শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

দুজন "তিনি"র গল্প বলি। আনাস বিন ইউসুফ


তামাদ্দুন২৪ডটকম:

দুর্ভাগ্যবশত এই "তিনি-দ্বয়কে" দেখা গিয়েছে
হেফাজত–আহুত ঢাকার বিক্ষোভ সমাবেশে।

উভয়জনকে আপনারা ভাল করে চেনেন। একজন দালালি করতে করতে এত উচ্চ শিখরে পৌঁছেছেন যে, তার নিজের ফেসবুক পোস্টের কমেন্টবক্সে গেলে একজন সাধারন মানুষও বুঝতে পারবে– স্বজাতিদের কাছে তিনি কতটা নিন্দিত প্রতারক রূপে প্রতীয়মান হয়েছেন। আর দ্বিতীয়জন "শেষ জীবনে গৃহবন্দী বাংলার বাঘ" -এর রাজনৈতিক জীবনের সকল অর্জনকে ম্লান করে দিয়ে খুনিদের সাথেই নিজের পথচলা ঠিক করে নিয়েছেন। তবুও যেকোনো কারণেই হোক, বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেইটে হেফাজতের ব্যানারের তাদেরকে দেখতে হলো।
___

প্রথমজন। তিনি নিজের নীতি আদর্শের কথা ভুলে উদোম গায়ে দালালি করে সর্বমহলে ইতিমধ্যেই গণধিকৃত হয়েছেন। একটি জাতিসত্তাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়ার মূল নায়কের নিরাপত্তার জন্যে "তিনি" নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। বলেছিলেন, গায়ের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও অমুককে 'তিনি' (এবং তার সাঙ্গরা) রক্ষা করবেন। তাই "তিনি" অঘোষিতভাবে অবাঞ্ছিত হয়েছেন আপন সমাজে।

তাগুতের সাথে মাত্রাতিরিক্ত উঠা-বসা বরং দৃষ্টিকটু মাখামাখির কারণে কালের এক ঐতিহাসিক কলঙ্কের সাক্ষী হয়ে আছেন আলেম সমাজের কাছে। অথচ এই "তিনি"র জন্যই একসময় লক্ষ লক্ষ মানুষ গলা ফাটিয়ে স্লোগান দিয়ে রাজপথ কাঁপিয়ে তুলতো।
.

সঞ্চালক "তিনি"র নাম মাইকে ঘোষণা করলেন। উপস্থিত বিক্ষুব্ধ তৌহিদী জনতার মাঝে কোনো উত্তাপ পরিলক্ষিত হলো না। নেই কোনো স্লোগান। সবাই নীরব। এই নিরবতা কেবলই নীরবতা নয়। এর মধ্যে নিহিত ছিল চাপা ক্ষোভ আর অনুচ্চারিত প্রতিবাদ।

মাইক হাতে নিলেন তিনি। বক্তব্য শুরু করলেন। তিনি তার বক্তব্যে এমন অনেক সত্য বলা শুরু করলেন– যা এই সময়ে তার মুখে একেবারেই বেমানান। তবুও তিনি সত্য বলা চালিয়ে গেলেন। কারণ, তাকে যে এই কথাগুলো বলতেই হবে। হকের ঠিকাদারী গ্রহণ করতে না পারলে রুটি-রোজগারেও তো ভাটা পড়বে।

নাহ! কোনো লাভ হল না। কেউ কোনো চিৎকার করছে না। "ঠিঈঈঈক" বলে আওয়াজ দিচ্ছে না। বক্তার বক্তব্যে সাথে ঐকমত্য পোষণ করে 'ঠিঈঈঈক' বলে চিৎকার করে ওঠার মতো কোনো আগ্রহ পরিলক্ষিত হল না উপস্থিত ছাত্র জনতার মাঝে। অথচ একটু আগেও তুলনামূলক অখ্যাত বক্তার বক্তব্য প্রদানকালে উপস্থিত তৌহিদী জনতা উচ্চকণ্ঠে 'ঠিঈঈক' বলে বলে উত্তর গেটের পুরো পরিবেশকে মুখরিত করে তুলেছিল। কিন্তু 'তিনি'র বেলায় ভিন্ন চিত্র দেখা গেল। আফসোস।

তিনি নিরাশ হবার নন। বিগত সময়ে তিনি যাদের সাথে দৃষ্টিকটু মাখামাখি করার কারণে নিজের অতীতের সকল অর্জনকে ম্লান করে দিয়েছিলেন সেই তাদের উদ্দেশ্যে হুঙ্কার ছেড়ে বলতে লাগলেন—
মাননীয় অমুক-তমুক! আপনাদেরকে এটা করতে হবে! সেটা করতে হবে! হ্যান..ত্যান..,‌ কাযা..কাযা...!

নাহ, এবারও কাজ হলো না। কারও মধ্যে কোনো সাড়াশব্দ নেই। উপস্থিত ছাত্র-জনতা নীরব ঠায় দাঁড়িয়ে রইল— এই অপেক্ষায় যে, 'তিনি'র বক্তব্য কখন শেষ হবে। কখন তিনি মাইক ছেড়ে প্রত্যাশিত কোনো ব্যক্তির হাতে তুলে দিবেন, আর পরিবেশে স্বাভাবিকতা আসবে।

কিন্তু তিনি যে হাল ছাড়তে রাজি নন!
এবার 'তিনি' গ্রহণ করলেন ভিন্ন পলিসি। নতুন কৌশল।

বজ্রকন্ঠে হুঙ্কার ছেড়ে "অমুক-তমুক"দের উদ্দেশ্যে বলতে লাগলেন— আপনারা জেনে রাখুন, এখানে উপস্থিত লক্ষ তৌহিদী জনতার (মিথ্যা কথা। উপস্থিত মানুষের সংখ্যা লক্ষ হবে না।) মাঝে অসংখ্য অগণিত খালিদ বিন ওয়ালিদ রয়েছে। ইতিহাসের বীর বিক্রম যোদ্ধারা আজও মরে যাই নি। তারা এখানেও রয়েছে।

অতএব, মাননীয় অমুক! সাবধান হয়ে যান। আমাদের খালিদরা জেগে উঠলে আপনাদের খবর আছে।

নাহ, এইবারও কোনো কাজ হলো না। বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতার চেতনা ভোতা হয়ে গেল না তো? নাকি এরা অকৃতজ্ঞ? সম্ভবত এরা অকৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত।

শ্রদ্ধেয় "তিনি" একটি মাত্র ভরপুর প্রাণবন্ত 'ঠিঈঈক' চিৎকার শোনবার জন্য সবশেষে প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন—

"কি বলেন আপনারা? আপনাদের মাঝে কি যামানার খালিদ বিন ওয়ালিদরা নেই? খুবাইব রাঃ এর উত্তরসুরীরা নেই? (জিহাদী হুজুর থাকলে বলতেন,
এই যুবকরা! আওয়াজ দেস না কেনো?)

অবশেষে ছাত্রজনতার নীরবতা কিছুটা ভাঙলো।
তবুও সেটা সন্তোষজনক ছিল না "তিনি"র জন্য।

অনীহাভরা কন্ঠে সবাই বললো— 'আছে'।
এই 'আছে' বলার মাঝেও কোনো জোর ছিল না।

নিচু স্বরে সবার 'আছে' বলার মধ্যে এরকম একটা ভাব পরিলক্ষিত হয়েছিল যে— আমাদের মাঝে খালিদ বিন ওয়ালিদরা আছে, কি নাই, এটা আপনার মত এত বড় ভয়াবহ ব্যক্তিত্বকে জানার দরকার নেই। আমরা আমাদের খালিদ বিন ওয়ালিদেরকে নিয়ে আমাদের গন্তব্য ঠিক করে নিবো, কর্মসূচিও ঠিক করে নিবো। আপনি এখান থেকে ভাগেন। আপনাকে আমরা আদর্শ বাস্তবায়নের পথে অনিরাপদ বলে মনে করছি।

____

২.

তিনি-দ্বয়ের প্রথমজন সম্পর্কে বলতে গিয়ে একটু লম্বা হয়ে গেল। এজন্য ক্ষমাপ্রার্থী। দ্বিতীয় "তিনি" সম্পর্কে কথা বেশি লম্বা করবো না। কেননা উক্ত মহান দ্বিতীয় 'তিনি'র জ্বালাময়ী বক্তব্য শ্রবণ করার পরম সৌভাগ্য আমার হয় নি। পরবর্তীতে ইউটিউব মারফত জানতে পারি যে, তিনিও উত্তর গেইটে বক্তব্য প্রদান করেছেন।

দ্বিতীয় "তিনি" নিজের শুদ্ধিতা প্রমাণের জন্য বিশেষ একটা তৎপরতা চালিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ আহুত ঢাকার বায়তুল মোকাররমের বিক্ষোভ সমাবেশে। কোত্থেকে যেন দুই চারটা ছোকরা বাচ্চার হাতে দুইটা ব্যানার পাঠিয়ে দিয়েছেন। যেগুলোতে লেখা রয়েছে– “ইসলাম ও নবীজির অবমাননার জন্য প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ডের আইন কত হবে।”

বাণীতে– জনাব অমুক | মহাসচিব, শোকরানালীগ।

বাঙাল মুসলমানদের এতটাই দুর্দিন যাচ্ছে যে, বাবার আদর্শকে পায়ে পদপিষ্ট করা পুত্র‌টাও হতভাগ্য তাওহিদি জনতাকে ইসলামের বাণী শোনাতে আসে।
_____

দুইজন "তিনি" সম্পর্কে বললাম। এদের সাথে তৃতীয় আরেকজন "তিনি" সম্পর্কে না বললে অবিচার হয়ে যাবে। তৃতীয় "তিনি" ওইদিক থেকে এইদিকে কিভাবে আসলেন— সেটারই হিসাব মিলাতে পারছি না। তাই কথা লম্বা করতে পারলাম না। এখানেই শেষ করছি।
_____

আল্লাহ তা'আলা বলেন,

يَعْتَذِرُونَ إِلَيْكُمْ إِذَا رَجَعْتُمْ إِلَيْهِمْ ۚ قُل لَّا تَعْتَذِرُوا لَن نُّؤْمِنَ لَكُمْ قَدْ نَبَّأَنَا اللَّهُ مِنْ أَخْبَارِكُمْ ۚ وَسَيَرَى اللَّهُ عَمَلَكُمْ وَرَسُولُهُ ثُمَّ تُرَدُّونَ إِلَىٰ عَالِمِ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَيُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ

"তুমি যখন তাদের কাছে ফিরে আসবে, তখন তারা তোমাদের নিকট ছল-ছুতা নিয়ে উপস্থিত হবে; তুমি বলো, ছল কারো না, আমি কখনো তোমাদের কথা শুনব না; আমাকে আল্লাহ তা’আলা তোমাদের অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করে দিয়েছেন।
আর এখন তোমাদের কর্ম আল্লাহই দেখবেন এবং তাঁর রসূল। তারপর তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে সেই গোপন ও আগোপন বিষয়ে অবগত সত্তার নিকট। তিনিই তোমাদের বাতলে দেবেন যা তোমরা করছিলে।

— সুরা- তাওবাহ্ | আয়াত- ৯৪।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য