশালা শেষে মুহতারাম হাসান জামিল সাবকে সেক্রেটারি জেনারেল করে রাবেতায়ে ওয়ায়েজিনে বাংলাদেশ নামে যে সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে ইনশাআল্লাহ আগামি দিনে ওয়াজের স্টেজগুলো তারা মনিটরিং করবেন বলে আশা করা যায়।

উম্মাহ যখন স্টেজ ওয়াজ দেখে পুরো হতাশ ও লজ্জিত হচ্ছিল ঠিক তখনই সময়ের সেরা সিদ্ধান্ত ও কর্মসূচি আপনার গ্রহণ করেছেন। উপমহাদেশের সকল প্রতিকূল পরিবেশে আপনাদের আকাবিরগণ যেমন সিদ্ধান্ত নিতেন আপনারা তার অনুকরন করে সে সিদ্ধান্ত ও কর্মসূচি নিয়েছেন তা দেখে আমরা খুবই আশাবাদি। আরো বৃহত্তর পরিবেশে দ্বীনের খেদমত করবেন সে আশাও করছি। এ আয়োজনে তাহেরির মত বক্তাদেরও অন্তর্ভুক্ত করা যায় কি না সেটাও চিন্তা করার আহ্বান জানাচ্ছি।

আর মাহফিল আয়োজকদের অনুরোধ করবো দয়া করে বক্তা নির্বাচনের ক্ষেত্রে আপনারা এই প্লাটফর্মের আলেমদের নির্দেশনাকে স্মরণ রেখে বক্তা নির্বাচন করবেন। আল্লাহ তাআলা এ অঞ্চলের পরিবর্তনের জন্য আলেমদের ভুমিকাকে কবুল করুন। আমীন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য