শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

পাতিল ধোয়ার একাল-সেকাল। মাহবুবা জান্নাত



একদিন আব্বু আম্মুকে ডেকে বলিলেন,শোনো আমার মাইয়াটাকে কোনদিন পাতিল মাজতে দিওনা,রান্নাঘরে যেতে দিওনা।

আম্মু কহিলেন,কেনগো?
আব্বু পুণরায় বলিলেন,ওর হাত, চেহারা একটুখানি বিবর্ণ হবে তো তবে ভালো হবে না।
আম্মু কহিলেন,দেবনা, তবে পরের বাড়ি গেলেতো কি হবেগো...

আম্মু আমাকে এমনিতেই প্লেট ধুতেও বারণ করতেন,তবু জোর করে ধুয়ে আনতাম কখনোবা।
আব্বু দেখলে আম্মুকেই বকা দেবে সে ভয়েও থাকতাম!

বিয়ের সপ্তাহখানেক বাদে আম্মু দেখিতে আসিলেন। সকালবেলা পুকুরঘাটে গিয়া চোখ দুটো চলচল করিয়া উঠিল মায়ের। তিনি দেখিলেন; তাঁহার দুলালী ১৫/১৬ টা পাতিল আর কতক প্লেট-বাটি লইয়া ধোয়ার চেষ্টায় আছে। বলিলেন, দে মা আমি ধুয়ে দেই।
তখনি বলিলাম,না, না, এটা অসম্ভব মা। আমার দায়িত্ব ইহা।

সেদিন আব্বু তাঁহার কন্যাকে দেখিতে আসিয়াছিলেন। দেখিবামাত্র কহিলেন,কিরে মা তুই এমন হইলি কেন? ভাত দেয়না নাকি? তোর শাশুড়ি তোকে পাতিল মাজতে আর রান্নায় দেয়? বল মা বল!
তখনি মনে পড়ে গেল সেকালের আব্বুর সেই নিষেধাজ্ঞা। ঠোঁটের কোণে হাসি আনিবার ব্যর্থ চেষ্টায় ঈষৎ হাসিয়া কহিলাম, আব্বু,একাল-সেকালের ব্যবধান থাকতে হয়, বাবার আদরের কন্যা ও একদিন নিজেকে বড় দায়িত্ববান করে নিতে হয়।

ইদানিং অনেক মেয়েদের দেখি পাতিল মাজতে অনিহা করে। বলে, কালি লাগিবে যে। তাহাদের জন্য লিখিলাম। ভালো লাগিলে বলিবেন কিন্তু!







একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য