শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাড়াহুড়ো করতে নেই । মুফতী মহিউদ্দীন কাসেমী

ছবিটি এখানে প্রতিকী ব্যবহার হয়েছে 

বাদশাহর নিয়ম ছিল, যে রাতে তিনি যে স্ত্রীর কাছে অবস্থান করতেন সে তার জন্য মিষ্টান্ন তৈরি করে রাখত। সম্রাট তা আহার করতেন। রাণী ইরাখতের পালার দিন সম্রাট তার কাছে আগমন করেন। রাণী তার জন্য মিষ্টান্ন প্রস্তুত করে রেখেছিলেন। মুকুট পরিহিতা রাণী সম্রাটের টের জন্য পাত্রে করে মিষ্টান্ন নিয়ে প্রবেশ করেন। এদিকে ‘হুরকানা’ এ ব্যাপারে জানতে পেরে ঈর্ষান্বিত হয়ে উঠেন এবং সেই ঝাঁকজমকপূর্ণ পোশাক পরিধান করে বাদশাহের সামনে দিয়ে গমন করেন। অলংকার মণ্ডিত পোশাক তাকে সূর্যের ন্যায় আলোকিত করে রেখেছিল। সম্রাট তা দেখতে পেয়ে চমৎকৃত হয়ে ওঠেন এবং ইরাখতকে লক্ষ্য করে বলেন, তুমি এত বোকা কেন? তুমি এ মুকুট পরিধান করেছ অথচ অলংকারখচিত সবচাইতে মূল্যবান পোশাকটি এড়িয়ে গেলে! বাদশার মুখে হুরকানার প্রশংসা ও নিজের সমালোচনায় ইরাখত অত্যন্ত রাগান্বিত হয়ে পড়েন এবং মিষ্টান্নের পাত্রটি দিয়ে স¤্রাটের মাথায় সজোরে আঘাত করেন। সম্রাটের মাথায় মিষ্টান্ন ছড়িয়ে পড়ে। আর এভাবেই কাবারিয়ুনের স্বপ্নের ব্যাখ্যা পূর্ণতা লাভ করে।
সম্রাট অত্যন্ত ক্রোধান্বিত হয়ে ইলাজকে ডেকে পাঠান। তিনি বলেন, তুমি কি দেখছো না আমি সম্রাট হওয়া সত্তে¡ও এ হতচ্ছাড়া নারীটি আমাকে অপমান করছে?! তাকে হত্যা করো এবং তার প্রতি মোটেও অনুগ্রহ করবে না।

ইলাজ বাদশাহর দরবার হতে বেরিয়ে এসে ভাবলেন, স¤্রাটের রাগ প্রশমিত হওয়ার আগে আমি তাকে হত্যা করবো না। রাণীদের মধ্যে সবচাইতে বিচক্ষণ ও বুদ্ধিমতী এ রাণীর জন্য সম্রাট নিজেও পরে আফসোস করবেন। তিনি সম্রাটকে বহুবার মৃত্যুর মুখ থেকে বাঁচিয়েছেন। এই রাণী অনেক পুণ্যের কাজ করেছে। তার ব্যাপারে আমাদের রয়েছে অত্যন্ত ভালো ধারণা। আমি এও আশংকা করছি, হয়তো স¤্রাট আমাকে বলবেন, তুমি কেন তাকে হত্যা করার পূর্বে আমাকে আবার জিজ্ঞেস করোনি। তাই আমি বাদশাহর পুনর্বিবেচনার আগে তাকে হত্যা করছি না। অতঃপর যদি আমি দেখি সম্রাট তার এই দণ্ড প্রদানের জন্য অনুতপ্ত হচ্ছেন আমি রাণীকে তাঁর সামনে জীবিত উপস্থিত করে দেবো। যা আমার জন্য অত্যন্ত ভালো ফল বয়ে আনবে। রাণী ইরাখতও মৃত্যু থেকে বেঁচে যাবেন, বাদশার প্রাণ রাণীকে হেফাজত করতে পারলাম; অন্যদিকে সাধারণ জনগণও এতে অত্যন্ত আনন্দিত হবে।

পক্ষান্তরে রাণীকে প্রাণনাশের দণ্ড দিয়ে বাদশাহ যদি উৎফুল্লবোধ করতে দেখি তখন আমি তাকে হত্যা করতে পারবো। পরিকল্পনামতে তিনি রাণীকে নিজ ঘরে নিয়ে যান। পরবর্তী পদক্ষেপের উপযুক্ত সময় আসা পর্যন্ত রাণীর সেবা ও পাহারার জন্য তিনি একজন সেবক নিয়োজিত করে রাখেন। সকল ব্যবস্থাপনা শেষে তিনি রক্তমাখা তরবারি নিয়ে দুঃখিত বদনে বাদশাহর দরবারে প্রবেশ করেন এবং সম্রাটকে দণ্ড কার্যকরের সংবাদ দেন। কিছুক্ষণের মধ্যে স¤্রাটের রাগ পড়ে যায় এবং তিনি রাণী ইরাখতের গুণের আলোচনা করতে থাকেন। তিনি অত্যন্ত দুঃখবোধ করতে থাকেন ও নিজেকে প্রবোধ দেয়ার চেষ্টা করেন। মনে মনে তিনি ভাবছিলেন বুদ্ধিমান ইলাজ হয়তো এখনো দণ্ড কার্যকর করেনি, আবার ইলাজকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করতেও তিনি লজ্জা পাচ্ছিলেন। বুদ্ধিমান ইলাজ স¤্রাটের চেহারায় তাঁর মনের অভিব্যক্তি ধরতে পারেন। তিনি বলে উঠেন, বাদশাহ নামদার! দুঃখ করবেন না, চিন্তিত হবেন না। কেননা এ দুটিতে কোনো লাভ নেই, বরং স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তাই যা আপনার সাধ্যের বাইরে চলে যায় তার ব্যাপারে ধৈর্য্যধারণ করুন। যদি স¤্রাটের আজ্ঞা হয় আমি আপনাকে একটি গল্প শোনাতে চাই যা কিছুটা হলেও আপনাকে প্রবোধ দিবে। বাদশাহ তাকে অনুমতি দিলে তিনি বলতে শুরু করেন:

তিনি বলেন, কথিত আছে কোনো এক অঞ্চলে দুটি কবুতর ছিল। নর ও মাদি দুটি কবুতর খাদ্য সংগ্রহ করছিল। পুরুষ কবুতরটি স্ত্রী কবুতরটিকে বলছিল, আমরা এখন শস্যক্ষেতের খাদ্যই গ্রহণ করব। এখন আমরা যা সঞ্চয় করছি তা আহার করবো না। শীতকালে যখন ক্ষেতে কোনো ধরনের শস্যদানা থাকবে না আমরা আমাদের সংগৃহীত খাদ্য গ্রহণ করতে পারব। স্ত্রী কবুতরটি এতে সম্মত হয় এবং তার সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে। তাদের সংগৃহীত শস্য দানাগুলো যখন তারা সঞ্চয় করছিলো তা ছিল আদ্র। এদিকে পুরুষ কবুতরটি কিছু দিনের জন্য হারিয়ে যায়। দিনে দিনে শস্য দানাগুলো শুকিয়ে যেতে থাকে এবং তা পরিমাণে কমে যায়। কিছুদিন পর পুরুষ কবুতরটি ফিরে এসে শস্য দানাগুলো কমে যেতে দেখে। স্ত্রী কবুতরটিকে সে বলে, আমরা তো সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, আমরা আমাদের সঞ্চিত এ খাবার খাবো না, তুমি কেন তা আহার করেছো? স্ত্রী কবুতরটি বারবার শপথ করে থাকে বলতে থাকে, আমি এখান থেকে কিছুই আহার করিনি। বারবার সে পুরুষ কবুতরটিকে বিশ্বাস করাতে চায়, কিন্তু পুরুষ কবুতরটি তার কথায় বিশ্বাস করে না এবং তাকে ঠুকরিয়ে ঠুকরিয়ে হত্যা করে ফেল।


বর্ষাকালে বাতাসের আদ্রতায় সঞ্চিত শস্যবীজগুলো আবার আদ্র হয়ে ওঠে এবং তাদের খাদ্যভাণ্ডার পূর্বের ন্যায় ফুলে-ফেঁপে ওঠে। পুরুষ কবুতরটি তা অনুভব করে অত্যন্ত লজ্জিত হয়ে ওঠে। অতঃপর সে স্ত্রী কবুতরটির কবরের কাছে গড়াগড়ি করতে থাকে এবং বলতে থাকে, তোমার মৃত্যুর পর আমি আর জীবনের কোনো আনন্দ পাচ্ছি না। জীবন হয়ে উঠেছে বিষাদময়। তোমাকে ফিরে পাওয়াও আমার জন্য সম্ভব নয়। যখনই আমি তোমার ব্যাপারে ভাবি, আমি অনুভব করি যে, আমি তোমার উপর অন্যায় করেছি এবং আমি যা করেছি তার ক্ষতিপূরণ সম্ভব নয়। এভাবেই সে দুঃখ করতে থাকে এবং পানাহার না করে একপর্যায়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

বুদ্ধিমান ব্যক্তি কখনো কাউকে শাস্তি প্রদানে তাড়াহুড়া করে না। বিশেষত এমন সব ক্ষেত্রে যেখানে লজ্জিত হওয়ার আশংকা থাকে, যেমনটি এক্ষেত্রে পুরুষ কবুতরটি লজ্জিত হয়েছিল। এক গল্পে আমি শুনেছি, কোনো এক ব্যক্তি ঝুড়ি-ভর্তি শস্য নিয়ে পাহাড়ে আরোহণ করেছিল। বানর এসে সে ঝুড়ি থেকে এক মুষ্টি পরিমাণ শস্য নিয়ে গাছে উঠে যায়। একটি শস্যদানা তার হাত থেকে পড়ে গেলে এটার খোঁজে নিচে নেমে আসে। হন্য হয়ে তা খুঁজতে থাকলে একপর্যায়ে তার হাতে থাকা অন্য সবগুলো শস্য পড়ে যায়। মহামান্য সম্রাট! আপনার কাছে এখনো আপনার অনেক প্রিয়ভাজন মানুষেরা আছে; অথচ আপনি তাদের কথা না ভেবে এমন কারো জন্য দুশ্চিন্তাবোধ করছেন যাকে ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। ইলাজের এসব কথাবার্তা শুনে বাদশা এই ভেবে আতঙ্কিত হয়ে উঠেছিলেন, হয়তো সত্যি ইরাখতের দণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এ পর্যায়ে সম্রাট বলেই ফেললেন, ইলাজ! আমার একটিমাত্র কথায় তুমি তার দণ্ড কার্যকর করে ফেললে? এটি ছিল আমার তাৎক্ষণিক বিরক্তি প্রকাশ। আমি তো এর বাস্তবায়ন চাইনি!
উত্তরে ইলাজ বলল, নিঃসন্দেহে একমাত্র মহান আল্লাহর কথাই সুদৃঢ়, যার কথার কোনো নড়চড় ও পরিবর্তন হয় না। বাদশা বলেন, তুমি আমার অবস্থা বিগড়ে দিয়েছো এবং ইরাখতের দণ্ড কার্যকর করে আমাকে অনুশোচনায় ফেলে দিয়েছো। ইলাজ বলেন শুধু দু’ধরনের ব্যক্তির অনুশোচনা করা উচিত। একজন যে প্রতিদিন অন্যায়ে লিপ্ত থাকে, আরেকজন যে কখনো কল্যাণের কাজ করে না। কেননা, তাদের ইহকালীন শান্তি ও আনন্দ অত্যন্ত স্বল্প সময়ের; কিন্তু তারা চরম অনুশোচনায় ভুগবে তখন, যখন তারা পরকালীন অসীম সময়ের শাস্তি ও লাঞ্ছনার মুখোমুখি হবে।

বাদশা বলেন, যদি আমি ইরাখতকে জীবিত পেতাম, তাহলে জীবনে আর কোন বিষয় নিয়ে দুঃখবোধ করতাম না। উত্তরে ইলাজ বলেন, দু’ধরনের ব্যক্তির কখনো দুঃখবোধ করা উচিত নয়, প্রথমত যে ব্যক্তি প্রতিদিন ভালো কাজ করে, দ্বিতীয়ত যে ব্যক্তি কখনো কোনো পাপের শিকার হয়নি। সম্রাট বলেন, আমি ইরাখতকেই সবচাইতে বেশি কামনা করি। ইলাজ বলেন, দুই ধরনের ব্যক্তি কখনো কোনো জিনিসের কামনা করে না। অন্ধ ব্যক্তি ও বুদ্ধিহীন ব্যক্তি। অন্ধ ব্যক্তি যেমন আকাশ ও আকাশের তারকারাজি এবং পৃথিবী ও পৃথিবীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারে না, যেমনিভাবে সে দূরত্ব-নৈকট্যও দেখতে পায় না, তেমনি ভাবে বুদ্ধিহীন ব্যক্তিও ভালো-মন্দের তফাৎ খুঁজে পায় না। সে তার উপকারী ও ক্ষতিকর ব্যক্তিকে আলাদাভাবে অনুভব করে না। বাদশাহ বলেন, যদি ইরাখতকে ফিরে পাই তাহলে আমি অত্যন্ত আনন্দিত হবো। ইলাজ বলেন, দুই ধরনের ব্যক্তি সত্যিকারে আনন্দিত। দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তি ও জ্ঞানী ব্যক্তি। যেমনি ভাবে দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তি পৃথিবীর সকল বাস্তবতা অনুভব করতে পারে, তেমনিভাবে জ্ঞানী ব্যক্তিও ভালো-মন্দের তফাৎ করতে পারে। পরকালীন জীবনের উপকারী বিষয়ের পরিচয় লাভের মাধ্যমে সে সঠিক পথে চলতে পারে। বাদশাহ বলেন, তোমার থেকে আমার দূরে থাকা উচিত এবং তোমার ব্যাপারে সতর্ক হয়ে বেঁচে থাকা উচিত। ইলাজ বলেন, দুই ধরনের ব্যক্তি থেকে দূরত্ব অবলম্বন করা উচিত। ক. এমন ব্যক্তি, যে এমন কথা বলে যা ভালোও নয় মন্দ নয়, যাতে কোনো পাপ নেই এবং কোনো পুণ্যও নেই, অথচ আমি এমনটি নই। খ. এমন ব্যক্তি যে নিষিদ্ধ জিনিস থেকে তার দৃষ্টিকে সরিয়ে নেয় না, মন্দ জিনিসের শ্রবণ থেকে নিবৃত্ত হয় না, অন্যের জন্য নির্ধারিত জিনিস থেকে নিজেকে সংযত করে না এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখে না।

বাদশাহ বলেন, আমি এখন ইরাখতকে হারিয়ে শূন্য হয়ে পড়ছি। ইলাজ বলেন, তিন ধরনের বস্তুকে শূন্য বিবেচনা করা যায় : ১. এমন নদী যাতে পানি নেই। ২. এমন দেশ যার কোন সম্রাট নেই। ৩. এমন নারী যার স্বামী নেই। উত্তরে স¤্রাট বলেন, ইলাজ তুমি অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার অধিকারী ও দ্রুত উত্তর দিতে পারো। ইলাজ বলেন, তিন ধরনের ব্যক্তিরা দ্রুত জবাব দিতে পারে : ১. এমন সম্রাট যিনি তাঁর ধনভাণ্ডার থেকে মানুষকে দান করেন। ২. এমন নারী যিনি সম্ভ্রান্ত কোনো ব্যক্তির সাথে বন্ধনে আবদ্ধ হন। ৩. এমন জ্ঞানী ব্যক্তি যাকে কল্যাণের কাজের তৌফিক দেওয়া হয়।

ইলাজ বাদশাহকে অত্যন্ত দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়তে দেখে বলেন, বাদশাহ নামদার! আপনার রাণী ইরাখত এখনো জীবিত আছেন! একথা শুনে বাদশা অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে উঠেন এবং বলেন হে ইলাজ আমি শুধু তোমার কল্যাণকামী ও সততার কারণে তোমার প্রতি রাগাšি^ত হইনি; তবে তোমার জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তার ভরসায় আমি আশা করছিলাম যে, তুমি হয়তো ইরাখতের দণ্ড কার্যকর করোনি। কেননা সে যদিও সাথে অত্যন্ত জঘন্য ও রুঢ় আচরণ করেছে তবে তা বিদ্বেষবশত ছিল না এবং সে আমার ক্ষতি চায়নি; বরং আত্মমর্যাদাবোধের কারণে করেছিল। তার প্রতি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে তাকিয়ে সহ্য করে নেওয়া আমার উচিত ছিল। হে ইলাজ! তুমি আমার উপর পরম অনুগ্রহ করেছো। আমি তোমার কাছে চিরকৃতজ্ঞ। এবার তুমি তাকে আমার কাছে নিয়ে আসো। ইলাজ তাৎক্ষণিক বাদশার দরবার থেকে ইরাখতের কাছে গেলেন এবং তাকে বাদশাহর দরবারে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে বলেন। অতঃপর তাকে নিয়ে বাদশাহর দরবারে গমন করলে রাণী বাদশার সামনে কুর্নিশ করেন। অতঃপর বলেন সর্বপ্রথম আমি আল্লাহর প্রশংসা করছি অতঃপর স¤্রাটের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি যিনি আমার প্রতি সদয় হয়েছেন। নিশ্চয়ই আমি বড় অন্যায় করেছি। যার পর আমার বেঁচে থাকার অধিকার নেই। কিন্তু তিনি অত্যন্ত সদয় হয়েছেন, বদান্যতা দেখিয়েছেন। অতঃপর আমি প্রশংসা করছি ইলাজের, যে দণ্ড কার্যকরে তাড়াহুড়া করেনি এবং আমার প্রতি বাদশাহর অনুরক্ততা বুঝতে পেরে আমাকে মৃত্যুর মুখ থেকে বাঁচিয়েছেন।

বাদশা ইলাজকে বললেন, তুমি আমার উপর পরম অনুগ্রহ করেছো। ইরাখতের জন্যও রয়েছে তোমার অনুগ্রহ এবং সকল জনগণের প্রতি রয়েছ তোমার বদান্যতা। তুমি তাকে বাঁচিয়ে রেখেছো, যখন আমি তাকে হত্যার আদেশ করেছিলাম। আজ তুমি তাকে আমার কাছে ফিরিয়ে দিয়েছো, আমি চিরদিন তোমার এই কল্যাণকামিতার অনুরক্ত থাকবো। আজ তুমি আমার কাছে অত্যন্ত মর্যাদাবান ও সম্মানিত। আমার রাজ্যে তোমাকে চূড়ান্ত ক্ষমতার অধিকার দেয়া হল, এখন থেকে তুমি যা ইচ্ছা করবে এবং যা ইচ্ছা নির্দেশনা দেবে। আমি তোমাকে এ অধিকার প্রদান করছি এবং তোমার উপর আস্থা রাখছি।
ইলাজ বলেন, মহান আল্লাহ স¤্রাট ও সা¤্রাজ্যকে চিরস্থায়ী করুন। আপনি যতটা বলছেন আমি ততটা প্রশংসার উপযুক্ত নই, আমি আপনার দাসানুদাস মাত্র। কিন্তু আমি আপনার কাছে কামনা করছি, আপনি কোনো বড় বিষয়ে নির্দেশনা দিতে তাড়াহুড়া করবেন না, যার ব্যাপারে পরবর্তীতে লজ্জিত হতে হয় ও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হতে হয়। বিশেষত এই বুদ্ধিমতী ও সদয়া নারীর ব্যাপারে যিনি সবদিক থেকে অনন্যা। বাদশা বললেন, হে ইলাজ! তুমি সত্য বলছো। আমি তোমার কথা গ্রহণ করলাম এবং আমি ভবিষ্যতে ছোটো বড়ো কোনো কাজেই তাড়াহুড়া করবো না। সকল বিষয়েই আমি পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো। বুদ্ধিমান ও বিচক্ষণ ব্যক্তিদের চিন্তা ভাবনার আলোকে আমি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।

অতঃপর বাদশা ইলাজকে বিভিন্ন উপঢৌকন দিলেন এবং তাকে ঐ নেতৃবৃন্দকে হত্যার অনুমতি দিলেন, যারা তার বন্ধুদের হত্যার পরামর্শ দিয়েছিল। অতঃপর ইলাজ তাদের দণ্ড কার্যকর করেন। এভাবে রাজা ও রাজ্যের নেতৃবর্গ দুশ্চিন্তামুক্ত হন। তারা আল্লাহর প্রশংসা করেন এবং কাবারিয়ুনের যোগ্যতা ও বুদ্ধিমত্তার প্রশংসা করেন। কেননা তিনি তার বুদ্ধিমত্তা ও জ্ঞানের মাধ্যমে স¤্রাট, তার মন্ত্রীবর্গ ও বুদ্ধিমতী রাণীকে বিপদ-আপদ থেকে বাঁচিয়ে ছিলেন।

(আরব্য গল্প হতে অনূদিত)

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য