শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

কী নিয়া আন্দোলন হওয়া উচিত? মঈনুল ইসলাম তুহিন :


তামাদ্দুন২৪ডটকম:

আবরার মারা গেছেন। তিনি শহীদ। আবরার হত্যার বিচারের দাবি কার্যকর করতে হবে। খুনিদের প্রত্যেকের বিচার হইতে হবে। এই ইনিশিয়াল দাবিটা সকলেরই। এইটা যদি যথাযথভাবে কার্যকর করা যায়, তা হবে অনেক বড় সাফল্য।

কিন্তু বিচার হবে কিনা— এই আশঙ্কা সকলেরই আছে। বিচার তো আপনি করবেন না। বিচার হবে এক দীর্ঘ প্রক্রিয়ায়, ততদিনে হয়ত আরো দুই একটা লাশ পড়বে, আগের বিচারের কথা লোকে ভুইলাও যাবে। অতীত অভিজ্ঞতা যথাযথ বিচারের নিশ্চয়তা দেয় না।

অনেকগুলা খুনের বোঝা আমরা মাথায় নিয়া ঘুরতেছি, অনেকগুলি রক্তের দাগ এখনও শুকায় নাই। এই রেজিমের হাতে, দলমত নির্বিশেষে অনেকগুলা রক্তের দাগ লাইগা আছে। লাশের এই মিছিল অনেক বড়— অভিজিৎ রায়, দীপন ভাই, শাপলা চত্বরের নাম না জানা শহীদেরা, সাগর-রুনি, বিশ্বজিৎ, আবু বকর, হাফিজুর, ছাত্রলীগ করতে আইসা বড় ভাইদের হুকুমের বলি অনেক কর্মী, ছাত্রদল ও ছাত্র শিবিরের বহু কর্মী বা নিছক শিবির সন্দেহে নিহত ব্যক্তিরা— লাশের এই মিছিল অনেক দীর্ঘ। আপনি এদের যেকোন এক দলের রাজনৈতিক পরিচয়ের পক্ষে দাঁড়াইতে পারেন, কিন্তু এই সব মিলাইয়াই বাঙলাদেশ। এদের সকলের খুনের প্রেক্ষাপট আলাদা, এদের বোধ-বিশ্বাস বা চিন্তার ধরণও হয়ত অনেক আলাদা। কিন্তু এই সবগুলা খুনই এক অদৃশ্য সুতায় একসাথে গাঁথা। সেই সুতার অস্তিত্ব আপনি তখন টের পাবেন, যখন দেখবেন যে, এই একটা খুনের বিচারও আজ অবধি হয় নাই।

তাইলে আবরারের লাশ কী মেসেজ দেয়? আমাদের আন্দোলন কী নিয়া হওয়া উচিত? শুধু বিচার? না। শুধু বিচারে কাজ হবে না, কারণ, ঘটনার উৎসমুখ বন্ধ না হইলে, বিচার ব্যাপারটার আর তেমন কোন ভিত্তিই থাকে না। একটা দানব সিস্টেমের চিপায় পড়া কয়েকটা মানুশের বলিমাত্র আমাদের ওয়ান এন্ড অনলি দাবি না হওয়া উচিত। আপাতত, খুব স্পেসিফিক কয়েকটা দাবি জোরালো হওয়া দরকার—

এক. সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থিকা সন্ত্রাস, দখলদারিত্ব ও ফ্যাসিস্ট রাজনীতির বিদায় ঘটাইতে হবে। ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ না কইরা, বরং যথার্থ রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করা লাগবে।

দুই. এজন্য প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রথম বর্ষ থিকাই বৈধ সিটের ব্যবস্থা করা লাগবে। ছাত্রলীগ না, সিট দেবে প্রশাসন। ছাত্রলীগের সিট ব্যবসা বন্ধ করা লাগবে।

তিন. গণরুম, গেস্টরুমের মত অবৈধ ও সন্ত্রাসী প্রথা বন্ধ করা লাগবে।

চার. প্রত্যেকটা ছাত্রের মতপ্রকাশের অধিকার এবং রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা লাগবে। ভার্সিটি প্রশাসনের দায় থাকবে তা নিশ্চিত করার। প্রয়োজনে আইন কইরা এই অধিকার সংরক্ষণ করতে হবে।

এই দাবিগুলি আজকের না, অনেক দিনের। আবরার হত্যার প্রেক্ষিতে এই দাবিগুলি জোরালো হওয়া দরকার। যদি আবরারের লাশের বিনিময়ে শিক্ষার্থীরা জোরালোভাবে এই দাবিগুলি নিয়া দাঁড়াইতে পারেন, সেইটা হইতে পারে এই আন্দোলনের ইনিশিয়াল সাফল্য। আবরারের লাশ এই দেশের প্রত্যেকটা ক্যাম্পাসে গইড়া ওঠা টর্চার সেল আর অপ্রশাসনিক ক্যাডারতান্ত্রিক সিট বন্টন এবং ছাত্রদের মন-মনন ও চিন্তার উপর সন্ত্রাসী নিয়ন্ত্রণরে যদি সমূলে উৎখাত করতে না পারে, তাইলে আবরারের লাশটি বৃথা যাবে।
লেখক: তরুণ বুদ্ধিজীবি ও কলামিস্ট

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য