শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

এবার দয়াকরে আতীক উল্লাহ ভাইকেও ছেড়ে দিন: সৈয়দ শামছুল হুদা

লেখক আতিক উল্লাহ’র কিছু বই 

তামাদ্দুন২৪ডটকম:
মুহাম্মদ আতীক উল্লাহ। একজন নিভৃতচারি হাফেজ, আলেম, লেখক মানুষ। খুব সাদাসিধে। মাদরাসাতুল কুরআন, শ্যামলী এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রিন্সিপ্যাল। তিনি মহাগ্রন্থ আল কুরআনের একজন নীরব সাধক মানুষ। তাদাব্বুর ফিল কুরআন যার জীবনের অহর্নিশ সাধনা। স্বপ্ন। তিনি যে মাদ্রাসাটি গড়ে তুলেছেন, সে মাদ্রাসার সিলেবাস এমনভাবে তৈরী করেছেন, যেখানে একজন ছাত্র ৩/৪বছর পড়লে সে কুরআনের একজন সত্যিকার প্রেমিক হয়ে বের হবে। তিনি গোটা সিলেবাসটাকে এমনভাবে তৈরী করেছেন যেখানে লেখাপড়া করলে আল কুরআনের শুধু বাংলাতেই নয়, আরবী, ইংরেজিতে অনুবাদেও সক্ষম হবে।

কুরআন বান্দার কাছে কী চায়, কুরআনি শিক্ষার মুল বার্তা কী? কুরআনের প্রতিটি আয়াতের কালোপযোগী ব্যাখ্যা তিনি দিতেন। কুরআনের প্রতিটি আয়াতের আশ্চর্যজনক রহস্য বের করতেন। বান্দা কুরআনকে কীভাবে কাজে লাগাতে পারে এসব নিয়ে ভাবতেন। লিখতেন। আলোচনা করতেন। সেই নীরব সাধক মানুষটিকেই আজ ১৪/১৫দিন ধরে পাওয়া যাচ্ছে না। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে সরকারের বিশেষবাহিনী আটক করে রেখেছে। এ ধারণার অন্যতম কারণ হলো- তিনি হারিয়ে যাওয়ার পরদিন তার নাম্বার থেকে ফোন দিয়ে মাদ্রাসা থেকে তার ল্যাপটপ ও মোবাইল কেউ নিয়ে গেছে। আর এ কারণেই প্রথম প্রথম কেউ ভাবছিল - আতীক উল্লাহ ভাইকে পাওয়া গিয়েছে।

মাওলানা আতীক উল্লাহ, আমাদের আরো একজন আবু তাহের মিসবাহ, আমাদের হুমায়ুন আহমদ।তিনি নিজেই একটি সিলেবাস তৈরী করছেন যেমনটা করছেন মাওলানা আবু তাহের মিসবাহ সাহেব। প্রতিটি ক্লাসের জন্য ছাত্রদের উপযোগী করে সমস্ত বইগুলো তিনি রচনা করে যাচ্ছেন। প্রতি বছর সেই বইগুলোর সংস্কার করা হয়। আপডেট ভার্সন আসে। এগুলো নিজের মাদ্রাসার ছাত্রদের ফটোকপি করে পড়ান। বাংলা, উর্দু, আরবীতেই শুধু নয়, তিনি ইংরেজি ভাষাতেও সমান পারদর্শী। My English spoken নামে ইংরেজি শিক্ষার বইও তিনি লিখেছেন। তিনি ছাত্রদের প্রথম বর্ষেই ইংরেজিতে আল কুরআনের অনুবাদ শেখান।

তিনি আমাদের হুমায়ুন আহমদ। তিনি একজন উদার মনের পাঠক। দৈহিক গঠনে মানুষটি খুবই হালকা, ছিমছাম শরীর। কিন্তু তার মনটা অনেক বড়। তাঁর জ্ঞান সাধনার জগতটা অনেক বিস্তৃত। তাঁর নিয়মিত পাঠে এমন সব বই থাকে, যেগুলো দেখলে অনেক হুজুর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠবেন। তাঁর টেবিলে পাঠের ‍উপযুক্ত বইয়ের ক্ষেত্রে কোন জাতপাত থাকে না।হুমায়ুন আজাদ এর “রাজনৈতিক প্রবন্ধ সমগ্র” তাঁর টেবিলে দেখেই কিনেছিলাম। অথচ আমরা হুজুররা হুমায়ুন আজাদকে অচ্যুতই মনে করি। তিনি সবধরণের বই পাঠ করতেন। তাঁর কয়েকটি বইয়ের নাম লিখলেই বুঝতে পারবেন, তিনি কতটা রসিক মানুষ, তাকে কেন আমরা আমাদের হুমায়ুন আহমদ বলি।

আমার টেবিলে তার যে কয়টি বই আছে সেগুলোর নাম একটু লক্ষ্য করুন। দেখুন, তিনি কেমন মানুষ হতে পারেন। “কোঁচড় ভরা মান্না, ‍দুজন দুজনার, হুদহুদের দৃষ্টিতে, জীবনের ক্যানভাসে আঁকা গল্প, জীবনের বিন্দু বিন্দু গল্প, গল্পের ক্যানভাসে আঁকা জীবন।” এগুলো তার প্রথম দিকের প্রকাশিত বই। এরপর প্রকাশিত হয়েছে আরো অসংখ্য বই। ৩০এর উপরে হবে তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা।

তিনি ফেসবুক বা স্যোসাল মিডিয়ায় কোথাও রাষ্ট্রবিরোধী কোন লেখালেখি করতেন না। রসিক মানুষ হিসেবে তিনি সকলের কাছেই পরিচিত ছিলেন। কুরআন প্রেমিক মানুষ হিসেবে তিনি কুরআনের দৃষ্টিতেই সবাইকে ভালোবাসতেন। তাঁর রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ক্ষমতা অসাধারণ। কারো কারো সাথে তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য থাকতে পারে। মানুষ হিসেবে এটা হতেই পারে। তিনি একজন আল্লাহওয়ালা মানুষ। আল্লাহ ভক্ত মানুষ। প্রচারবিমুখ মানুষ। নিজেকে প্রচার করা তিনি একদম পছন্দ করতেন না। ছবি তোলাতো নাই-ই। কখনোই নিজেকে খুব বড় মনে করতেন না। অহঙ্কার করতেন না। অথচ তিনি আমাদের কাছে খুবই বড় একজন ব্যক্তিত্ব।

তিনি একজন সম্ভাবনাময় আলেম। তাঁর হাত ধরে একটি নতুন সিলেবাস আমরা পাওয়ার আশাকরি। তাঁর হাতধরে যেভাবে বই বের হচ্ছে তাতে আশা করছি তিনি হুমায়ুন আহমদকে ছাড়িয়ে যাবেন। তার লেখার ধরণ হুমায়ুন আহমদের মতো। পানির মতো ঝরঝরে।একবার কোন বই পাঠ শুরু করলে শেষ না করে উঠা যায় না। লেখায় তাঁর অনেক রস। পাঠককে খুবই টানে। কওমী তরুণ প্রজন্মের কাছে লেখক হিসেবে তিনি হিরো। জাতীয় মিডিয়া তাকে কভারেজ করলে তিনিও সাহিত্য জগতে ঝড় তুলতে পারতেন। বিনা প্রচারেই তিনি ইতিমধ্যে ঝড় তুলে ফেলেছেন।

* তাকে ছেড়ে দিন
হে মহাপরাক্রমশালী সরকার(!), আপনারা যা চান তাইতো করতে পারেন। আতীক উল্লাহ ভাই আপনাদের কোন বাহিনীর কাছেই আছে। এটা আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। তাকে ছেড়ে দিন। তার পেছনে রাজনৈতিক কোন শক্তি নেই। যে কারণে তার মুক্তির আওয়াজটা এত দ্রুত ছড়াচ্ছে না। তার পক্ষে মিছিল-মিটিং করার কেউ নেই। তিনি নীরবে কাজ করে যাওয়া মানুষ।একজন সাহিত্যপ্রেমি মানুষ। তিনি আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপুর্ণ। তার মতো মেধাবী আমরা বারবার তৈরী করতে পারবো না। তিনি যে মিশন নিয়ে দ্বীনের খেদমত করে যাচ্ছেন তা আর দশজন দিয়ে হবে না। তাকে সরিয়ে দিয়ে আপনাদের কোন লাভ নেই। কিন্তু আমাদের অনেক লাভ। তাঁর ‘আই লাভ ইউ কুরআন’ বইটি পড়ুন। দেখুন তার মনটা কত সাদা। তার গায়ে কোন কাদা নেই।

দ্বীনের একজন নিবেদিতপ্রাণ এই সাধারণ কর্মীকে ছেড়ে দিন। তাঁর অসংখ্য ছাত্র, ভক্ত আজ তার জন্য নীরবে চোখের অশ্রু ফেলছে। তিনি কারো জন্যই ক্ষতির কারণ নন। তিনি কাউকে আঘাত করেন না। কাউকে মনে কষ্ট দেন না। তিনি দ্বীনের একজন নীরব দাঈ। মাঝে মাঝে সমাজসেবামূলক কাজে অংশগ্রহন করেন। মানুষকে আল কুরআনের চেতনায় দ্বীনের দাওয়াত দেন। এর বেশি কিছু নয়।

পরিশেষে মহান রবের কাছে বিনীত প্রার্থনা, হে আল্লাহ, আপনার প্রেমিক এই বান্দাটাকে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দিন। যে বাহিনী তাকে তুলে নিয়ে গিয়েছে তাদের অন্তরে একটু মায়া, একটু দয়া ঢেলে দিন। আমরা আতীক উল্লাহ ভাইয়ের মুক্তির অপেক্ষায়।

24.10.2019

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য