শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

তরুণ আলেমের সাক্ষাৎকার-০৩


তামাদ্দুন২৪ডটকম:

মাহদি হাসান Mahdi Hasan তরুণ আলেম। প্রতিভাবান। যুগসচেতন। মন্ত্রমুগ্ধ পাঠক। আগামী দশকে যাঁরা বাংলাদেশে ইলমের আলো ছড়াবেন, তাঁদের মাঝে তাঁকেও দেখা যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। আমাদের এই ধারণা সত্য প্রমাণিত হোক। আমিন।
...
# আপনার জন্ম, বেড়ে উঠা ও পড়াশোনা কোথায়?
- আমার জন্ম মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান থানাধীন লতব্দি ইউনিয়নের পুরান ভাষাণ চর নামক গ্রামে। বাড়ির পাশেই আল-মাদানিয়া কেরাতুল কুরআন কিন্ডারগার্টেন মাদ্রাসায় ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত পড়াশোনা করেছি। এরপর চলে যাই মুন্সিগঞ্জের প্রাচীন দীনী বিদ্যাপীঠ ‘আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া মুস্তফাগঞ্জ মাদ্রাসায়। সেখানেই সফফে আউয়াল থেকে নিয়ে তাকমিল পর্যন্ত পড়ার সৌভাগ্য হয়েছে। এরপর সেখানেই ‘তাখাসসুস ফি তাফসিরিল কুরআন’ করেছি এক বছরের জন্য। দেশের প্রসিদ্ধ বিদ্যাপীঠ ‘জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ায় (আলি এন্ড নুর রিয়াল এস্টেট) উলুমুল হাদিস বিভাগে ভর্তি হওয়ার সুযোগ হয়েছিল। তবে দুর্ভাগ্যবশত শেষ করা হয়নি।

# বর্তমানে কোথায় কী করছেন?
- আপাতত লেখালেখি নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করছি।

# লেখালেখির সূচনা কবে থেকে? সর্বপ্রথম কোথায় লেখা প্রকাশিত হয়? তখনকার অনুভূতি কেমন ছিল?
- লেখালেখির সূচনা বলা যায়, জামাতে মিজান থাকে। সেবার আমাদের উস্তাদ হয়ে এসেছিলেন মাওলানা আহসান ইলয়াস সাহেব। তিনি আমাদের প্রথম রোজনামচা লেখার কথা বলেছিলেন। সেখান থেকেই লেখালেখির হাতেখড়ি বলা যায়। মনে পড়ে, সেবার তিনি হুমায়ুন আজাদের ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম’ সংক্রান্ত একটি বই পড়ে সেখান থেকে কিছু লিখতে বলেছিলেন। অল্প একটু লেখার চেষ্টাও করেছিলাম।
সর্বপ্রথম লেখা প্রকাশিত হয় ‘মাসিক কলতান’ নামক পত্রিকায়। পত্রিকার সম্পাদক ‘মাওলানা মাহবুবুল হাসান সাহেব ছিলেন আমাদের উস্তাদ। তখন আমি শরহে বেকায়া জামাতে পড়তাম। প্রথমে কবিতা লিখে দিয়েছিলাম। হুজুর বললেন, কবিতার বদলে কবিতার বিষয়বস্তু দিয়ে একটি প্রবন্ধ লিখে দিতে। আমি তাই চেষ্টা করলাম। লেখা জমা দেয়ার সময় খুব লজ্জাবোধ হচ্ছিল। লেখা প্রকাশিত হওয়ার ছাপার অক্ষরে নিজের নাম দেখে হৃদয়ে বেশ পুলক অনুভব হয়েছিল। যা ব্যাখ্যা করার মতো সঠিক শব্দ অনেকের মতো আমারও জানা নেই। তবে সবচেয়ে আনন্দ পেয়েছিলাম মিজানের বছর। তখন আরবি সবে মাত্র শিখছি। দেয়ালিকার সাথে সংশ্লিষ্ট বড় ভাইরা আমাকে খুব স্নেহ করতেন। তাদের উৎসাহে আমি ছোট একটি মাকালা লিখি। তা দেয়ালিকায় ছাপা হয়। নাম ছিল ‘বাইজাতু ফারাসিন’ ঘোড়ার ডিম। সে দেখে আমার কচি মনে আনন্দ আর ধরে না। ক্লাসমেটদের ধরে ধরে এনে দেখাতাম, ‘ওই দেখো আমার লেখা এসেছে’।

# আপনার প্রকাশিত বইগুলো কী কী?
আমার অনুবাদে এ যাবত চারটি বই প্রকাশিত হয়েছে,
(১) মুহাম্মদ আল-ফাতিহ (মুহাম্মদ পাবলিকেশন)।
(২) কেমন ছিল প্রিয়নবীর আলাপচারিতা (মাকতাবাতুল হাসান)।
(৩) ইতিহাসের দর্পণে খলিফা আল-মামুন (দারুল ওয়াফা)।
(৪) আমরা আবরাহার যুগে নই (মাকতাবাতুল হাসান)।

প্রকাশিতব্য, উসমানি সাম্রাজ্যের ইতিহাস (মুহাম্মদ পাবলিকেশন)। আরো কয়েকটি কাজ প্রকাশের অপেক্ষায়।

# এখন কী কী কাজ হাতে আছে?
- হাতে বেশ কয়েকটি কাজ আছে। সময়, সুযোগ মতো জানানো হবে।

# লেখালেখির ক্ষেত্রে আপনার প্রেরণা ও আদর্শ কে?
- লেখালেখির ক্ষেত্রে আমার প্রথম প্রেরণা আহসান ইলয়াস সাহেব হুজুর। আমাদের মিজানের বছর হুজুরের অনুবাদে একটি বই দেখেছিলাম। সেই থেকে বইয়ের মলাটে নিজের নাম দেখার আকাংখা জন্মেছিল। আদর্শ হিসেবে তেমন কেউ নেই এখনো। হয়তো খুব শীঘ্রই পেয়ে যাবো। তবে ভালো লাগে, আবু তাহের মেসবাহ, যাইনুল আবেদীন, শরীফ মুহাম্মদ সাহেব প্রমুখদের।

# কোন সময় লিখতে ভালোবাসেন?
- লিখতে ভালোবাসি ফজরের পর থেকে নিয়ে জোহর পর্যন্ত সময়টাতে। এ ছাড়া সারাদিনই লেখালেখির কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়।

# প্রধানত কী বিষয়ে লিখতে ভালোবাসেন?
- প্রধানত ইতিহাস নিয়েই লিখতে ভালোবাসি। আমার মনে হয় আমার সাথে এই বিষয়টা খুব মিলে যায়। তবে টুকটাক গল্প, কবিতা সহ সৃজনশীল লেখাজোঁখার চেষ্টা করা হয়।

# সর্বাধিক পঠিত বই?
- খুব সম্ভবত ‘কাশ্মীরের কান্না’ নামক একটি বই। তিনবার পড়েছিলাম। তখন নাহবেমীর জামাতে পড়ি। কিশোর মনে ভালো লেগে গিয়েছিল। এ ছাড়া শায়েখ আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ রচিত ‘কিমাতুজ জামানি ইনদাল ওলামা’ বইটি কয়েকবার পড়েছি।

# কোন বইটি পড়ে সম্মোহিত হয়ে গিয়েছিলেন?
আমার পাঠের জগত অতটা সমৃদ্ধ নয়। আবু তাহের মেসবাহ সাহেবের অনুবাদে গুরুদত্ত সিং এর লেখা ‘তোমাকে ভালোবাসি হে নবী পড়ে স্তম্ভিত বোধ হয়েছিল। ভেবেছি তার মনে এমন আকুলতা কী করে জন্ম নিল! অথচ সে একজন বিধর্মী।

# এখন কী পড়ছেন?
এখন পড়ছি ইমাম গাজালির জগদ্বিখ্যাত গ্রন্থ ‘ইহইয়াউ উলুমিদ্দীন’ এর সংক্ষিপ্ত ভাষ্য ‘মুখতাসারু মিনহাজিল কাসিদীন। আরো পড়ছি ঐতিহ্য থেকে প্রকাশিত রাফিক হারিরি রচিত ঐতিহাসিক উপন্যাস ‘ওমর’। ইসলামী শহরগুলো নিয়ে লেখা বই ‘Islamic Cities’। আকবার আলি খান কাদেরি রচিত ‘সাহাবায়ে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিন্দুস্তান মে’ এবং ডক্টর আব্দুল মুনইম রচিত ‘তারিখুল ইসলামি ফিল হিন্দ’।

# প্রিয় কয়েকটি বইয়ের নাম বলুন।
- ইতিহাস সংক্রান্ত বইগুলো আমার প্রিয় বইয়ের তালিকায় শীর্ষে। তবে এর বাইরে প্রিয় কিছু বই হচ্ছে,
(১) তোমাকে ভালোবাসি হে নবী ।
(২) বাইতুল্লাহর মুসাফির।
(৩) বাইতুল্লাহর ছায়া
(৪) আফগানিস্তানে আমি আল্লাহকে দেখেছি।
(৫) সাহাবায়ে কেরাম সত্যের মাপকাঠি।
আরো অনেক বই আছে। এখন নাম মনে পড়ছে না।

# প্রিয় ফেসবুক লেখক?
- কাউকে এ নামে বিশেষায়িত করাটা আমার নিকট পছন্দনীয় নয়। তবে অনেকের লেখাই পড়া হয়।

# এই যে লেখালেখি, এ নিয়ে জীবনের সমাপ্তি বেলায় কী দেখতে চান?
এক জীবন লিখে যেতে চাই। জীবনের সমাপ্তি বেলায় শত শত বইয়ের পাশে নিজের নাম রেখে যেতে চাই। যেগুলো পড়ে মানুষের হৃদয় থেকে দোয়া আসবে। যাতে এগুলো আমার নাজাতের উসিলা হয়। হাশরের মাঠে যেন সেগুলোকে নিয়ে দাঁড়াতে পারি। আল্লাহ কবুল করুন।

# জীবনের স্বপ্ন ও লক্ষ্য কী? লক্ষ্য পূরণে কী পরিকল্পনা নিয়েছেন?
- জীবনের স্বপ্ন ছিল একজন আলেম হওয়া। আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহ সেই স্বপ্ন পূরণ করেছেন। স্বপ্ন ছিল বইয়ের মলাটে নিজের নাম দেখা। আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহ এই স্বপ্ন পূরণ করেছেন। এখন স্বপ্ন দেখি ‘মা বাবাকে হজ্বের সফর করানোর। বিশ্বাস রাখি আল্লাহ এই স্বপ্নও পুরণ করবেন। আর জীবনের লক্ষ্য হচ্ছে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লিখে যাওয়া। আলহামদুলিল্লাহ! এর সুযোগ আল্লাহ তায়ালা তৈরী করে দিয়েছেন। আশা করি তিনি এর উপর ইস্তেকামাতের তাওফিকও দিবেন।

# কী হতে চেয়েছেন? কী হয়েছেন?
- আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহ তায়ালা অশেষ শুকরিয়া, যা হতে চেয়েছি তিনি সে রূপেই অধমকে কবুল করেছেন।

# বাংলাদেশে ইসলামী রাজনীতির ভবিষ্যৎ কী? আপনার পরামর্শ বলুন।
- রাজনীতি আমার অপছন্দনীয় বিষয় ছিল সবসময়। তবে এর গুরুত্ব এড়িয়ে যাবার নয়। এ ব্যাপারে আমার জানা-শুনা কম। তবে আমার মনে হয়, বাংলাদেশের মতো গনতান্ত্রিক দেশ ইসলামি রাজনীতির উপযুক্ত চারণভূমি নয়। ইসলামী রাজনীতি করতে হলে আগে বাংলাদেশকে ইসলামী সিয়াসাতের উপযুক্ত করতে হবে। মনে হয় না ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলো সে লক্ষ্যে কাজ করছে। যতদূর মনে হয়, তাদের কাজে মাকসুদ বিজ জাত অর্থাৎ চূড়ান্ত লক্ষ্য নির্ধারণের শূন্যতা লক্ষ্য করা যায়। এ পর্যন্ত দেখে এসেছি আমাদের ইসলামী দলগুলোর সর্বোচ্চ উদ্দেশ্য থাকে অন্য কোনো বড় দলের সাথে জোট বেঁধে সংসদে বড় জোর দু একটি আসন পাওয়া। সবচেয়ে হতাশাজনক বিষয় হচ্ছে ইসলামী দলগুলো চাইলে দেশের বিগেস্ট রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দাঁড়াতে পারে। কিন্তু তাদের মাঝে ঐক্য জিনিসটার বড়ই অভাব। দেখা যায়, ইসলামী ঐক্যজোটের ব্যানারে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে পনেরটি দল। কিন্তু পনেরটি দল ভেঙে যদি একটি দলের জন্ম হতো তাহলে দেশের কর্ণধার হয়তো আমরাও হতে পারতাম। ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলোকে চূড়ান্ত লক্ষ্য ঠিক একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরী করে সে লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। তারা যদি সত্যিকার অর্থেই দেশের নেতৃত্ব দিতে চান তবে নিজেদেরকে দেশ পরিচালনার যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। বলছি না, তাদের যোগ্যতা নেই। তবে বৈশ্বিক বিবেচনায় দেশ পরিচালনায় অনেক প্রয়োজনীয় উপাদানের অভাব আছে। সেই শূন্যতা কাটিয়ে উঠতে হবে। তবেই ইসলামী রাজনীতি একটি সন্তোষজনক প্রাপ্তির পথে এগুতে পারবে। এগুলো নিতান্তই আমার ভাবনা। ভুল কিছু হলে ক্ষমা চাইছি।

# আলেমসমাজের কোন কোন ক্ষেত্রে বেশি কাজ করা দরকার?
-আমার মনে হয়, বর্তমান প্রেক্ষাপটে আলেম সমাজের সবচেয়ে বেশী জোর দেয়া উচিত জনসাধারণের সাথে কমিউনিটি বিল্ড আপ করার উপর। আমাদের আর জনসাধারণের মধ্যকার দূরত্ব ক্রমেই যেন দুই ভিন্ন গ্রহের বাসিন্দাদের মতো মনে হচ্ছে। আর আরেকটি কথা। আমরা যে শিক্ষা লাভ করছি তা নিঃসন্দেহে শ্রেষ্ঠ। কিন্তু তাই বলে অন্যদের তুচ্ছ ভাবার প্রবণতা আমাদের পরিহার করতে হবে। অনেক আলেমকেই দেখেছি তাদের সাথে সাধারণ শিক্ষিত কারো বাকবিতণ্ডা হলে তারা নির্দ্বিধায় সাধারণ লোকদের জাহিল আখ্যা দিয়ে বসেন। আমাদের এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে সকলের প্রতিই শ্রদ্ধাপূর্ণ মনোভাব পোষণ করতে হবে।

# কওমি মাদরাসার পাশাপাশি আলিয়ায় পরীক্ষা দেওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার বিষয়ে আপনার মতামত কী?
- এর সুফলতার দৃষ্টান্ত অতীতেও খুব একটা দেখিনি। ভবিষ্যতেও দেখতে পারবো বলে মনে হচ্ছে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কওমী থেকে যারা আলিয়া, ভার্সিটিতে পড়ছে তারা নিজেদের স্বাতন্ত্র বজায় রাখতে পারছে না। যেখানে তাদের আইকন হওয়ার কথা ছিল সেখানে নিয়ে তারা অন্যদের আইকন মনে করে তাদের অনুকরণ করে যাচ্ছে। আমার মত হচ্ছে, কওমীর ছাত্রদের যেন আলিয়া বা ভার্সিটিতে যেতে না হয় এমন সামগ্রিক সিলেবাস প্রণয়ন করা।

# আপনার পরিবারে কে কে আছেন?
বাবা, মা, এক বোন এবং তিনভাই মিলে আমাদের পরিবার।

# প্রিয় খাবার?
-মাদ্রাসা জীবনের অন্যতম সঙ্গী আলু ভর্তা, ডালের লোভ আমি এখনো ছাড়তে পারিনি। প্রায়ই মাকে পীড়াপীড়ি করি আলু ভর্তা ডালের জন্য। এর বাইরে প্রিয় খাবার হচ্ছে টাকি মাছের ভর্তা এবং মায়ের হাতের পাটিশাপটাব পিঠা।

# জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত কোনটি?
- জীবনের সবচেয়ে স্মরনীয় মুহূর্ত আমাদের তাকমীলের বছরের খতমে বুখারীতে শাইখুল হাদিস আল্লাহ শাহ আহমাদ শফি দামাত বারাকাতুহুম এর সামনে ইবারত পড়ার সুযোগ পাওয়া, তার ধমক খাওয়া এবং তার হাতে পাগড়ি পরা।

# জীবনের সবচেয়ে দুঃখজনক ঘটনা?
- দুঃখজনক ঘটনা বলা যায় প্রিয় মাদ্রাসাকে নিয়ে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর পরিস্থিতি। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা, আল্লাহ প্রিয় জামিয়াকে কিয়ামত পর্যন্ত চলমান রাখুন। আমিন।

# ইন্টারনেট ও ফেসবুক ব্যবহার সম্পর্কে আলোকপাত করুন।
- প্রয়োজন অনুপাতে ব্যবহার করা। অপব্যবহার বর্জন করা।

# কোন ভুল, যার থেকে জীবনের সবচে’ বড় শিক্ষা পেয়েছেন?
কারো বিশ্বাস ভাঙা ঠিক নয়। একবার বিশ্বাস ভেঙে গেলে তা পুনরায় জন্ম নেয়া কঠিন। এক উস্তাদ আমার প্রতি খুবই আস্থাশীল ছিলেন। আমি তার আস্থার যথাযথ প্রতিদান দিতে পারিনি। তার সাথে আমার আজকের এই দূরত্ব খুবই পীড়া দেয় আমাকে।

# কোন কোন দেশ সফর করেছেন? কোন কোন দেশ সফরের ইচ্ছে রাখেন?
- নিজ জেলা মুন্সীগঞ্জ আর ঢাকার বাইরে কুমিল্লা আর ফেনীতে সফর করেছি। অন্য কোনো দেশে যাওয়া হয়নি। যদিও আমি ভ্রমণ পিপাসু সত্ত্বা লালন করি। কিন্তু সাধ্যের অভাবে সম্ভব হয়ে উঠেনি। ইচ্ছে আছে, কাশ্মীর সহ ইসলামি ইতিহাস বিজড়িত সকল দেশে সফর করার।

# পাঠকের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন।
- পাঠকরে উদ্দেশ্যে বলব, অবশ্যই পড়ুন। তবে এমন কিছু পড়ুন যা আপনার বোধের দরজায় কড়া নাড়ে। খুলে দেয় সমূহ কল্যাণের দিগন্ত। বেশি বেশি ইতিহাস পাঠ করুন। আমাদের গৌরবান্বিত বিজয়গাঁথা থেকে অনুপ্রেরণা আর ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজের মুসলিম পরিচয়ে গর্বিত হোন। মুসলমানিত্বের নেয়ামতের উপর আল্লাহ তায়ালার শুকরিয়া আদায় করুন।

# মাদরাসার ছাত্রদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন।
- মাদ্রাসার ছাত্রদের প্রতি আমার পরামর্শ হচ্ছে, সময়ের যথাযথ মূল্য দিন। নিজের দৈনন্দিন সবকের পাশাপাশি আলাদা একটা সময় রাখুন। যে সময় আপনি আপনার তালিমি মুরুব্বির তত্ত্বাবধানে আপনার যে বিষয়ে আগ্রহ সে বিষয় নিয়ে ফন্নি মুতালা’আ করতে পারেন। এর সুফল আপনি অবশ্যই ভোগ করুন। তাদের প্রতি আমার আহ্বান থাকবে, তালিবুল ইলম পরিচয়ে গর্বিত বোধ করুন। এই পরিচয়ের প্রকৃত মূল্যবোধ আপনার মাঝে জাগ্রত হোক। আর পার্থিব যশ খ্যাতির জন্য বিভিন্ন জনের, বিভিন্ন মতের অনুকরণ, অনুসরণ বন্ধ করুন। আল্লাহ তাওফিকদাতা।

সাক্ষাৎকার গ্রহণে: মুফতী মহিউদ্দীন কাসেমী

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য