শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

ব্যবসা হোক রিজিকের মাধ্যম


তামাদ্দুন২৪ডটকম: রিজিক নির্ধারিত। তবে সেটা কোন পথে নিবেন এটা আপনার দায়িত্ব। আপনি যদি হালাল মাধ্যমে চেষ্টা করেন তবে আল্লাহ তায়ালা হালাল উপায়ে হালাল রিজিক দিবেন। আর যদি হারাম উপায়ে নেন তবে আল্লাহ তায়াল-ও সেই হারাম উপায়ের হারাম রিজিক আপনাকে দিবেন।মনে রাখবেন- তিনি রাজ্জাক! না খাইয়ে মারবেন না। কিন্তু আপনার দায়িত্ব হালাল উপায়ে চেষ্টা করা।

এই বিষয়ে আমরা একটি ঘটনা শুনতে পারি- আল্লামা রুমী। এই আল্লাহওয়ালাকে কে আছে চিনেন না! আমরা সকল মোসলমান-ই তাকে চিনি।
তার শৈশবকালের কথা, একদিন মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে আঙুর ফলের বাগান দেখলেন। এগিয়ে দেখেন এক থোকা আঙুর, ওগুলোর মাঝে তার নাম লেখা৷ এখন হয়তো প্রশ্ন হবে তিনি কিভাবে দেখলেন? কোর-আনেই আছে আল্লাহওয়ালারা রাব্বুল কারিমের নুর দ্বারা দেখেন। তো যাইহোক, উনি মনে করলেন এগুলো যেহেতু আমার রিজিকের অন্তর্ভুক্ত সুতরাং আমার খাবার আমিই খেয়ে নেই। এই বলে কাচা আঙুর খাওয়া শুরু দিলেন। ইতিমধ্যেই বাগানের মালিক এসে উপস্থিত। চোর মনে করে আচ্ছামত ধোলাই দিলেন।

মাদ্রাসায় গিয়ে পুরো ঘটনা উস্তাদকে শোনানোর পর বললেন- আরে বাবা! এই রিজিক তো তোমার কাছে পাকলে হালাল উপায়ে আসবে, তুমি এখন খেতে গেছো কেন?
আঙ্গুর পাকলো। মালিকের মনে দয়া হল, নুরানী চেহারার সেই তালিবুল ইলমকে ডেকে আনলো। এবং বাকি যেই অংশটা খেতে পারে নি ওটুকুই তাকে খেতে দিল।
ঘটনা সত্য হোক বা মিথ্যা। এরমাঝে ফোটে উঠে রিজিকের বাস্তবতা। বুঝে আসে রিজিক আসার অবস্থা। সুতরাং আমরা রিজিকের বাস্তবতা বুঝতে পারলাম।

এখন আসি হালাল মাধ্যমের ব্যাপারে। হালালেও আছে অনেক পন্থা। কিছু হালাল উপায় আছে যেগুলো উত্তম আর কিছু আছে অনুত্তম। এখন আমাদের দ্বিতীয় দায়িত্ব হলো- উত্তম মাধ্যম খোঁজা।
আমরা অনেকে ধর্মব্যবসা তথা ধর্মীয় বিষয়কে পূজি করে ব্যবসা করি। আবার বড় গলায় বলি এটাই উত্তম উপায়। এখানে আবার খিদমতকে টানবেন না। আল্লাহর জন্য দীনের খিদমত করে সত্যিকারের হাদিয়ার মাধ্যমে রিজিক পাওয়া সে-তো সর্বোত্তম পন্থা। কিন্তু বর্তমান যুগে চলছে ভিন্ন অবস্থা। খিদমতের নামে করছে চাকরি। বয়ান বা নাসিহাত করার নামে চলছে কন্ঠ ব্যবসা। মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার নামে চলছে ধর্মকে ছোট করার রাস্তা।

এই যাবতীয় সমস্যার মূল কারণ আমাদের বিশ্বাস - আলিমের রিজিক ধর্মীয় বিষয় ছাড়া অন্যকোন হালাল উপায়ে আসতে পারে না। কারণ যদি অন্যকোন হালাল উপায়ে রিজিক আমাদের কাছে আসতো তবে কখনোই এমন ধর্মীয় ব্যবসায় জড়াতাম না। বরং খিদমত করতাম ইখলাসের সাথে, সভাপতি বা নেতৃস্থানীয় লোকদের পূজা নয় তাদের মাথা নত করিয়ে রাখতে পারতাম আলিম ওলামার সামনে।

উদাহরণস্বরূপ দাওয়াতুল হক্বের আমির শায়খ মাহমুদুল হাসান সাহেবকে দেখতে পারেন। তিনি কখনো কোন রাষ্ট্রপতির ধন্যা দেন নি, বরং মন্ত্রী থেকে রাষ্ট্রপতি সবাই এসে বসে থাকেন পায়ের কাছে। এর কারণ কী? কারণ তিনি তাদের থেকে অমুখাপেক্ষী। তিনি ব্যবসার মাধ্যমে, হালাল উপায়ে রিজিক ব্যবস্থা করেন; অর্থাৎ তিনি শুধুই আল্লাহর মুখাপেক্ষী।

আরেকজনের উদাহরণ দেয়া যায় এখানে- শায়খ আব্দুর রহমান আল-আরেফী দা:বা:- কে চিনেনা এমন লোক খুব কম পাওয়া যাবে। তাকে একবার জিহাদের পক্ষে বলাতে আটক করা হয়েছিল, যেই মসজিদে তার শ্রোতাদের কারণে তিল পরিমাণ ঠাই পাওয়ার জায়গা থাকতো না রাষ্ট্র থেকে হস্তক্ষেপ করা হয়েছিল সেই মসজিদেও। তিনি সেই বিষয়ে এক বক্তৃতায় বলেছিলেন- আমি কোনোসময় মসজিদ বা কোন প্রতিষ্ঠানের টাকার প্রতি মুখাপেক্ষী নই৷ আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর রহমতে আমার খেজুরের বাগান আছে৷ যার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা রিজিক পৌঁছান আমার ঘরে। অর্থাৎ তিনিও দুনিয়ার কোন মানুষের গোলাম নয়৷ মুখাপেক্ষী শুধু আল্লাহর দিকে।

সুতরাং আমাদেরকেও এমন হওয়া চাই। দীনকে সমুন্নত রাখতে চেষ্টা করা চাই অন্য উপায়ে। নিজ অঙ্গনকে পূজি না করে উত্তম মাধ্যম হিশেবে ধরা চাই ব্যবসাকে। যার মাধ্যমে হালাল রিজিক আসবে। মানুষের প্রতি নয় মুখাপেক্ষী হবেন আল্লাহর দরবারের দিকে। তাছাড়া দীনের খিদমত-ও চলবে ইখলাসের সাথে, ইনশাআল্লাহ।

তরুণ আলেম, কুমিল্লা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য