শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

ভোলায় রাসূল (সা.) এর নামে কটুক্তির প্রতিবাদে শহীদ হলো যারা: এইচ.এম. মুশফিকুর রহমান


তামাদ্দুন২৪ডটকম:‘ভোলার বোরহানউদ্দিনে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক যুবকের বিচারের দাবিতে ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে বিক্ষোভ থেকে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। একপর্যায়ে পুলিশের গুলিতে চারজন নিহত হয়েছেন। নিহত চারজনকে নিজেদের কর্মী-সমর্থক বলে দাবি করেছে তৌহিদী জনতা। সংঘর্ষে ১০ পুলিশ সদস্যসহ দেড় শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ঈদগাহ মাঠে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ বলছে, এক যুবকের হ্যাক হওয়া আইডি থেকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার বক্তব্য ছড়ানোর ঘটনা থেকে এ পরিস্থিতির সূত্রপাত।

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আল্লাহ ও হজরত মুহাম্মদ (সা.) কে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে বিপ্লব চন্দ্র শুভ নামের এক ব্যক্তির বিচারের দাবিতে ঈদগাহ মাঠে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে তৌহিদী জনতা। এ সমাবেশের জন্য পুলিশ অনুমতি দেওয়ার আগেই তারা মাইকিং করে। পরে সমাবেশের জন্য পুলিশ অনুমতি না দিলেও সকাল নয়টা থেকে লোকজন মাঠে জড়ো হতে থাকে। মিছিল করতে না পেরে সেখানেই অবস্থান শুরু করে তারা। পরে পুলিশ ‘বাটামারা পীর সাহেব’ মাওলানা মহিবুল্লাহকে সেখান থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করে এবং তাঁকে ঈদগাহ জামে মসজিদের দোতলায় নিয়ে যায়। ওই সময় গুঞ্জন ওঠে, মাওলানা মহিবুল্লাহকে পুলিশ আটক করেছে। এ গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পুলিশ গুলি ছুড়লে চারজন নিহত হন। নিহত চারজন হলেন বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাহফুজ (৪৫), বোরহানউদ্দিন উপজেলার মহিউদ্দিন পাটওয়ারীর ছেলে মাহবুব পাটওয়ারী (১৪), মনপুরা হাজিরহাট এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান (৪০) ও বোরহানউদ্দিনের মো. শাহিন।’ [সূত্র প্রথম আলো: ২০ অক্টোবর, ২০১৯]

এ বিশ্ব চরাচরে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মত আরেকজন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। মানুষ হিসেবে জীবন যাপন করতে যতগুলো গুণ অর্জন করা প্রয়োজন সবগুলোই তাঁর চরিত্রে সমাহার ঘটেছিল। তাঁর চরিত্রের নির্মলতা সর্বজনবিদিত। অথচ তাঁকে নিয়েও মানুষ কুৎসা রটনা করলে তখন লজ্জায় মাথা নিচু হয়ে যায়। আমরা লক্ষ্য করেছি অতীতের জাহেলী যুগের বর্বর অসভ্য মানুষগুলো তাঁকে বিভিন্নভাবে অপবাদ দিয়েছে। তথাপিও তাদের অপবাদের মধ্যে শালীনতাবোধ বিবর্জিত হয়নি। আর বর্তমান যুগের নাস্তিক, মুরতাদ ও বিধর্মীরা যে ভাব ও ভাষায় অপবাদ দিচ্ছে, তাতে শালীনতা তো দূরে থাক, অতি পাশবিকতা ও নৃশংসতাকেও হার মানাবে। তাঁর একান্ত ব্যক্তি জীবন সম্পর্কে কুৎসিত মন্তব্য করতেও এদের বিবেকে বাধে না ও অন্তর প্রকম্পিত হয় না। এ বিষয়ে তারা জাহেলী যুগের চেয়ে বহু ধাপ এগিয়ে। আবার এরাই হল সভ্যতার ধারক ও বাহক! সুশীল সমাজের প্রগতিশীল একজন বিবেকবান মানুষ (?) তনুমনে ভাবলে সে যুগ আর এযুগের মানুষের মাঝে কি কোন পার্থক্য পাবে? এটাই এখন ভাবনার বিষয়। এভাবে পৃথিবীর জন্মলগ্ন থেকে অদ্যাবধি দুশ্চরিত্রের কিছু ব্যক্তি সৎ মানুষদেরকে নানাভাবে কষ্ট দিয়েছে। আর সবলরা দুর্বলদের উপর চালিয়েছে বহুবিধ নির্যাতন ও অত্যাচার। কিন্তু আজ নির্যাতনকারী ঐসব নোংরা চরিত্রের মানুষগুলো সর্বমহলে ধিকৃত, নিন্দিত। আর মুখবুঁজে নিরবে যাঁরা নির্যাতন সহ্য করে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ জানিয়েছিলেন তারাই স্মরণীয়, বরণীয় ও নন্দিত। তাঁদের নামে মানুষ শ্রদ্ধাভরে মনখুলে কল্যাণ কামনায় আল্লাহর নিকট দু‘আ করেন। রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে গালি বা ইসলামের অবমাননা করে কেউ সফলতা পাবে না। ইহ-পর জগতে তাকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হবে।
আজ প্রায় শতকরা ৯০ ভাগ মুসলিমের দেশে আমাদের প্রিয় নবী রাসূলুল্লাহ (সা.)কে নিয়ে কটূক্তি ও অবমাননাকর বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে, বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও ব্লগে প্রিয় নবীকে নিয়ে এমনসব কথা লেখা হচ্ছে, যা কোনো সামান্যতম ঈমানের অধিকারী মুমিনকেও নাড়া না দিয়ে পারে না। এমতাবস্থায় আমাদের একেবারে বসে থাকার সুযোগ নেই। প্রিয় নবীর উম্মাত হিসেবে প্রত্যেককে তার নিজ নিজ জায়গা থেকে সাধ্য অনুযায়ী ভূমিকা পালন করতে হবে। ঈমানের দাবী হলো, লিখনী, বক্তব্য, আলোচনা, খুতবা, জনসংযোগ ও মিডিয়াসহ সর্বস্তরে শরী‘আহসম্মত বিভিন্ন উপায়ে প্রতিবাদ করার মাধ্যমে এ ধরনের মহা অন্যায় কাজের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া।

ভোলায় তৌহিদী জনতার উপর গুলি বর্ষনের মতো পুলিশের এমন হিংস্র আচরণ এখন সারা দেশের চিত্র। অপরাধ দমনের দায়িত্ব যাদের, সেই পুলিশই এখন এমন সব অপরাধ কর্মকান্ড বেপরোয়া। ঘুষ, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, নির্যাতন, ব্লাকমেইলিংয়ের পাশাপাশি ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের মতো ভয়ঙ্কর অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে এই বাহিনীর কতিপয় সদস্য। এমনি এক পরিস্থিতিতে সরকারের ভাবমূর্তিও নষ্ট হচ্ছে ব্যাপক। বন্ধু নয়, পুলিশ যেন এখন আতঙ্কে পরিণত হয়েছে সাধারণ মানুষের কাছে। জনমনে প্রশ্ন, বেপরোয়া এ পুলিশকে রুখবে কে? বিশিষ্টজনরা এ ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় পুলিশে লোক নেওয়া বন্ধ করতে হবে। পুলিশকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের প্রথাও বন্ধ করার কথা বলেছেন তারা। এসব ঘটনায় সারা দেশ তোলপাড়। সংশ্লিষ্টরা বলছে, পুলিশের কতিপয় সদস্যের হিংস্র আচরণে পুলিশ কর্মকর্তারাও হতবাক।

দেশবাসীর প্রত্যাশা ভোলায় তৌহিদী জনতার উপর পুলিশের গুলি বর্ষনের বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির আওতায় এনে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আল্লাহ ও হজরত মুহাম্মদ (সা.) কে নিয়ে কটূক্তিকারী বিপ্লব চন্দ্র শুভকে কঠিন শাস্তি প্রদান করা।

লেখক: সহযোগী সম্পাদক-মাসিক তানযীমুল উম্মাহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য