শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

শৈশবের স্মৃতিচারণ: আয়েশা জান্নাত


অনেক বছর পেরিয়ে গেছে। তখনো পর্দার বয়স হয়নি আমার আর কলির। তারপরও পর্দা করতাম। ভালো লাগতো পর্দা করতে। বড় আপু বোরকা পরে তাই আমরাও বোরকা পরার বায়না করতাম। মা শেষমেশ পুরোনো বোরকার কাপড় কেঁটে ছোট ছোট বোরকা বানিয়ে দিয়েছিলো আমাদের দুজনকে। মানুষে হাসাহাসি করতো আমাদের দেখে, সেটাও বোঝার মত বয়স ছিলোনা তখন। মহানন্দে পর্দা করতাম, বড় আপুর চেয়ে বেশী পর্দা করি আমরা! এমন একটা ভাব ছিলো আমাদের।

তখন ছিলো রমজান মাস। সেহরি শেষে তেলাওয়াত করতাম, ফজরের নামাজ পড়ে আবার তেলাওয়াত করতাম। কোনোরকমে আবছা আলো বের হবে হবে প্রভাত হতেই রাস্তায় হাঁটতে বের হতাম আমরা। একটা মায়া জড়ানো আবেশ পেতাম! সারা গ্রাম ঘুমন্ত! মাঝেমধ্যে কুকুর ডেকে উঠতেই দিতাম দৌড়! আলো ফোটবার আগেই ঘরে ফিরে আসতাম আবার। তখন বাড়ির পাশে হিন্দুদের দুর্গাপূজার উৎসব চলছিলো, সারা রাতে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে শেষরাত্রে ওরাও নীরব হয়েছিলো, আমরা তিনবোন সেহরি শেষে ওদের পূজামণ্ডপ দেখতে যাওয়ার প্লান করলাম। ভীষণ ভয় পাচ্ছিলাম আমি। ছোটবেলা সবচেয়ে বোকা আর ভিতু মেয়েটা আমিই ছিলাম। পিছনে পিছনে যাচ্ছিলাম ওদের সাথে, কিন্তু দৌড়ের প্রস্তুতি নিয়ে রাখছিলাম আগেই। আবছা অন্ধকারে একটা লোক এসে বলে উঠলো "কারা রে?" বড় আপু ঝাপ দিলো পাশের এক শুকনা পুকুরে, কলি সেখানেই মাথা গুজে বসে পড়লো! আমি দিলাম দৌড়! বড় আপু সারাজীবনই বেগানা পুরুষের সামনে ভুলক্রমে পড়ে গেলে কাঁটায় ঝাপ দেয় নাকি পুকুরে লাফ দেয় হুশ থাকেনা! আর কলি বরাবরই যেখানে ছিলো সেখানেই বসে পড়ে মাথা গুঁজে, ভাবখানা এমন! ও না দেখলে ওকেও কেউ দেখবেনা।

খুব মনে পড়ছে আজ বোনগুলোকে। চাইলেই হয়ত দেখা হয় একসাথে এখনও। কিন্তু শেষরাতে আর একসাথে হাঁটতে যাওয়া হয়না চাইলেও........।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য