শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

বাংলাদেশ আরও একজন দেশপ্রেমিককে হারাল: মুহাম্মদ বিন ওয়াহিদ


তামাদ্দুন২৪ডটকম:

গতকাল বাংলাদেশের মানুষ আরও একজন অভিভাবক এবং দেশপ্রেমিককে হারাল।
যাঁর নাম হাফেজ মাওলানা অধ্যাপক এটিএম হেমায়েত উদ্দিন। তিনি ছিলেন একজন আদর্শিক মানুষ। সবার হৃদয়ের গভীরে জায়গা করে নিতে পেরেছিলেন খুব সহজে। তাঁর অমায়িক ব্যবহার আর অনুচ্চ শব্দের কথাবার্তা মানুষকে আকর্ষণ করতো খুব বেশি।
তবে, অন্যায়ের সাথে তিনি আপোষ করেননি কখনই। মানুষের দাবি আদায়ের জন্য কিংবা অনৈতিক কোনো কাজের বিরুদ্ধে যখন তিনি বজ্রকণ্ঠে হুঙ্কার দিতেন , তখন ১৯৭১ এরমতই কেঁপে ওঠতো যালিমদের ভিত।
তিনি প্রথমে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন এবং পরবর্তীতে ইসলামী আন্দোলনে যোগ দেন।
অথচ, তাঁকে দেখে কিংবা তাঁর আচার-আচরণে সেটা বোঝার উপায় ছিল না। তিনি সবার সাথেই মিশতেন। সবার সেমিনারেও যেতেন এবং তিনি ছিলেন ঐক্য প্রয়াসি একজন নেতা। ইসলামের স্বার্থে দলমতের কোনো পার্থক্য তিনি মানতেন না। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলতে চাইতেন।

আজকের এই দিনের আদর্শ মানুষের কথা যদি বলতে বলা হয়, তাহলে নিঃসন্দেহে এটিএম হেমায়েত উদ্দিনের নামটাই বলতে হবে। তিনি সবার কাছে ছিলেন সমান জনপ্রিয়। তিনি ছিলেন রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রথম সারির নেতা।

তাঁর জন্ম বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জে। পিতার নাম মাওলানা আবদুল আলী। লেখাপড়ার হাতেখড়ি হয় বাবার কাছেই। অতঃপর কুরআন শরীফের হিফজ সম্পন্ন করেছেন খুলনাস্থ শিরোমণি হাফিজিয়া মাদরাসায়।
পর্যায়ক্রমে ঢাকা আলিয়া এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে সুনামের সাথে পড়াশোনা করেন।

তিনি ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সাথে গভীর সম্পর্ক তৈরি করেছিলেন। ১৯২৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ জমিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়ার কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন ১৯৮১-৮৩ পর্যন্ত।

এছাড়াও ৮০ দশকে হাফেজ্জী হুজুরের সাথেও ইসলামের নানাদিক নিয়ে কাজ করেন নিষ্ঠার সাথে। পরবর্তীতে হাফেজ্জী হুজুর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিলে সেখানেও কাজ করেন একাগ্রচিত্তে। রাতদিন মেহনত করেন ইসলামী খেলাফত প্রতিষ্ঠার জন্য।

তারপর হাফেজ্জী হুজুর রহ. ইন্তেকাল করলে চরমোনাই পীর সাহেব সৈয়দ ফজলুল করীম রহ. এর ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনে যোগদান করেন।
এখানেও তিনি কাজ করে গেছেন সুনামের সাথে। জেল যুলুমকে ভয় করেননি। রক্তচক্ষুকে গ্রাহ্য করেননি। মিছিল মিটিংয়ে থেকেছেন সামনের সারিতে। পুলিশি হামলা-মামলার তোয়াক্কা করেননি এতোটুকুও। বাবরি মসজিদ ভাঙ্গার প্রতিবাদও করেছিলেন বলিষ্ঠ কণ্ঠে। একারণে তাঁকে কারাভোগও করতে হয়েছিল। নাস্তিক-মুরতাদদের বিরুদ্ধেও তিনি অসংখ্য মিছিল-মিটিং করেছেন।

সত্যি কথা বলতে কি, জীবনের মায়া উপেক্ষা করে ন্যায়ের পথে সংগ্রাম করে যাওয়াটাই যেন ছিল তাঁর জীবনের ব্রত।

তাঁর স্বপ্ন ছিল একটি সুন্দর ইনসাফপূর্ণ ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম করা। তিনি চাইতেন দেশে খুনাখুনি, আহাজারি, খুধার কারণে মানুষ মরে যাওয়া বন্ধ করতে। যুবকদেরকে খুব ভালোবাসতেন তিনি। কাছে ডেকে নসিহত করতেন। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতেন। তিনি চাইতেন দেশের সেবায় যুবকরা সোচ্চার হোক। অগ্রণী ভূমিকা রাখুক! অন্যায়, অত্যাচারের প্রতিবাদ করুক! তিনি ছিলেন একজন সফল শিক্ষকও। অসংখ্য ছাত্রের সোনালী জীবনের দক্ষ কারিগর তিনি ।

তাঁর স্বাতন্ত্রিকতার সব'চে উজ্জ্বল জায়গাটি হল, কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিই সমালোচনার উর্ধ্বে নন, কিন্তু তাঁর বেলায় এই কথাটি ঠিক যায় না। তাঁর সমালোচনা করতে শোনা যায়নি কাউকে। বিরোধী দলকেও না। তিনি রাজনীতি করেছেন নিঃস্বার্থভাবে। পদের লোভ, অহমিকা কখনও তাঁকে স্পর্শ করতে পারেনি। তিনি শেষ জীবন পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্বে ছিলেন।

গতকাল ১০ অক্টোবর ২০১৯ সকাল সাড়ে দশটার দিকে এই মহান নেতা পরপারে পাড়ি জমান । আল্লাহ তাআলা তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সুউচ্চ মাকাম দান করুন! আমিন!

লেখকঃ সম্পাদক-ঈশান

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য