শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

বিশ্বব্যাপী কালো দিবস পালিত



তামাদ্দুন২৪ডটকম: ভারত অধিকৃত কাশ্মীরে ভারতের সেনা কর্তৃক জুলুম-নির্যাতন ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে গতকাল ২৭ অক্টোবর কাশ্মীর কালো দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে এ বছর লন্ডনের ১০ ডাউনিং স্ট্রিট ( ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে) এলাকায় স্মরণ কালের বিশাল প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে ট্রাফালগার স্কয়ার পর্যন্ত পুরো এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। এদিকে পাকিস্তানেও পালিত হয়েছে এ দিবসটি।

ব্রিটেনের বিভিন্ন শহর থেকে আগত হাজার হাজার প্রতিবাদী জনতার মুখে একটাই শ্লোগান ছিলো কাশ্মীরের উপর থেকে ইতিহাসের ঘৃণ্যতম কারফিউ তুলে নিয়ে সেখানকার ন্যূনতম মানবাধিকার বহাল করতে হবে, কাশ্মীর কে সন্ত্রাসী মোদীর কবল থেকে উদ্ধার করতে হবে এবং কাশ্মীরের স্বাধীনতা বাস্তবায়ন করতে হবে। লন্ডনে স্মরণ কালের এ বিশাল প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশে ইকরা টিভি চ্যানেল ও বাংলাদেশী কমিউনিটির প্রতিনিধি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন মাওলানা মুফতি আবদুল মুনতাকিম। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, স্বাধীনতা কখনও আটকে রাখা যায় না। আজ না হোক কাল কাশ্মীর স্বাধীন হবেই।

কালো দিবস পালনের উপলক্ষ হিসেবে জানা যায়, ১৯৪৭ সালের ২৭ অক্টোবর অবৈধভাবে জম্মু ও কাশ্মীর দখল করে ভারত। ভারতের অবৈধভাবে কাশ্মীর দখলের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে পাকিস্তানি ও কাশ্মীরিরা রোববার কালোদিবস পালন করেছেন। ভারতের ওই দখলদারিত্ব প্রত্যাখ্যান করে পাকিস্তানসহ বিশ্বের অসংখ্য মুসলমানরা। এই বার্তা বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দিতে রোববার নিয়ন্ত্রণ রেখার উভয় পাশে এই কর্মসূচি পালিত হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীর অচল করে দিয়ে এই কালোদিবস পালিত হয়েছে।


কাশ্মীরে ভারতীয় দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে লন্ডনে কালো দিবস পালিত

এদিকে ইউরোপের বিভিন্ন শহরেও এই দিবসটি পালন করা হয়েছে। ব্রাসেলস, হেগ, ফ্রাংকফুর্ট ও বাসের্লোনাসহ বেশ কয়েকটি শহরে এই দিবস পালন করেছে পাকিস্তানী এ কাশ্মীরিরা। এ ছাড়া জাপানে অবস্থানরত পাকিস্তানীরা এদিন টোকিও ভারতীয় দুতাবাসের সামনে বিক্ষোভ করেছে। প্রসঙ্গত গত ৫ আগস্ট সংবিধান থেকে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা সংক্রান্ত ধারাটি বিলোপ করে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। এর মাধ্যম জম্মু ও কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল হয়ে যায়। রেডিও পাকিস্তানের খবরে এ কথা বলা হয়। এ উপলক্ষে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, অন্য বছরের চেয়ে এবারের কাশ্মীর কালোদিবস ভিন্নতর।

তিনি বলেন, ১৯৪৭ সালের ২৭ শে অক্টোবর বেআইনিভাবে জম্মু ও কাশ্মীর দখল করে ভারত। আর এবার ৫ই আগস্ট তাই করে। তারা একতরফাভাবে বিতর্কিত ওই ভূখন্ডের বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে, যা এ অঞ্চলের জনসংখ্যাতত্ত্ব ও পরিচয়কে পাল্টে দেবে। ইমরান খান আরো বলেন, অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করে এবং মিডিয়া ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর অনাকাঙ্খিতভাবে বিধিনিষেধ দিয়ে কাশ্মীরকে এই গ্রহের সবচেয়ে বড় জেলখানা বানিয়ে ফেলা হয়েছে। সেখান থেকে অবিলম্বে কারফিউ এবং ওইসব বিধিনিষেধ প্রত্যাহার দাবি করেন ইমরান। ওদিকে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ড. আরিফ আলভি বলেছেন, ভারতের দখলদার বাহিনী বর্ণনার অযোগ্য অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে কাশ্মীরের জনগণ, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে। এক্ষেত্রে তাদেরকে পুরোপুরি দায়মুক্তি দেয়া হচ্ছে। রেডিও পাকিস্তান, ডন।


এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত কাশ্মীরের উপর ভারতের বিতর্কিত কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টার বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপ করতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এমন এক সময় তিনি এ আহ্বান জানালেন, যখন উপত্যকার মানুষ সাত দশক আগে কাশ্মীর ভাগ হওয়ার বার্ষিকী স্মরণ করছে। কাশ্মীরের পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত অংশের জনগণ রোববার কাশ্মীর ভাগ হওয়ার ৭২ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে কালো দিবস পালন করেছে। ব্রিটিশরা ভারত ছেড়ে যাওয়ার পর, যে রক্তাক্ত প্রক্রিয়ায় দেশ ভাগ হয়, সেটা দু্‌ই দেশের মধ্যে স্থায়ী শত্রুতা সৃষ্টি করেছে। দুই দেশের মধ্যে এ পর্যন্ত তিনটি যুদ্ধ হয়েছে এবং দুই দেশই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হয়েছে।

দুই দেশের মধ্যে সবসময়ই উত্তেজনা বিরাজ করলেও এ বছরটা বিশেষভাবে উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশ পরস্পরের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালিয়েছে। আগস্ট মাসে নয়াদিল্লী নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়ে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরের স্বায়ত্বশাসনের অধিকার বাতিল করে। এর পর থেকেই ওই অঞ্চলে চলাফেরা ও যোগাযোগের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়, যেটাকে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত পাকিস্তানী দূত আসাদ মজিদ খানের মতো পাকিস্তানী কর্মকর্তারা অবরোধ আরোপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত পাকিস্তানী রাষ্ট্রদূত আসাদ মাজিদ খান বলেছেন, “তাদেরকে এই অবরুদ্ধ অবস্থা তুলে নিতে হবে এবং কাশ্মীরের জনগণকে তাদের মৌলিক স্বাধীনতা দিতে হবে”।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ভারতের প্রধান আকার প্যাটেল সম্প্রতি এক বিবৃতিতে নিউজউইককে বলেছেন, “ভারত যেভাবে গত দুই মাস ধরে কাশ্মীরের সিনিয়র রাজনীতিবিদ ও পার্লামেন্টের সদস্যদেরকে কোন ধরণের অভিযোগ ও বিচার ছাড়াই আটক করে রেখেছে, এবং এমন সময়ে সেটা করা হয়েছে যখন তাদেরই এলাকার ব্যাপারে বড় ধরণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ভারত তার উপর আরোপিত আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা পুরোপুরি লঙ্ঘন করেছে।”

উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে কাশ্মীরীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে এবং সেটা দমনের জন্য উপত্যকায় ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর হাজার হাজার অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। প্রধান শহর ও নগরগুলোতে বিক্ষোভ এবং সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে, যদিও ভারত শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অ্যাকসেশান ডে’ হিসেবে উদযাপন করেছে। খান আরও বলেন, “পুরো উপত্যকা জুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে এবং সেখানে জনগণ সরকারের সাথে অসহযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছে”।

সীমান্ত এলাকায় নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে সীমান্তে গুলি বিনিময়ে এ পর্যন্ত নয়জন নিহত হয়েছে। খান বলেন, “আমরা কোন সসংঘাত চাই না”। তিনি আরও বলেন, তবে “যদি কোন সীমানা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে, আমরা তার উপযুক্ত জবাব দিবো”। তিনি বলেন, “আমরা আসলে সীমান্তে চরম সংযম ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে এসেছি। আমরা আশা করি ভারত দায়িত্বশীল আচরণ করবে, কারণ দুই দেশই এখানে পারমাণবিক শক্তির অধিকারী”।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বারবার সতর্ক করে এসেছেন যে, এ ধরণের সীমালঙ্ঘনের ঘটনা দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ ডেকে আনতে পারে। গত মাসে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেয়া ভাষণে তিনি এমনকি এই আশঙ্কাও জানান যে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কোন যুদ্ধ লাগলে সেটা পারমাণবিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। ইমরান খান বলেন, “আট মিলিয়ন মানুষ অবরুদ্ধে জীবন কাটাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মুখের উপর এটা আঘাতের মতো”।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ