শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

আরেকটি অপারেশন সিকিউর শাপলা। মুহাম্মদ বিন ওয়াহিদ


তামাদ্দুন২৪ডটকম:
বাংলাদেশের মানুষ একেরপর এক নির্মম হত্যাযজ্ঞের সাক্ষী হয়েই চলেছে । ৯৩% অর্থাৎ সংখ্যায় গরিষ্ঠ হয়েও মুসলমানরা যেন ঠিক এই স্বাধীন দেশে স্বাধীন নয়, বরং ভয়ংকর রকম পরাধীন। যার বড় দৃষ্টান্ত হল সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ভোলার বোরহানউদ্দিনের ন্যাক্কারজনক ঘটনা। মুসলমানদের ধর্মীয় কোনো দাবীই যেন এই দেশের সরকার তেমন একটা গ্রাহ্য করতে চায় না। যেগুলোও বা করে, সেগুলো তোপের মুখেই করে। নিজের ইচ্ছেয় নয়।

২০১৩ সালে মহানবী হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লামকে নিয়ে যখন নাস্তিক ব্লগারকর্তৃক চরম পর্যায়ের ধৃষ্টতামূলক কটুক্তি, অবমাননার প্রকাশ পেল, তখন কিন্তু সরকার অপরাধীদেরকে শাস্তির আওতায় আনেননি। বরং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে তাদের মদদ যুগিয়ে গেছেন। আর রঙচঙ মেখে বলেছিলেন, "তাদের আইডি হ্যাক করা হয়েছে"। এ যেন ছিল কোনো বিদেশি প্রভুদেরকে খুশি করার ঘৃণ্য চেষ্টা! আর সাধারণ মুসলমানরা তখন শাস্তির দাবি জানালে তাদেরকে উপহার দেওয়া হয়েছিল "অপারেশন সিকিউর শাপলা" । শতশত মানুষকে মধ্যরাতে ইলেক্ট্রিসিটি বন্ধ করে, নির্মমভাবে করা হয়েছিল হত্যা । যার থেকে বাদ পড়েনি ছোট ছোট শিশুরাও। ইতিহাসের কালো অধ্যায়ে তা লিপিবদ্ধ আছে ।

২০১৩ এর ৫ মে এর ঘটনা যেন আবারও ঘটেগেল বোরহানুদ্দীনে।
ভাবা যায়, যেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব হল, মানুষদেরকে নিরাপত্তা দেওয়া, খুন-গুম থেকে বাঁচানো, আজ তারাই কিনা সরলমনা মুসলমানদের ওপরে গুলি চালালো! তাঁদেরকে হত্যা করলো ! অথচ তাদের বেতন-ভাতা তো দেওয়া হয়ে থাকে এই সাধারণ জনগণের টাকা দিয়েই।
মুসলমানদের নবীর বিরুদ্ধে কেউ কটুক্তি করলে, সংবিধান অনুযায়ী তার প্রতিবাদ জানানোর অধিকার তাঁদের আছে ! আপনি যদি এই বৈধ দাবীটাকে মুসলমানদের শুধুমাত্র "আবেগ" বলে ব্যাখ্যা করতে চান, তাহলে ভুল করবেন। কারণ, এটা শুধু আবেগের বিষয় নয়, বরং তাঁদের ঈমানের দাবি।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলে দিয়েছেন, (তরজমা) বলুন, তোমাদের পিতা, পুত্র, ভাই, স্ত্রী, আত্মীয়-স্বজন এবং ওই সম্পদ, যা তোমরা উপার্জন কর এবং ব্যবসা-বাণিজ্য, যার ক্ষতির তোমরা আশঙ্কা কর এবং ঐ ঘর-বাড়ি, যেখানে তোমরা বসবাস কর, যদি তোমাদের কাছে আল্লাহর চেয়ে, তাঁর রাসূলের চেয়ে এবং তাঁর রাস্তায় জিহাদের চেয়ে সেগুলো অধিক প্রিয় হয়ে থাকে তাহলে অপেক্ষা করো আল্লাহর বিধান আসা (শাস্তি) পর্যন্ত। আল্লাহ সত্যত্যাগী সম্প্রদায়কে সৎপথ প্রদর্শন করেন না। (সূরা তাওবা : ২৪)

ওপরে বর্ণিত আয়াতের অর্থ দ্বারা বোঝা যায়, নবীজীর শানে কেউ অপ্রীতিকর কোনো আচরণ করলে, তাকে শাস্তি দেওয়া বা শাস্তির দাবি জানানো, এটা মুসলমানদের ঈমানেরই দাবি। প্রতিবাদ না করলে, শাস্তি না চাইলে তাঁদের ঈমানের ব্যাপারেই সমস্যার সৃষ্টি হবে। আন্দোলনরত মুসলমানদের ওপরে গুলি চালিয়ে আপনি তাঁদের ঈমানকেই কি কেড়ে নিতে চাননি ?


পুলিশের লোকজন দাবি করছেন, সাধারণ মুসলমান ইটপাটকেল ছুড়লে তখনই নাকি আত্মরক্ষার জন্য তারা ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে ছিলেন।
তাহলে প্রশ্ন জাগে, সাধারণ লোকজন যদি তাদের ওপরে ইটপাটকেল ছুঁড়েই থাকেন, আর তারা যদি আত্মরক্ষার জন্যই ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে থাকেন, তাহলে কেন শুধু মুসলমানরাই শহীদ হলেন? আহত হলেন শতাধিক? পুলিশ সদস্যদের একজনও কেন আহত হলেন না? যদি আহত হয়েও থাকেন, তার ছবি কেন মিডিয়াতে এলো না?
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল, যাচাই-বাছাই ছাড়াই অভিযোগ আনিত ব্যক্তির ফেসবুক আইডিটি হ্যাক করা হয়েছিল,এ কথা বলে তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিয়ে, সাধারণ মুসলমানদেরকেই কেন থামাতে চাইছিলেন তারা ? এটা কি ভিন্ন কোনো ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত প্রদান করে না?

ব্যক্তি হিসেবে বিপ্লব চন্দ্র শুভ, যার ব্যাপারে অভিযোগ আনা হয়েছে, তাকে অধিকাংশ মানুষই চেনেন না। ভোলার সাধারণ মুসলমানরা কেবল অপরাধীর বিচার চেয়েছিলেন। ব্যক্তি শুভর নয়।
একটা ভিডিও ক্লিপে দেখা গেছে, পুলিশ একটি মাদরাসার কক্ষে আশ্রয় নিয়েছেন। আর মাদরাসার ঠিক বাইরে সাধারণ মুসলমানদের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই ঘটনার পূর্বের ঘটনা কী ছিল? পুলিশরা কী এমন করেছিল, যার জন্য তাদেরকে মাদরাসার কক্ষে আশ্রয় নিতে হয়েছিল? অপরাধী কি তাহলে পুলিশি-নিরাপত্তায় ছিল? এরপরে আশ্রয় গ্রহণ করা পুলিশদেরকে দেখা গেছে তারা গুলি ছুঁড়ছেন।

আচ্ছা,তারা যদি ফাঁকা গুলিই ছুঁড়ে থাকেন, তাহলে এক দুইজনের গায়ে অনিচ্ছাসত্ত্বেও গুলি লাগলেও লাগতে পারত, কিন্তু শতাধিক লোকজনের গায়ে গুলি লেগে যাওয়া, এটা কি ফাঁকা গুলি ছোঁড়ার নমুনা? এটা কি তবে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডেরমত নয়? ওই একজন শুভ আসলে কে , পুলিশ যার নিরাপত্তা দিতে গিয়ে পাঁচজন মুসলমানদেরকে হত্যা করতেও দ্বিধাবোধ করলো না ?

আসলে, প্রশাসন বা সরকার এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে ব্যর্থ হলেও ইতিহাস কিন্তু ব্যর্থ হয়নি! ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখবেন, বাংলাদেশে আওয়ামী শাসনামলে হিন্দু কোনো অপরাধীর বিচার করা হয় নাই । যদি করা হয়েও থাকে , তবে সেটা গ্রেপ্তার পর্যন্তই সীমাবদ্ধ । এর চে' বেশি কিছু ঘটতে আপনি দেখেননি এবং দেখবেনও না। এটাই বাস্তবতা। কারণ, তাদের ক্ষমতার মূল ভিত্তি হল ভারতীয় আগ্রাসনকে অবিরত প্রণাম জানিয়ে যাওয়া! হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপরে বরাবরই সহনশীলতা দেখিয়ে ভারতকে তুষ্ট রাখা !

সরকার বা দায়িত্বশীলদের উচিত হবে , ভোলার বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে ক্ষতিয়ে দেখা এবং অপরাধী যেই হোক, খুব দ্রুত ব্লাসফেমি আইন প্রতিষ্ঠা করে তার শাস্তি নিশ্চিত করা ;যেন আর কোনো ব্যক্তি নবীজী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লামকে নিয়ে, বা অন্যকোনো ধর্ম নিয়ে কটুক্তি করার দুঃসাহস না দেখায়!

লেখকঃ সম্পাদক-ঈশান

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য