শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

প্রধানমন্ত্রী সমীপে একজন সমাজচিন্তক’র চিঠি


তামাদ্দুন২৪ডটকম: আমি এখনও নাস্তা করতে পারিনি। কারণ আপনার সাথে আমার কিছু কথা আছে। কথাগুলো সবার সামনেই বলি, কারণ আপনাকে একা পাওয়াতো আমাদের জন্য কল্পনাতীত।

সকালে খোঁজখবর নিতে ফেসবুকে ঢুকলাম। অনেকগুলো খণ্ডচিত্র পেলাম। ঘটনাস্থলের কয়েকজন মানুষ, পুলিশ, সাংবাদিক ও প্রাইমিনিস্টারসহ অনেকের বক্তব্য মন্তব্য শুনলাম।

শুনে শুনে দেখতে দেখতে আমার মাঝে কিছু বলার ইচ্ছা জাগ্রত হলো। কিছু লিখতে হবে। কিছু বলতে হবে। আমার ভাবনা আমার উপলব্ধি পুরো সত্য, আংশিক সত্য নাকি অবাস্তব সেই বিবেচনা পাঠকের হাতে রইলো।

প্রথমেই কিছু প্রশ্ন জাগে-

ঘটনার সূত্রপাত ফেসবুকের ম্যাসেঞ্জার। মানে পারসোনাল সংলাপ। যেটা ব্যক্তিগত পর্যায়ের। সেটার বিষয়ে তার সাথে ব্যক্তিগতভাবে সমাধানের চেষ্টা হয়েছে কিনা?

সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার নামে মামলা দেয়া হয়েছে কিনা?

প্রতিবাদ সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হওয়ার পর কারা পুলিশকে মারার জন্য উদ্ধত হলো?
পুলিশ আত্মরক্ষার্থে টিয়ারশেল, গরম পানি বা অন্যকোন ব্যবস্থা না নিয়ে সরাসরি গুলি ছুড়তে গেলো কেন?

পুলিশ কীভাবে গুলি খেলো? সাধারণ মুসল্লীরা কি অস্ত্র বহন করেছে? মনে হয় না। তবে গুলি কি অন্য কেউ করেছে? নাকি অসর্তকতাবশত পুলিশের গুলিতেই পুলিশ আহত হয়েছে?
নিহতের সংখ্যা বলা হচ্ছে চার, পাঁচ, ছয়। কেউ কেউ বলছেন ১০/১২ জন। কোনটা সঠিক? নাকি আরো বেশি হবে?

এক পুলিশ অফিসার বললেন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছে। আসলে কি ? নিহত না আহত?
পুলিশ একজন নিহত যদি ধরাও হয় সেটা বড় নাকি ১০/১২ জন নিহত হওয়া বড়? পুলিশতো জনগণের বন্ধু। প্রয়োজনে পুলিশ জীবন দিবে তবুও জনগণকে বাঁচাতে হবে এটাইতো পুলিশের ধর্ম হওয়া উচিত। কারণ পুলিশ পালন করাই হয় জনগণের স্বার্থে।

আইডি হ্যাক কিনা? এটা কারো দাবি করার বিষয় না। তদন্ত করলেই বের হয়ে আসবে।
হ্যাকিংয়ের পুর্বেও সে এ রকম কিছু লিখেছে কিনা? তার তদন্ত করলেই সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে।

মূল কথা হলো-
আল্লাহ ও রাসুল সা. এর ব্যাপারে কটুক্তিকারী এরা কারা? তা সরকারকে খুজে বের করতে হবে।

এরা কেন এসব করে? স্বভাবগত কারণে? নাকি বিশৃংখলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে? এদের ব্যাপারে কঠিন বিচার নিশ্চিত না হলে দেশে সময়ে সময়ে এরকম উত্তেজনা-বিশৃংখলা সৃষ্টি হবেই। কারণ মুসলমান শুধু নয়, যেকোন ধর্মাবলম্বীমাত্রই তার ধর্মকে সম্মান করে। বিশেষ করে আমরা মুসলমানরা বোধহয় বেশিই ভালোবাসি ধর্মকে। ফলে আমাদের ধর্মীয় বিষয়ে কেউ কিছু বললে তা ঈমানের কারণেই মেনে নেয়া সম্ভব হয় না। তাই ১৬ কোটি মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধকে বুঝতে হবে। আইডি হ্যাক বলে তাদেরকে দমানো যাবে না।সত্যিকারের অপরাধীকে খুজে বের করে চরম শাস্তি দিতে হবে।
কেন শত শত মানুষকে হতাহত হতে হলো?

তার জবাব কিন্তু মাননীয় প্রাইম মিনিস্টার আপনাকেই দিতে হবে।

তাই পদবীর প্রতি শ্রদ্ধাপ্রদর্শন পূর্বক বলছি- দ্রুত বিচার নিশ্চিত করুন। ধামাচাপা কিংবা গোজামিল কিংবা শুধু সান্ত্বনার বাণীতে দমবার জাতি নয় এই রক্তদেয়া বাঙালি জাতি। যারা ৭১ এ রক্ত দিয়েছে তারা ১৯ শেও রক্ত দিতে পারবে। রক্ত দেয়া তাদের ব্যাপার নয়, অন্যায় করে কেউ টিকে থাকতে পারে না এই বাংলায়। আইয়ুব খান পারেনি। মুজিব গর্জে উঠেছিলেন বলে।
আশা করি আপনার একটা কঠিন বিচারই যথেষ্ট এদেশের সব বিশৃংখলাকারীদের দমানোর জন্য।

নয়তো অরাজকতার দাবানল ছড়াতেই থাকবে। আর বিশৃংখল দেশের প্রাইমিনিস্টার হয়ে থাকার চেয়ে সুশৃংখল দেশের সাধারণ নাগরিক হতে পারাও অনেক গর্বের, আনন্দের, প্রশান্তির।
আপনি নিশ্চয় শান্তিকামী, সিদ্ধান্ত আপনার। আপনার প্রতি আমার অন্য কারণে একটু বেশি দাবী আছে। সেটা না হয় আরেকদিন বলি।

মুফতী আফজাল হুসাইন
চেয়ারম্যান: ক্যারিয়ার বাংলাদেশ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য