শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

বাবা-মা’র পাশে কিছু সময়: মাসউদুল কাদির


তামাদ্দুন২৪ডটকম:

মায়ের কাছে গেলাম। বাবার সঙ্গে সামান্য সময় কাটালাম। অনেক অনেক কথা শুনলাম। নিজেদের জন্য তাদের কোনো ভাবনাই নেই। বাবার বয়স বেড়েছে, বেড়েছে মায়েরও। দেহের নানা জায়গায় ব্যথা, নামাজ পড়তে, চলতে ফিরতে কষ্ট হয়। তবু নিজেদের চাহিদার কথা বলতে চান না, এড়িয়ে যান। আমি ইনিয়ে বিনিয়ে নানা কথা বলে শুনতে চাইলাম, দুচারটে মায়ের কষ্টের গল্প, বাবার ভেতরকার অজানা কিছু কথা। দেখলাম, তারা সামান্য ঢেঁকুর তোলেন তুলতেও চান না।
আমাদের অনেকগুলো ভাই। ভাতিজা-ভাতিজিও কম নয়। বিশাল সংসারে আগলে রেখেছেন বাবা। সবাই যার যার জায়গায় কাজকম্ম করে চলছে। কেউ বিদেশে কিংবা দেশে। বাবার স্বপ্নের মধ্যে সবাইকে এক হয়ে চলায় আনন্দ খোঁজে পান। কিন্তু আমরা বিশেষত আমি এই আনন্দে খুব কমই অংশ নিতে পারি। নিজেদের কত কাজ, কত দায়িত্ব- তা নিয়ে ব্যস্ততা। মায়ের অসুখের কথা, বাবার ওষুধের কথা কতটুকুই বা খোঁজ নিতে পারি। মাঝে মাঝে খুব মনে পড়ে। নিজের অপরাধবোধ তাড়া করছিল কদিন যাবৎ।

গতকাল আমার এক আত্মীয়ের কাছে বল্লাম, সকালে বাড়িতে যাবো। সবসময় হবিগঞ্জ শহর থেকে ফিরে আসি ঢাকায়। তাড়াহুরোর এই গমনাগমনে মাঝখানে বেশির ভাগই থামা হয় না। একদিকে সময় অন্যদিকে কাজ। বাড়ির কথা শোনে আত্মীয় বললো, বাড়িতে কেন? দুই বার বলার পর আমার খুব লেগেছিল হৃদয়ে। কারণ, এবার ইচ্ছেটাই ছিল এমন। আমি আস্তে করে বল্লাম, আমি মায়ের কাছে যাবো, শেকড়ের কাছে যাবো।

এরপর মানুষের আর কোনো কথা থাকে না। পাশের কয়েকজন মুচকি হাসলো।
মায়ের ঘরে ঢোকার পর দেখলাম, সেখানে কেউ নেই। বাড়ির কেউ জানতেও পারলো না আমি এসেছি। মিনিট দুয়েক পর আমার ছোট্ট এক ভাতিজা (দু বছর বয়স) আমাকে দেখেই দিলো দৌড়। সে প্রচারে বেরিয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই মা এসে হাজির। পুঁটিমাছের ভাজি দিয়ে ভাতও খেতে হলো। হৃদয়ের জানালায় আমি কিছুটা প্রশান্তি অনুভব করলাম।

সামান্য সময় বাড়িতে কাটালাম সত্য, ফুয়েল গ্রহণের ক্ষেত্রে এটা যে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।
হে আল্লাহ। আমার মা এবং বাবাকে তুমি নেক হায়াত দান করো। আমীন।

লেখক: বিশিষ্ট কবি ও ছড়াকার

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য