শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

সোস্যাল মিডিয়ার ‘লাইকখোর’ সমাচার। মুফতী এনায়েতুল্লাহ


সোস্যাল মিডিয়ায় নানা সময় নানা ধরনের ছবি ভাইরাল হয়। ভাইরাল হওয়া ছবির সবগুলো সুখকর নয়। কিছু ছবি থাকে অশ্লীল, কিছু বেদনাদায়ক, কিছু শিক্ষণীয়। আবার কিছু ছবি দেখে মানুষ হাসির খোরাক পায়। যা নিয়ে মানুষ ট্রল করার সুযোগ পায়, আবার অন্যকে ওইসবের সূত্র ধরে রোস্টও করা হয়। তবে কিছু ছবি থাকে একেবারে অপ্রয়োজনীয়, অসঙ্গত। এসব ছবির কোনো দরকার নেই। ছবিগুলো শোভন নয়, ছবিগুলো ছবিওয়ালা ব্যক্তির সঙ্গে বেমানান। তার পরও একশ্রেণির লাইকখোর লাইক কামানোর ধান্ধায় এসব ছবি পোস্ট করেন। যা রীতিমতো বিরক্তিকর।

যারা এ কাজ করেন, তারা নিজেকে খুব সচেতন, আপডেট ও এগিয়ে থাকা মানুষ বুঝানোর চেষ্টা করেন। সেই সঙ্গে তিনি যে অনেক জ্ঞানী, অনেক কিছু জানেন, অনেক লোকের সঙ্গে তার পরিচয়, অনেক লোকের সঙ্গে তারা জানাশোনা-উঠাবসা, অনেক জায়গায় তার যাতায়াত এটা বুঝাতে চান। এসব করে ছবিতে কিছু লাইক-কমেন্ট বাড়ানোর ধান্ধা করেন। আলোচিত হওয়ার চেষ্টা করেন। আমি তাদের বলি, লাইকখোর!

শায়খুল হাদিস আল্লামা তাফাজ্জুল হক হবিগঞ্জী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাকে চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে ঢাকা আনা হয়েছে। আমরা শায়খের সুস্থতা কামনা করি। দোয়া করি, তিনি পরিপূর্ণভাবে সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসুন। তার ছায়া আমাদের ওপর দীর্ঘ হোক।

তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাকে দেখতে অনেক মানুষ যাবেন এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এ খবর জানাতে যেয়ে, তার হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকার ছবি, নাকে নল লাগানো ছবি দিতে হবে কেন? কেন ভিডিও ছাড়তে হবে? হজরতকে ঢাকা আনা হচ্ছে এ খবর জানাতে কাঁথায় জড়ানো হজরতের ছবি দেওয়া কী খুব দরকার? এই মুহূর্তে হজরতের যথাযথ চিকিৎসার পাশাপাশি দোয়া দরকার। এসব ছবি প্রকাশে তিনি সুস্থ হবেন না।

এর আগে একবার আল্লামা আহমদ শফীর গেঞ্জি পড়া ছবি প্রকাশ করা হয়। শুধু এই দুই বুজুর্গের কথা নয়, অনেকের অসুস্থতার খবর জানাতে কিংবা অসুস্থ বুজুর্গকে দেখতে যেয়ে হাতে স্যালাইন লাগানো, গেঞ্জি গায়ের ছবি আপ করেন, এটা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। এটা এক ধরনের অসুস্থ মনোবৃত্তি। এমন ছবি প্রকাশ আমাদের মূল্যবোধের সঙ্গে মেলে না।

আমি বলি, লাইক পেতে চাওয়া খারাপ কিছু নয়; খারাপ হলো- লাইক পাওয়ার নেশায় পেয়ে বসা। মানুষ খবর পেতে ভালোবাসে, খবর দিতেও ভালোবাসে। তাই বলে যেমন-তেমন ছবি প্রকাশ করতে হবে?

আশা করি, সুহৃদ বন্ধুরা বিষয়টি নিয়ে ভাববেন।

লেখক: সাবেক সভাপতি: বাংলাদেশ ইসলামী লেখক ফোরাম

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য