শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সেবামূলক অনেক সংগঠনের প্রয়োজন: সৈয়দ শামছুল হুদা


তামাদ্দুন২৪ডটকম:

সম্প্রতি বেশ কয়েকটি নতুন সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। এর প্রতিটি আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। আমাদের বদ্ধমুল ধারণা যে, একটি নতুন সংগঠন হওয়া মানেই পুরাতনকে ভেঙ্গে ফেলা। পুরাতনকে ধ্বংস করে দেওয়া। এটা কখনোই সঠিক নয়। নতুন যে কয়েকটি সংগঠন আত্মপ্রকাশ করেছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- মাওলানা হাসান জামিল সাহেবদের নেতৃত্বে “রাবেতাতুল ওয়েযীন বাংলাদেশ”, মাওলানা মুফতি সাখাওয়াত হুসাইন রাজী সাহেব কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত “রাহমাতুল্লিল আলামীন ফাউন্ডেশন”, মাওলানা হাবিবুর রহমান মিছবাহ এর নেতৃত্বে “ ইকরামুল মুসলিমীন ফাউন্ডেশন, মাওলানা আবদুল গাফফার এর নেতৃত্বে আত্মপ্রকাশ ঘটতে যাচ্ছে জাতীয় লেখক পরিষদ’ ।

এ ছাড়াও আরো কিছু সংগঠন নতুন চোখে পড়ছে। এগুলোর গুরুত্ব এখন বলে শেষ করা যাবে না। এগুলোর প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। যে কোন সংগঠনে খুব বেশি লোক কাজ করে না। সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো সক্রিয় থাকে বড়জোর 15/20জন দ্বারা। তো একটি সংগঠন কোন অবস্থাতেই জাতীয় চাহিদা পূরণ করতে পারে না। দেশে রাজনৈতিক দল বেশি থাকা উচিত নয়। কিন্তু সামাজিক, সেবামূলক, সাংস্কৃতিক হাজার হাজার সংগঠন থাকা উচিত। তাহলে এর মাধ্যমে অধিক সংখ্যক মানুষ এসব কাজের সাথে সম্পৃক্ত থেকে নিজেদের মেধা, প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে সক্ষম হবে।

বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রকার ব্যানারের প্রয়োজন হয়। আপনি হঠাৎ করে চাইলেই একটি ব্যানার দাঁড় করাতে পারবেন না। আর হলেও সেটা মান সম্পন্ন হবে না। যদি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সংগঠনগুলো আগে থেকেই সক্রিয় থাকে, সচল থাকে, তাহলে প্রয়োজনের সময় এগুলোর ভূমিকা হয়ে উঠবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সমাজটাকে আমুল পরিবর্তন করতে হলে ব্যাপকভাবে এসব সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সেবামূলক সংগঠন গড়ে তুলতে হবে।

তবে যে কাজটি খুবই গুরুত্বপুর্ণ, সেটা হলো, পারস্পরিক রেষারেষি যেন না থাকে। যার যার কাজ তার তার করে যেতে হবে। একে অপরকে সহযোগিতার মনোভাব রাখতে হবে। একে অপরকে শত্রু ভাবার কোন অবকাশ নেই। আপনি একটি নতুন সংগঠন নিয়ে মাঠে নেমে দেখুন, কাজের কত জায়গা পড়ে আছে। কেন আপনি একে অপরের বিরুদ্ধে ঠেলাঠেলি করতে যাবেন? ইসলামী ধারার এসব সংগঠন কম থাকার কারণেই সমাজে অপরাধ প্রবণতা মাথা ছাড়া দিয়ে উঠছে।

তুরস্ক সফরে জেনেছি, তুরস্কে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে কাজ করার জন্য সেখানে হাজার হাজার সংগঠন আছে। সেখানে রেসালায়ে নূর এর দাওয়াতকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে অসংখ্য সংগঠন কাজ করছে। একেক এলাকায় একেক নামে তারা কাজ করছে। কারো সাথে কারো বিরোধ নেই। বিভিন্ন সংগঠন শুধু দেশেই নয়, আর্ন্তজাতিক পরিমন্ডলে কাজ করার মিশনেও নেমে পড়েছে। শুধু আমরা পড়ে রয়েছি, কে কাকে কিভাবে জামার পেছনের অংশ টেনে ধরে নামিয়ে আনবো। আসুন না, এসব নোংরা প্রবণতা থেকে বের হয়ে আসি। মানুষকে কিছু দেওয়ার চেষ্টা করি।

আমরা খুব অল্প কাজ করেই মনে করি, আলহামদুলিল্লাহ, অনেক কিছু করে ফেলেছি। আসলে জাতির প্রয়োজন ও চাহিদা অনুপাতে আমাদের খেদমত কিছুই না। জাতি অনেক বড় জায়গাটায় দেশের সৎ মানুষদের দেখতে চায়। কিন্তু নানা অভিজ্ঞতার সীমাবব্ধতা আমাদেরকে পেছনে ফেলে দেয়। ছোট ছোট সংগঠনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে বিভিন্নমুখি অভিজ্ঞতা অর্জনে সহায়তা করা যেতে পারে। আমাদের কারো উদ্দেশ্য যেন এমন না হয় করার জন্যই করা। অমুকে করছে, আমিও একটা করি। একটু আলোচনায় থাকি। এমন যেন না হয়। গঠনতন্ত্রে যা যা উল্লেখ থাকে, তা যদি বাস্তবায়িত করে প্রতিটি সংগঠন তাহলে দেখা যাবে, এর দ্বারা অনেক উপকার হবে।

মহাসচিব : বাংলাদেশ ইন্টেলেকচুয়াল মুভমেন্ট (বিআইএম)

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য