শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

মানুষ জীবনানন্দ ও আমার অনুভূতি : ইফতেখার জামিল


মানুষ জীবনানন্দ বইটা পড়লাম। অবশ্য শুরু করার আগেই শেষ হয়ে গেল। তার স্ত্রী লাবণ্য দাশের লেখা। তিনি মানুষ জীবনানন্দকে আলোতে আনার চেষ্টা করেছেন। কিছু ভালো তথ্য পেয়েছি। শেয়ার করি।

বিবাহের প্রথম রাতে জীবনানন্দ প্রথমেই তাকে একটা রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইতে বলেন। সঙ্গীতটি হচ্ছে, জীবন ও মরণের সীমানা ছাড়ায়ে বন্ধু হে আমার রয়েছ দাড়ায়ে। নির্বাচনটা অন্যরকমের। লাবণ্য দাশও প্রশ্ন করেছিলেন। জীবনানন্দ বলেন, এই গানে জীবনের উদ্বোধনের একটা ব্যাপার আছে।

জীবনানন্দের স্ত্রী হিন্দু-সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী স্বরাজের সাথে যুক্ত ছিলেন। এর জন্য পুলিশি ঝামেলাও ছিল। জীবনানন্দ স্ত্রীর এই অবস্থানকে সমর্থন করতেন। এটা পড়ে আমার বেশ অবাক লেগেছে। যে গোষ্ঠী স্পষ্ট হিন্দুত্ববাদের সমর্থক, নিরীহ মানুষদের হত্যাকারী ও মুসলিম বিদ্বেষী , এমন একটা গোষ্ঠীর সাথে তার স্ত্রী জড়িত, এটা জানার পরেও তিনি তার স্ত্রীর অবস্থানকে কীভাবে সমর্থন করলেন?

বাংলা সাহিত্যের একটা কলঙ্কজনক অধ্যায় হচ্ছে, শুরুর দিকে বাংলা সাহিত্য হিন্দু সাম্প্রদায়িকতার মাধ্যমে আক্রান্ত ছিল। আপনি একটা নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের হতেই পারেন। সম্প্রদায়ের পক্ষে থাকতেই পারেন। তবে অন্য সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানো ও তার মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার কাজ তো আপনি করতে পারেন না। রবীন্দ্রনাথ শিবাজি-মেলায় শরীক হতেন। শরৎচন্দ্র কংগ্রেসি ছিলেন। এবং একটা চিঠিতে লেখেন, হিন্দু বাঙালিরা মূল্যবোধ সম্পন্ন। ফলে সংখ্যার বিচার করে মুসলমানদের সাথে তারা রাজনৈতিক অধিকার ভাগাভাগি করতে পারবেনা। বুদ্ধদেব বসুরাও আসলে এই ধারার পক্ষেই ছিলেন। এ জন্য আমার মনে হয়, বাংলা সাহিত্য না করে বাংলাদেশী সাহিত্য চর্চা করা উচিত। বাংলা সাহিত্যের চেয়ে বাংলাদেশী সাহিত্য আরও অনেক সমৃদ্ধ। বাংলাদেশী সাহিত্য যে সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ ধারণ করে, সেটা নানাভাবেই বাংলা সাহিত্য থেকে মহান। বাংলা সাহিত্য বৃহত্তর ভারতের একটা অংশ মাত্র। আর বাংলাদেশ এ অঞ্চলের স্বতন্ত্র সভ্যতা।

জীবনানন্দ হয়তো তার স্ত্রীর প্রতি সন্তুষ্ট ছিলেন না। তাদের আচরণ মিলত না। তবে এটা তিনি সরাসরি প্রকাশ করতেন না। বরিশালে থাকতে স্ত্রীকে ঠিকঠাক ঘরের বাইরে বের হতে দিতেন না। স্থানীয় হিন্দু সংস্কৃতি-বিরোধী বলে। জীবনানন্দ ভীতু প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। তার ছেলের একবার মাথা কেটে গেলো। ডাক্তার সেলাই দিতে আসলো। ডাক্তারের সেলাইয়ের কথা শুনেই তিনি সরে পড়লেন। জীবনানন্দের স্ত্রী এমন আপাত নিরীহ স্বামী পছন্দ করতেন না। একজন দাপুটে স্বামী চাইতেন। অথচ স্বয়ং তার দাপটে জীবনানন্দ আরও মাটি হয়ে যেতেন। এটা একটা আত্ম-সংঘর্ষ। একজন হিন্দু নারী হিসেবে স্বামীর দাপট কামনা আবার আধুনিকতার অংশ হিসেবে নারীর স্বতন্ত্রতা ফুটিয়ে তুলার চেষ্টা, একটু অস্বাভাবিক।

জীবনানন্দের জীবনের প্রতি ও জগতের প্রতি এক ধরণের মুগ্ধতা ও ক্লান্তি ছিল। এই মুগ্ধতা ও ক্লান্তি থেকেই তিনি কবিতা লেখতেন। জীবনানন্দ খুব একটা রাজনীতি ও দর্শন সচেতন ছিলেন না। নিরীহ একজন শিক্ষাবিদ কবি ছিলেন। এই সীমাবদ্ধতা মাথায় রেখেই জীবনানন্দ পাঠ করা উচিত।

‘ আমি ক্লান্তপ্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন,
আমাকে দুদণ্ড শান্তি দিয়েছিল নাটোরের বনলতা সেন।

লেখক: সম্পাদক-ফাতেহ২৪ডটকম

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য