শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

বিপরীত লিঙ্গের এই উত্থান মন্দ না, তবে বিপদটা তাদেরই। সৈয়দ শামছুল হুদা


একটি বিয়ে নিয়ে নতুন করে ফেবুপাড়ায় আলোচনার ঝড় বইছে। বাংলাদেশে বিবাহসংস্কৃতিতে যে নতুন ধারা চালু করা হলো, তা দেখতে মন্দ না। বিয়ের সময় আগে নববধুকে দেখার আগ্রহ থাকতো মানুষের মধ্যে। আর এখন যুবতি বধু নওশা সেজে গাড়ীতে করে সামনের চেয়ারে বসে। ডোল তবলা বাজাতে বাজাতে বরের বাড়ী যাবে বরকে বিয়ে করতে। মানুষ এতে অনেক আনন্দ পাবে। নতুন ধারার প্রতি স্বভাবতই তরুনরা খুব বেশি আগ্রহী হবে। তারা এমন বিয়াই দেখতে চাইবে। এক ঢিলে দুই পাখি মারা যাবে। এখন আর লুকিয়ে লুকিয়ে বউ দেখার দরকার পরবে না। একদিকে সুন্দরী রুপসী মাইয়া দেখে মজা মারবে, অপর দিকে এতদিন পুরুষের ওপর যে খরচের বাড়তি চাপ ছিল তার ভারও হালকা হয়ে যাবে।

বিষয়টি যদি ইসলামের দৃষ্টিতে দেখা হয় তাহলে অনেক কথা চলে আসবে। সে দিকে না গিয়ে যদি সাধারণ চোখে বিষয়টি ভাবি তাহলে এভাবে বলা যায়, ইসলাম তাদের শারিরীক গঠন, মানবজাতির সম্প্রসারণ, সংরক্ষণ ইত্যাদি দিক লক্ষ্য করে নারীদেরকে যে শারিরীক, মানসিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিয়েছে তা থেকে নারীরা মুক্তি চাইছে। বের হয়ে আসতে চাইছে। ইসলাম একজন নারীকে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সকল প্রকার খরচের ভার থেকে মুক্তি দিয়েছে। নারীর মাধ্যমে যেহেতু মানবজাতির বৃদ্ধি ঘটে, তাই তার শারিরীক কোমলতার কারণে মুক্তি দিয়েছে কঠোর পরিশ্রমের সকল কাজ থেকে। একজন নারীর লালন-পালন, ভরণ-পোষণ, সন্তানের সকল দায়-দায়িত্ব শুধুই পুরুষের। পাশ্চাত্যের অপসংস্কৃতির ঢেউ লাগায় আমরা এখন এমন নারী মুক্তির স্বপ্ন দেখছি, যেখানে নারীকে পুরুষের সমঅধিকারের স্বপ্ন দেখিয়ে পুরুষের আধুনিক দাসে পরিণত করবে, যেখানে পুরুষ নারীর সকল প্রকার দায়-দায়িত্ব থেকে থাকবে মুক্ত। ওরা নারীকে ঘর থেকে বের করেছে নারীকে ভোগ্য পণ্য বানানোর জন্যই।

একটি মুসলিম সমাজে রাস্তা-ঘাটে একজন নারীর যে কোন সমস্যা, দুর্ঘটনায় একজন পুরুষ যে সত্যিকার অর্থে একজন মানুষ, সে সমস্যাটাকে আপন কাঁধে তুলে নেয়। একজন নারীকে তার আপন হালতে ছেড়ে চলে যায় না। ইসলাম নারীকে যে মর্যাদা দিয়েছে সেটা আদায়ে নারীরা সোচ্চার না হয়ে পাশ্চাত্য তাদেরকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে একদিকে কিছু নারীকে দেহ প্রদর্শনী করে আয় করার পথে নামিয়েছে, কিছু নারীকে কঠোর পরিশ্রম করে সমাজে টিকে থাকার পথে ঠেলে দিয়েছে। এর বাইরে আর কিছুই নয়। কিন্তু ইসলাম নারীকে শিশুকালে পিতার ওপর, যৌবনকালে স্বামীর ওপর, বৃদ্ধকালে সন্তানের ওপর নির্ভরশীল করে এমন নিরাপত্তা দিয়েছে যা পৃথিবীর কোন ধর্ম কল্পনা করতেও পারবে না।

একজন নারীকে স্রষ্টা এমনভাবে সৃষ্টি করেছেন, তার মধ্যে এমন স্বভাব-চরিত্র প্রকৃতিগতভাবেই তৈরী করে দিয়েছেন যে কারণে শিশুকালে পিতা সন্তানের জন্য পাগল হয়, দাম্পত্য জীবনে স্বামী নারীর জন্য পাগল হয়, বৃদ্ধাকালে সন্তান মায়ের জন্য পাগল হয়। এই পাগলামীর কারণে একজন পুরুষ সবকিছু করে একজন নারীর জন্য। নারীর সুখের জন্য। এই জগত সংসার গড়ে উঠেছে নারীর আকর্ষণে।

আজকে যে নারী এভাবে বিবাহ করতে গেলো, এভাবে হয়তো নতুনত্ব আসবে, নারীর কর্তৃৃত্ব প্রদর্শিত হবে, কিন্তু যে ক্ষতিটা হবে, সেটা তারই। আজকে হয়তো ঐ নারীর সামর্থ আছে, সে বউযাত্রা করলো, বরভাত করলো, পুরুষের সাথে তার ইচ্ছেমতোই দাম্পত্য জীবন যাপন করলো, কিন্তু সন্তান তো তাকেই গ্রহন করতে হবে। গর্ভাবস্থার একটি বছর সে যেই কষ্ট করবে সেটা কি পুরুষের সাথে শেয়ার করা সম্ভব? সেটা কি পুরুষের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া সম্ভব? না হলে তার কর্তৃত্ব থাকলো কই? শারিরীক গঠনের দুর্বলতাকে নারী অস্বীকার করে পুরুষের কোন ক্ষতি করবে না, বরং নিজের ঘাড়েই নিজের বোঝা টেনে নিয়ে আসবে।

নারীবাদীদের যত ক্ষোভই পুরুষতান্ত্রিকতার ওপর থাকুক না কেন একজন পুরুষই পারে নিজের এবং স্ত্রীর উভয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। কিন্তু একজন নারী কখনোই তার নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে না। আপনি বলবেন, পুরুষরা ভালো হলেই তো রাত-বিরাতে নারীর চলাচলে নিরাপত্তার কোন বিঘ্ন ঘটবে না। আমি বলবো, পুরুষতো খারাপই। তাহলে সে কেন আপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যাবে? ধর্ম এবং স্রষ্টার ভয়েই একজন পুরুষ নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। তার মর্যাদার মূল্য দেয়। বাসে উঠলে গাড়ীর সিটটা ছেড়ে দেয়। কারো ওপর কোন কষ্টকর বোঝা দেখলে সেটা পুরুষ আপন ঘাড়ে নিয়ে নেয়। ধর্মই যেহেতু মানছেন না, স্রষ্টার দেওয়া বিধানই যেহেতু সমস্যা, সেখানে পুরুষের কী ঠেকা পড়েছে আপনার নিরাপত্তা, মর্যাদার নিশ্চয়তা দিতে? যেই আধুনিক সমাজের কথা বলছেন, তারাই বা আপনাকে কতটা নিরাপত্তা দিয়েছে? আপনি কতটা আপন মর্যাদা নিয়ে চলতে পারছেন?

আজ বাংলাদেশে ক্যাসিনো, বার, হোটেল, ক্লাব ইত্যাদি জায়গাগুলোতে নারীকে উপস্থিত করেছেন। বিনিময়ে কী হচ্ছে? একটি মেয়ে একদিকে নিজের কপাল পুড়ছে, অন্যদিকে যে পুরুষটিকে নিয়ে মাতলামি করছে, তার ঘরে থাকা নারীর কপালও শেষ করে দিচ্ছে। সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হচ্ছে। বরগুনার মিন্নি এর জলজ্যান্ত প্রমাণ। আজ বাংলাদেশে কোমলমতি নারীদের প্রতি যে রূঢ়তা দেখি, কঠোরতা দেখি, এটা তাদেরই অর্জন। নারীকে কুপিয়ে হত্যা করা, নারীকে ধর্ষণ করে গলা টিপে মেরে ফেলা, নারীর সাথে বিভৎস আচরণ করা এটা নারীবাদীর কুফল।

কিছু বলদ আছে এই সমাজে। তারা কথায় কথায় পুরুষতান্ত্রিক পুরুষতান্ত্রিক বলে মুখে ফেনা তুলে। এদের জন্যই আজকের নারীদের এমন উপহার। ওদেরকে বিয়ে করে নিয়ে নারীরা নারীতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করছে দেখে ভালোই লাগছে।

লেখক: সম্পাদক-নুরবিডি ডটকম।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য