শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

উদীয়মান মুসলিম দেশগুলোর ক্ষমতাসীনরা ইহুদীদের দালাল? সৈয়দ শামছুল ‍হুদা


আমাদের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষমতা, সময়োপযোগিতা বিষয়ে বিতর্ক আছে। এর মাঝেই উপস্থিত হয়েছে পাকিস্তানে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের বিজ্ঞ নেতা জনাব মাওলানা ফজলুর রহমান সাহেব এর করাচি অভিমুখি লংমার্চের খবর। তিনি ইমরান খানকে অবৈধ সরকার, অযোগ্য সরকার আখ্যায়িত করে এই লংমার্চের ডাক দিযেছেন। সর্বশেষ ইমরান খান জাতিসংঘে যেই আলোচিত ভাষণ দিয়েছে তাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক সম্মেলনে কিছু বক্তব্য দিয়েছেন। সেই বক্তব্য শোনার সুযোগ হয়েছে।

আমার কাছে মনে হয়েছে জনাব ফজলুর রহমান সাহেব ইমরান খান বিষয়ে নরেন্দ্র মোদীর ভাষায় কথা বলছেন। ইমরান খান এটমিক এটাক বিষয়ে যে কথা বলেছেন সেটাকে এতটাই হাইলাইট করেছেন, মনে হচ্ছে, কালকেই ইমরান খান ভারতে এটম বোম এটাক করে বসবেন এই নিয়ে জনাব ফজলুর রহমান সাহেব চিন্তিত। পেরেশান।

আসলে ইমরান খান যেটা বলেছেন, তার সারমর্ম ছিল, পাকিস্তান ভারত থেকে ৭গুন ছোট। তারপরও তারা কাশ্মীরি মা-বোনদের অধিকার রক্ষায় পাকিস্তান পিছপা হবে না। আর এই অধিকার রক্ষার সংগ্রামে প্রতিবেশি দুটি দেশ যদি যুদ্ধে জড়িয়েই যায়, তখন এটা গ্যারান্টি দিয়ে বলা যায় না যে, আত্মরক্ষার শেষ অস্ত্র হিসেবে এটমিক যুদ্ধে জড়িয়ে যাবে না। আর এ রকম যদি হয়, তাহলে এর দায় জাতিসংঘকেই নিতে হবে। কারণ তারা সেই ১৯৩৯সাল থেকে কাশ্মীরিদের সাথে প্রতারণা করে আসছে।

জনাব ফজলুর রহমান সাহেব বাংলাদেশের জমিয়তর নেতাদের কাছেই শুধু নয় গোটা আলেম সমাজের কাছেই অনেক শ্রদ্ধার আসনে। তাঁর পরিচিতি, তাঁর ব্যক্তিত্ব অসম্ভব রকম গ্রহনযোগ্য। তদুপুরি যে কথাটি বলতে চাই, এই মুহুর্তে তিনি কাশ্মীরিদের ওপর চালিত বর্বরতা বিষয়ে বিশেষ কোন বক্তব্য না দিয়ে ইমরান খানের বৈধতার প্রসঙ্গ তুলে যে আন্দোলনে যাচ্ছেন তা কতটা নিরাপদ হবে, তা ভাববার বিষয়। তার এই আন্দোলনে ভারত যে পয়সা ঢালবে না তারই বা গ্যারান্টি কোথায়? ভারত আফগানিস্তানে ব্যাপক পয়সা ঢেলেছিলে পাকিস্তানকে অস্থিতিশীল করতে। যতদিন আমেরিকা আফগানে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রন রেখেছে ততদিন ভারতও খেল খেলেছে। ভারত সুযোগটা নিয়েছে। এখন সেই খেলা আফগান থেকে সরে জমিয়তের ঘাড়ে সওয়ার হয়ে খোদ পাকিস্তানেই চলে আসে কী না সেই আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

এই ষড়যন্ত্রে হয়তো জনাব ফজলুর রহমান সাহেব জড়াবেন না। কিন্তু তার দলের মিডল অর্ডারের অনেক নেতাকে পয়সার ফাঁদে ফেলা যাবে না তার নিশ্চয়তা কোথায়? ৫মে’র পরে হেফাজতকে যেভাবে বিক্রি করা হয়েছে ঠিক সেভাবেই পাকিস্তানের জমিয়তের পিয়ন পাইকাররা জুতার বাক্সে টাকার বান্ডিল পেয়ে হুশ হারাবে না তার কী গ্যারান্টি আছে? দেখা যাবে জনগণকে দ্বীনি চেতনায় জাগিয়ে তুলতে ঐ জুতার বাক্সে রাখা পয়সাধারিরা জোশের সাথে ইমরান সরকারের পতনের জন্য এমন সব কাজ করে বসবে যাতে ইমরান খানের কিছু ক্ষতি না হলেও পাকিস্তানের ক্ষতি হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরী হবে।

বাংলাদেশের অনেক জমিয়তকর্মী ইতিমধ্যেই ইমরান খানকে ইহুদীর দালাল, এজেন্ট বলা শুরু করেছে। যখন ইমরান খান তার বিরুদ্ধে আন্দোলনের বিরুদ্ধে এ্যাকশনে যাওয়া শুরু করবে, তখন তাকে কাফের ফতোয়া দিতে বিন্দুমাত্র বিলম্ব করবে না। ইমরান খানকে যেভাবে হালকা অভিযোগে ইহুদীর দালাল বলা হচ্ছে, তাতে ইসলামী আন্দোলনই ক্ষতিগ্রস্থ হয় কী না সেটা ভাবনার বিষয়। কারণ তুরস্ক, মালয়েশিয়া ও পাকিস্তানে যে এখন ইহুদীর দালালরাই ক্ষমতা চালাচ্ছে। এই দালালদের কাছে ইসলামপন্থী শক্তির ধর্ণা আগে পরে দেওয়া লাগে কী না তা ভেবে দেখা দরকার। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ইসলামী দলগুলোর জন্য আরো বেশি ভাবনার বিষয়। কারণ আমরা আরবদের রাজনীতি দ্বারা প্রভাবিত নই। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতির সাথে পাকিস্তান, আফগানিস্তান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ইত্যাদি দেশের রাজনীতি অনেক বেশি প্রভাব ফেলে।এর সাথে রয়েছে রোহিঙ্গা ইস্যু, কাশ্মীর ইস্যু, আসাম ইস্যু, পশ্চিমবঙ্গ ইস্যু, সাথে রয়েছে এনআরসির সাথে সম্পৃক্ত বাঙ্গালীর রাজনীতিও্।

আমাদের রাজনৈতিক দর্শনের সাথে, চিন্তার সাথে না মিললেই ইহুদীর দালাল, এজেন্ট বলে দেওয়া কতটা ঠিক হচ্ছে? আজকে অনেকেই এরদোয়ান, ইমরান খানকে ইহুদীর দালাল বলে তৃপ্তি পান। কিন্তু ক্ষমতায় যে তারাই আছে, আমরাতো ক্ষমতার ধারে কাছেও নেই। আমাদের যতটুকু জনবল আছে, সেই জনবলকে কাজে লাগানোর মতো যোগ্য নেতৃত্ব নেই, সংগঠনও নেই। রাজনীতিতে আমাদের অবস্থান খুবই দুর্বল। রাষ্ট্র পরিচালনায় আরো বেশি দুর্বল। এটাতো চরম বাস্তবতা। আর এদের যে কোন কাজের সমালোচনা হতে পারে, তারা যদি সত্যিই ইহুদীর দালাল, এজেন্ট হয়ে থাকে, সেটা শক্তভাবে প্রমাণ করতে হবে। তথ্যগত দিক দিয়ে দুর্বলতা থাকলে মানুষ উল্টো আমাদেরকেই ভুল বুঝবে।

সেই দুর্বলতাকে কাটাতে প্রজ্ঞার সাথে মোকাবেলা না করে, ধর্মীয় দর্শন ব্যবহার করে কাফের, দালাল, এজেন্ট, মুরতাদ, মুনাফিক বলে কতটুকু ফায়দা তোলা যাবে? ভারতের জনাব মাওলানা মাহমুদ মাদানীর অবস্থান খুবই স্পর্শকাতর। উনার বক্তব্য আরো বেশি নাজুক। অথচ ক্ষমতার রঙ্গমঞ্চে কেউ নেই। ক্ষমতার রঙ্গমঞ্চে না থাকার দুর্বলতার সুযোগটাই প্রতিবেশি দেশের শক্তিশালী গোয়েন্দাশক্তি কাজে লাগাবে। লাগাতে চেষ্টা করবে। সুতরাং কথায় কথায় মুসলিম নামধারী হলেও শাসকদের সমালোচনায় যেন ইসলামের চরম শত্রুরা সুযোগ না নিতে পারে সেই দিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। নতুবা ক্ষতি আমাদেরই বেশি।

লেখক: সম্পাদক-নুরবিডি ডটকম।

30.09.2019

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য