শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

তসলিমার ভ্রষ্টতা ও আমাদের হলুদ মিডিয়া : মুহাম্মদ বিন ওয়াহিদ

তসলিমা নাসরিনের প্রতিকৃতি 

তসলিমা নাসরিনকে চেনে না এমন পাবলিক হয়ত খুব কমই পাওয়া যাবে। সে একজন বিতর্কিত লেখিকা। স্বঘোষিত নাস্তিক। যদিও তার যতো মাথাব্যথা আর চুলকানি সব ইসলাম ধর্মকে নিয়েই। হিন্দু, বৌদ্ধ ইহুদি এবং খ্রিস্টান ধর্ম সম্পর্কে তাকে তেমন কিছু বলতে শোনা যায় না। নিজেকে নারীবাদী দাবি করলেও সে মূলত যৌন-পূজারি মানসিক বিকারগ্রস্ত একজন মানুষ।

তাকে মানসিক বিকারগ্রস্ত বলার যথেষ্ট কারণ আছে। সে নিজেকে জানান দিতে মাঝেমাঝেই যেই মন্তব্যগুলো করে থাকে সেগুলো আর যাইহোক, স্বাভাবিক কোনো মানুষের পক্ষে করা সম্ভব নয়।

সে তার একটি আর্টিকেলে লিখল, "পুরুষরা যেমন গরম লাগলে খালি গায়ে ঘুরে বেড়ায় নারীরাও তেমনি খালিগায়ে ঘুরে বেড়াবে, তাদের স্তন সবাই দেখবে।"
শুধু এতোটুকুই না, এমন আরও হাজারও তার মন্তব্য আছে যেগুলো কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের পাঠক পড়লে ধরেই নিবে এগুলো একটা পাগলের প্রলাপ বৈ কিছুই নয়।

কিছুদিন আগে এক সাক্ষাৎকারে তসলিমা বলেছে, ‘একসময় আমি দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়তাম। বুড়ো, মাঝবয়সী ও প্রবীণ বন্ধুদের নিয়ে দেহজ খেলায় মেতে উঠতাম। ভোগ করতাম যৌনতা। কিন্তু এখন দেহজ খেলায় মত্ত থাকার বয়স নেই। সুখের পায়রারা আজ কেউ আমার পাশে নেই।’

তসলিমা নাসরিন শুধু যে নারীদের জরায়ু-স্বাধীনতাই চাইতো তা কিন্তু নয় ,বরং ইসলামকেও দুনিয়ার বুক থেকে ঝেটিয়ে বিদায় করতে চাইত ।

১৯৯৪ সালে এক সাক্ষাৎকারে তসলিমা ঘোষণা করল, সে কুরআনকে সংশোধন করতে চায়! যদিও সে আরবি ভাষার আলিফও জানে না।
তখন বাংলাদেশের সাধারণ মুসলমানরা রাষ্ট্রীয় সহায়তায় তাকেই ঝেটিয়ে বিদায় করেছিল দেশ থেকে ।
এরপরে কয়েক বছর সুইডেন, জার্মানী, ফ্রান্স ও আমেরিকা থেকে নিগৃহিত হয়ে বর্তমানে সে ভারতে থিতু হয়ে পড়ে আছে।

তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল আপনি চিকিৎসক থাকলেই তো ভালো করতেন। মিডিয়াতে কেন এলেন? সাহিত্যেই বা কেন?
তসলিমা উত্তর দিয়েছিল, "আমি নারীর অধিকার নিয়ে ভেবেছি। কিন্তু এখন মনে হয় আমি মানবিকভাবে আশ্রয়হীন। আর এ কারণেই আমি অন্য স্রোতে সুখ খুঁজেছি। পরিবার হারালাম, স্বামী-সন্তান হলো না, ঘরসংসার হলো না। তখন দৈহিক সম্পর্কে নেশাগ্রস্ত না থেকে আর কোনো পথ খোলা ছিল না।

তসলিমা তার এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছে, "মাঝেমধ্যেই মনে হয় সব ছেড়েছুড়ে নামাজ-রোজা করি, তাওবা করে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করি। কম্যুনিস্টরাও তো একসময় বদলে যায়। আমার জন্ম ১২ই রবিউল আউয়াল, মহানবীর জন্মদিনে। নানি বলেছিলেন, আমার নাতনি হবে পরহেজগার। সেই আমি হলাম বহু পুরুষভোগ্য একজন ধর্মকর্মহীন নারী। বলা তো যায় না, মানুষ আর কত দিন বাঁচে। আমার মা ছিলেন পিরের মুরিদ। আমিও হয়তো একদিন বদলে যাব।"

তসলিমা আসলে পৌঢ় বয়সে এসে কিছুটা হলেও বুঝতে পেরেছে; সভ্য পৃথিবীর স্রোতের বিপরীতে গিয়ে অসভ্য পৃথিবী নির্মাণের গান গেয়ে যাওয়াটা নিতান্তই অর্থহীন এবং বোকারমত কাজটাই করা হয়েছে। যার মাশুল হিসেবে তাকে শুধু পরিবারই নয় দেশও ছাড়তে হয়েছে।

তসলিমা এখন দিকভ্রান্ত। যৌনতার নেশা তাকে এতো বেশি পেয়ে বসেছিল যে, সাধারণ হিতাহিত জ্ঞানও তার মধ্যে অবশিষ্ট ছিল না।
তবুও সে থামেনি। আজ অব্দি তার বস্তাপঁচা ধ্যানধারণা-গুলো বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের মাধ্যমে বাংলাদেশে বিষবাষ্পেরমত ছড়িয়ে দিতে পারছে। আমার মনে হয় আগে এই পত্রিকাগুলোই বন্ধ করে দেওয়া উচিত। বাক স্বাধীনতা থাকবে ঠিক আছে। তার পরিণাম এটা কখনোই হতে পারে না যে, আপনি দেশের নব্বইভাগ মানুষকে আঘাত করবেন। তাঁদেরকে খেপিয়ে তুলবেন। এটা বাংলাদেশের সংবিধান-বিরুদ্ধ।

আজকেও এই বিকারগ্রস্ত লেখিকা তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছে, "আমি প্রধানমন্ত্রী হলে সংবিধান থেইকা বিসমিল্লাহ বাদ দিতাম। রাষ্ট্রধর্ম ইসলামকে বাদ দিতাম। বোরখা নিষিদ্ধ করতাম। মন্দির, ম’সজিদ, গির্জা মির্জা সবগুলারে মিউজিয়াম বানাইতাম। ধ’র্ম পালন বাইরে বন্ধ। নামাজ রোজা পুজা মুজা ঘরের ভিতরে কর।"

তসলিমার সর্বাঙ্গে মূলত ভ্রষ্টতা। তার মনটা যেমন কলুষিত। তেমনি দেহটাও। মৃত্যু পর্যন্ত সে তার সহচর বৃদ্ধির সংগ্রাম করে যাবে। এটাই স্বাভাবিক।

তাদেরমত উশৃংখল, যারা কিনা বাংলাদেশের শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করে তোলে,মিটিং-মিছিলের প্রতি সাধারণ মানুষদেরকে উৎসাহিত করে, সরকারের উচিত তাদেরকে দেশে এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া। এতেই সরকারের, দেশের এবং দেশের মানুষের কল্যাণ রয়েছে।

লেখক: মুহাম্মদ বিন ওয়াহিদ। সম্পাদক-ঈশান

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

1 মন্তব্য