শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

হে তরুন বন্ধু! আগামীর পথ তোমাকেই করে নিতে হবে


সৈয়দ শামছুল হুদা: তামাদ্দুন২৪ডটকম: যুগে যুগে সমাজ বদলের কাজটা তরুনদের দ্বারাই সংগঠিত হয়েছে। তরুনদের হাত ধরেই এসেছে নতুন সমাজ, নতুন রাষ্ট্র। ইসলামের ইতিহাসে এ রকম অসংখ্য তরুনের গল্প পাওয়া যায় যারা বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়েছে। সুলতান মুহাম্মদ আল ফাতেহ, মুহাম্মদ বিন কাসিম, মোগল প্রতিষ্ঠাতা জহির উদ্দীন বাবর প্রমুখ তরুনেরা বিশ্বকে জয় করেছিল। তরুনরা পথের বাধা মানে না। ধরা-বাধা নিয়মের ধার ধারে না। আর সে কারণেই কোন সমাজকে ধ্বংস করার আগে তরুন সমাজকে বিপথগামী করার চেষ্টা করা হয়। তাদের তারুণ্যদীপ্ত সাহসী মনোভাবকে চুরমার করে দেওয়া হয়। মদ,নারী, জুয়া দিয়ে দেশকে ভরে তোলা হয়। আজ ক্যাসিনো সম্রাটদের এই উত্থান আগামীর তারুণ্যকে ধ্বংস করে দেওয়ার লক্ষ্যেই।

একটি মুসলিম সমাজে তরুনদের দায়িত্ব অনেক। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, বিশেষকরে বাংলাদেশের তরুনদের মধ্যে এক ধরণের হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে।নানা ঘটনা পরস্পরায় দিনে দিনে এ পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে। এর জন্য তরুনদের দায়ী করা ঠিক হবে না। আজ তাদের মধ্যে এক ধরণের মনস্তাত্ত্বিক সংকট তৈরী হয়েছে। এ থেকে উত্তরণে তরুনদের থেকেই কাউকে না কাউকে জেগে উঠতে হবে। আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নুরুল হক নুর সেই পথই দেখাচ্ছে।

তরুনদের বিশেষকরে কওমী ধারার সাহসী তরুনদের কাছে অনুরোধ থাকবে, জেগে উঠার জন্য তোমাদের ইচ্ছাশক্তিকে শাণিত করতে হবে। উপর তলার দিকে তাকিয়ে থেকে লাভ নেই। বড়রা ডাক দিবে, তারপর তরুনরা ঝাপিয়ে পড়বে এই পদ্ধতি সাময়িক সময়ের জন্য পাল্টে ফেলতে হবে। দেশে যে ধরণের সঙ্কট তৈরী হয়েছে তা থেকে উত্তরণে তরুনরা যেভাবে ভাবছে সেই ভাবাকে পুঁজি করে কাউকে দায়িত্ব নিতে হবে। নিপীড়ন-নির্যাতনের শিকার হতে হবে এটা জেনেও এগিয়ে আসতে হবে।এদেশে ইসলামী ধারার রাজনীতি, আন্দোলন, সংগ্রাম নানাকারণে ঝিমিয়ে পড়েছে। ব্যাপকভাবে হুমকির মধ্যেও পড়ে গেছে। তাদের সামনে এই মুহুর্তে কোন আশার আলো দেখা যাচ্ছে না।

তবে একটি কথা খুব পরিস্কার করে বলে রাখি, অনেক তরুন আছে, নিজে কাজ না করে, শুধু বড়দের দোষত্রুটি দেখার পেছনে পড়ে থাকে।তরুনদের কাজ করার জন্য বড়দের সমালোচনার প্রয়োজন নেই। এটা এক ধরণের বদ অভ্যাস। তরুনরা কাজ করলে বড়রা খুশি হন। নানা কারণে বড়রা অনেক সময় অনেক কাজ করতে পারেন না। তাই বলে বড়দের ব্যাপারে কোন প্রকার অন্তরে ঘৃণা পোষণ করা এক ধরণের মনোরোগ। বড়দের দুআ ও আশির্বাদ আপনার পাথেয়। আপনি ভালো কাজ করবেন আর বড়রা সমর্থনও দিবেন না এটা হয় না। বন্ধু! তুমি যা খুশি তাই করবা, বড়দের অনুসৃত নীতি উপেক্ষা করবা, কুরআন ও সুন্নাহর মৌলিক আদর্শ বিরোধী কাজ করবা তারপরেও বড়রা সমর্থন করেই যাবে এটাতো হবে না। সে জন্যই নীচে যে কথাগুলো তুলে ধরেছি সেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দেশের সমাজ ও রাজনীতির অতীত ঐতিহ্য, গৌরবকে ধারণ করে তোমাকে এগিয়ে আসতে হবে। যা খুশি তাই করলেতো হবে না।

নবীন আলেমদের বিশাল একটি অংশ এখন দেশকে নিয়ে ভাবেন। তাদের চিন্তার জগতকে জাগাতে প্রথমেই যার লিখনী সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপুর্ণ তিনি হলেন আল্লামা আবুল হাসান আলী নদভী রহ. এর রচনাসমগ্র। এগুলো পড়া ছাড়া যোগ্য নেতৃত্ব তৈরী সম্ভব নয়। মানসিক বিকাশের জন্য, কাজের ক্ষেত্রে কৌশলী হওয়ার জন্য, ইতিহাস ও বাস্তবতার কঠিন সমন্বয় ঘটাবার জন্য আলী নদভী পড়ার কোন বিকল্প আলেমদের সামনে নেই। এর পাশাপাশি পড়তে হবে আল্লামা ইকবালকে। ইকবাল জাগতিক চাকচিক্যময়তার রহস্য উম্মাহর সামনে এমনভাবে উপস্থাপন করেছেন যা গভীর মনযোগ দিয়ে সাধনা করলে তরুনদের কী করণীয় তা জেনে যাবে।সমসাময়িক আলেমদের মধ্যে আল্লামা তাকী উসমানীর চিন্তাধারাকে বুঝতে হবে। বাংলাদেশের আলেমদের মধ্যে আল্লামা শামসুল হক ফরিদপুরী রহ, ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, সৈয়দ আলী আহসান, দেওয়ান মুহাম্মদ আজরফ, কাজী নজরুল ইসলাম, ফররুখ আহমদ, মাওলানা আব্দুর রহীম, মাওলানা আকরম খাঁ, মাওলানা মহিউদ্দীন খান প্রমুখ ব্যক্তিত্বদের লেখা, কর্মপদ্ধতি, চিন্তা-চেতনা অধ্যয়ন করতে হবে। দেশের রাজনীতিবিদদের মধ্যে শেরে বাংলা একে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানসহ দেশের প্রখ্যাত ব্যক্তিত্বদের পড়তে হবে। জানতে হবে।

জানতে হবে বাংলাদেশের ইতিহাস। স্বাধীনতা যুদ্ধ শুধু ৭১ থেকে নয়। বৃটিশ আসার আগে এদেশের মানুষের জীবনযাত্রা কেমন ছিল, শাসকদের আদর্শ, সাহসকিতা, চরিত্র কেমন ছিল, বৃটিশ আসার পর কারা মুসলমানদের ওপর জুলুম নির্যাতন করেছে, কারা ষড়যন্ত্র করে মুসলমানদের রাষ্ট্রহারা করেছে, কীভাবে বৃটিশ তাড়ানো হলো, কীভাবে ৪৭এর স্বাধীনতা অর্জিত হলো, কেন পাকিস্তান টিকতে পারলো না, কেন বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েও আজ পরাধীনতার শৃঙ্খলে বন্দি এসব বিষয় খুব ভালো করে বুঝতে হবে। তারপর রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করতে হবে। কথা বলতে হবে।

সবশেষে তরুনদের কাছে অনুরোধ থাকবে, প্রথমেই তরুনদেরকে দেশপ্রেমের শপথ নিতে হবে। দেশের পতাকা, সার্বভৌমত্ব, উম্মাহর স্বার্থকে ভালোবাসতে হবে। ভালোবাসার ধরণটা বড়দের থেকে শিখতে হবে। আমাদের গৌরবময় অতীত ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে হবে। দেশে সংঘটিত যে কোন অন্যায়কে সম্মিলিতভাবে রুখে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার করতে হবে। তারুণ্য দিয়ে তা প্রতিহত করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম চেতনা- ন্যায়-ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সামাজিক বৈষম্য, মানবাধিকার হরণ, বাকস্বাধীনতা হরণের সকল কুকৌশল বন্ধ করতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে এগিয়ে আসতে হবে। অতঃপর নিজেদের করণীয় নিজেরাই ঠিক করে নিতে হবে। কারো অপেক্ষায় পড়ে থেকে লাভ নেই। কাজই লক্ষ্যে পৌঁছার ব্যবস্থা করে দিবে।

27.10.2019

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য