শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

রাষ্ট্র যারা চালায়, আমরা যেভাবে ভাবি



তামাদ্দুন২৪ডটকম: রাষ্ট্র কারা চালায়, রাষ্ট্রে কাদের কী ভূমিকা এ বিষয়টা অনেকের কাছেই হয়তো পরিস্কার নয়। যারা রাষ্ট্রনীতি নিয়ে অধ্যয়ন করে, যারা রাজনীতিতে গভীরভাবে পদচারণা করে, তারা ছাড়া সাধারণ অনেকের পক্ষেই বিষয়গুলো জানা হয়ে উঠে না। আজ এ নিয়ে ছোট্ট একটি আলোচনা হয় এডভোকেট মাওলানা মুফতি আল আমীন ভাইয়ের সাথে। আলোচনার সারমর্মটা নিম্নে তুলে ধরা হলো।

একটি রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান ৩টি স্তম্ভ হলো-
ক। নির্বাহী বিভাগ
খ। সংসদ ও
গ। বিচার বিভাগ

নির্বাহী বিভাগ যারা পরিচালনা করেন তাদের সবাইকে নিয়েই রাষ্ট্রের প্রশাসনিক অবকাটামো গড়ে উঠে।
নির্বাহী বিভাগের পদাবলী প্রায় এ রকম

ক। প্রেসিডেন্ট
খ। প্রধানমন্ত্রী
গ। মন্ত্রী
ঘ। সচিব
ঙ। অতিরিক্ত সচিব
চ। সিনিয়র সহকারী সচিব
ছ। যুগ্মসচিব
জ। উপ-সচিব
ঝ। সিনিয়র সহকারী সচিব
ঞ। সহকারী সচিব

জাতীয় সংসদ একটি দেশের অন্যতম স্তম্ভ। দেশের পুরো অঞ্চলকে ৩০০টি আসনে ভাগ করে এলাকাভিত্তিক ৩০০জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এই ৩০০জন এমপি ভোটে আবার ৪৫টি মহিলাদের জন্য বিশেষ আসন বরাদ্দ থাকে যা এমপিদের ভোটে পাশ হয়। এই ৩০০টি আসনের মাধ্যমে সারাদেশের জনগণের সাথে রাষ্ট্রের সরাসরি সম্পৃক্ততা থাকে। জাতীয় সংসদে সদস্যগণ একদিকে দেশের সকল আইন পাশ, সংশোধন, অনুমোদন দেন। অপরদিকে জনগণের কল্যাণে যাবতীয় সিদ্ধান্তবলী সংসদে পাশ করে তা বাস্তবে রূপায়ন করেন

তৃতীয় বিভাগটি হলো বিচার বিভাগ
আমাদের বিচার বিভাগ প্রায় এভাবে সাজানো
সুপ্রীম কোর্ট
হাইকোট বিভাগ- আপিল বিভাগ
১০০বিচারপতি ৯জন বিচারপতি
হাকোর্টের অধীনে
জেলা জজ দায়েরা জজ
অতিরিক্ত জজ অতিরিক্ত দায়েরা জজ
যুগ্মজজ যুগ্ম দায়েরা জজ
সিনিয়র সহকারী জজ চীপ ম্যাজিস্ট্রেট
সহকারী জজ ম্যাজিস্ট্রেট

মন্ত্রনালয়ের মধ্যে নিম্নে তিনটি মন্ত্রনালয় সম্পর্কে কিছুটা ধারণা দেওয়া হলো-
প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়
এর অধীনে থাকে
সেনাবাহিনী নৌ বাহিনী ও বিমান বাহিনী
সেনাবাহিনীর পদাবলি নিম্নরূপ
জেনারেল
লে. জেনারেল
মেজর জেনারেল
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল
কর্ণেল
লেফটেন্যান্ট কর্ণেল
মেজর
ক্যাপ্টেন
লেফটেন্যান্ট
সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট

এসবপদগুলো সরাসরি অফিসার পদে যারা ঢুকে তাদের থেকেই পূরণ করা হয়।
আর যারা সিপাহী হিসেবে ঢুকে তাদের পদগুলো নিম্নরূপ
সিপাহী
ল্যান্স নায়েক
নায়েক
ল্যান্স কর্পোরাল
কর্পোরাল
কোয়ার্টার মাষ্টার
মাষ্টার
ওয়ারেন্ট অফিসার
অনারারি ক্যাপ্টেন

একজন সিপাহী সর্বোচ্চ অনারারি ক্যাপ্টেন হতে পারেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় এর অধীনে থাকে
পুলিশ বিজিবি আনসার র‌্যাব
পুলিশ প্রশাসন যেভাবে সাজানো
আইজিপি
অতিরিক্ত আইজিপি
ডিআইজি
অতিরিক্তি ডিআইজি
এসপি
অতিরিক্ত এসপি
সহকারী এসপি

সহকারী এসপি পদ থেকে উপরের পদগুলোতে বিসিএস ক্যাডার থেকে পুরণ করা হয়।আর একজন সাধারণ কনস্টেবল থেকে
সহকারী এস আই,
এসআই
ওসি পর্যন্ত হতে পারে। এগুলো সরাসরি নিয়োগ হয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়
জনপ্রশাসন মন্ত্রী
সচিব
অতিরিক্ত সচিব
যুগ্ম সচিব
অতিরিক্ত যুগ্ম সচিব
উপসচিব- সমমর্যাদার জেলা প্রশাসক
সিনিয়র সহকারী সচিব- সমমর্যাদার উপজেলা নির্বাহী অফিসার
সহকারী সচিব, সমমর্যাদার এসিল্যান্ড, সহকারী কমিশনার, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

একটি রাষ্ট্র চালাতে, নিয়ন্ত্রন করতে উপরোক্ত পদগুলোতে নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠা হলেই সে রাষ্ট্র কোন শক্তির পক্ষে পরিচালনা করা সম্ভব। নতুবা নয়। তো, আমরা যারা মাঝে মাঝেই রাজপথে দেশ দখলের হুঙ্কার শুনি, গদি দখলের গালগল্প শুনি, তাদের কাছে আমার জিজ্ঞাসা, উপরে রাষ্ট্রের যে মূল ৩টি স্তম্ভের কথা বলা হলো, এতে কি এই হুঙ্কার দাতাতের ১% নিয়ন্ত্রনতো দূরের কথা কোন প্রকার সমর্থক আছে? তা না হলে কেন এসব বাগাড়াম্বর করে লোক হাসানো হয়?

রাষ্ট্রের ৪র্থ স্তম্ভ হিসেবে মনে করা হয় সংবাদপত্রকে। কিন্তু আমরা যারা বায়তুল মুকাররমে কয়েকহাজার ছাত্র সমেত বড় বড় আওয়াজ তুলি, তাদের কি বর্তমান বাংলাদেশের সংবাদপত্রের মধ্যে ১% মালিকানা আছে? আমার জানামতে কিছুই নেই।

একটি রাষ্ট্রের ৫ম শক্তি হলো সেই দেশের প্রেসারগ্রুপ। তাদের মধ্যে দেশের আইনজীবিগণ, ব্যাবসায়ীগণ, সাংবাদিকগণ, নানা ধরণের পেশাভিত্তিক সংগঠন, বুদ্ধিজীবি, খেলোয়াড়, চলচ্চিত্রজগতের লোকজন, অবসরপ্রাপ্ত আমলা, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক লোকজন, সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো রাষ্ট্র পরিচালায় প্রভাব বিস্তার করে থাকে। এই ৫ম স্তরে আছে বাংলাদেশের গোটা আলেম সমাজের সর্ববৃহত একমাত্র সংগঠন হেফাজতে ইসলাম।
৫ম স্তরের লোকগুলো সরাসরি রাষ্ট্র চালায় না। তবে তারা মাঝে মাঝেই প্রভাব বিস্তার করে থাকে।

আসলে আমরা রাষ্ট্রকে যেভাবে খুব ছোট মনে করি, মনে হয় রাষ্ট্র এতটা ছোট নয়। রাষ্ট্র মাঝে মাঝে দুয়েকটা বড় মিছিল দেখলেই কাবু হয়ে যায় না। রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রনকারী শক্তিগুলোর মধ্যে যদি কোনরূপ অস্থিরতা তৈরী হয় তাহলেই কেবল প্রেশারগ্রুপটি সমর্থন যোগাতে পারে। এছাড়া প্রেসারগ্রুপগুলোর তেমন কোন ভুমিকা নেই।

আমরা বাংলাদেশের সকল উলামায়ে কেরাম মিলে একটি রাষ্ট্রের শক্তির ৫ম স্তরের সামান্য একটি অংশমাত্র। তাহলে আমরা অনেক সময় যে সব হুঙ্কার দিই তা কি জেনে দিই, নাকি না জেনেই দিই তা আমার বুঝে আসে না।

এডভোকেট মুফতি আল আমীন ভাইয়ের সাথে আজকের আড্ডাটি আমার জন্য অনেক উপকার বয়ে আনলো। আসুন, আমরা দেশে বড় ধরণের কোন পরিবর্তন আনতে হলে এসব শক্তির জায়গাগুলোতে নিজস্ব লোক প্রতিষ্ঠিত করি। তাহলেই কিছু একটা করা সম্ভব। নতুবা অলীক স্বপ্ন দেখিয়ে কী লাভ?

লেখক: অধ্যাপক সৈয়দ শামছুল হুদা, সম্পাদক-নুরবিডি

27.10.2019

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য