শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

একটি আতিথেয়তা এবং আমার কিছু শেখার গল্প : মুহাম্মদ বিন ওয়াহিদ


ছবি: এমদাদ সাদী 
১.
গতরাতে খুব বেশি ঘুম হয় নাই। অনেক রকম কসরত করেও যখন ঘুমাতে পারছিলাম না তখন মোবাইলের নোটবুকে লিখতে শুরু করলাম। ভাবলাম লিখতে লিখতে হয়ত ঘুম চলে আসবে। কিন্ত তবুও এলো না।
অথচ,আমার জন্য আজকে অন্তত তাড়াতাড়ি ঘুমানোটা খুব দরকার।কাল সকালে একটা প্রোগ্রাম আছে। তামাদ্দুন টুয়েন্টি ফোর ডটকমের সম্পাদক মাঈনুদ্দীন ওয়াদুদ ভাই দাওয়াত করেছেন। দাওয়াত বললে আসলে ভুল হবে, প্রোগ্রামে যাওয়ার জন্য তিনি নির্দেশ দিয়েছেন। আমাকে সেখানে যেতেই হবে। চাই সেটা যেকোনোভাবেই হোক না কেন!

মাঈনুদ্দীন ওয়াদুদ ভাইকে আসলে ব্যক্তিগতভাবেই আমার খুব ভালো লাগে। লোকটা অনেক বিনয়ী। সবসময় মুখের মধ্যে মাধুর্যতা রেখে কথা বলেন। দেখেই বোঝা যায় বড় স্বপ্নবাজ তিনি। সত্যিই তাই।
তিনি রংধনু নামে একটা শিল্পী গোষ্ঠীর পরিচালক । মাদরাসাতুল মারওয়া নামে একটা মাদরাসার মোহতামিম। আর তামাদ্দুনের সম্পাদক তো আছেনই। সবকিছুকে সমানতালে সঞ্চালন করে চলেন। এমন বহু প্রতিভাধর ব্যক্তিটাকে পছন্দ না করার কোনো কারণ আমার চোখে পড়ে না।

তাঁকে পছন্দ করার আরও বড় একটা কারণ হল, তামাদ্দুনের জন্য আমি কোনো লেখা দিলে তিনি যত্নসহকারে সেটা প্রকাশ করেন। সেই সম্পাদক সাহেবই যখন বারবারে তার প্রোগ্রামে যাওয়ার কথা বলেন, তখন আমারমত লোকের সেই কথা ফেলে দেওয়ার কোনো অধিকার থাকতে পারে না । এটাই সহজ কথা।

দীর্ঘ দুই ঘন্টা লেখালেখি করেও যখন দেখলাম ঘুম আসছে না তখন মোবাইলটা রেখে চোখ বন্ধ করে ফেললাম। এরপরে কখন ঘুমিয়ে গেছি ঠিক বলতে পারবো না।

ফজরের আজান হলে ঘুম ভাঙলো। অজু করে নামাজ পড়ে আরেক দফা ঘুমানোর জন্য বিছানায় গা এলিয়ে দিতেই দুচোখে রাজ্যের ঘুম নেমে এল। পৃথিবীর আর কোনো খবর রইল না। ঘুম ভাঙলো সকাল সাড়ে নয়টায়। ঘুম ভাঙার পরে যখন ঘড়ি দেখলাম তখন বিছানা থেকে লাফিয়ে ওঠলাম। এটা কী হল! অনেক বিলম্ব হয়েগেছে। তাড়াতাড়ি গোসল করে, নাস্তা করে, মাদরাসায় একটু কাজ ছিল সেটা শেষ করে তাদ্দুনের প্রোগ্রামের উদ্দেশ্য বেরিয়ে পড়লাম।

২.
মাদরাসাতুল মারওয়ায় যখন পৌঁছি, তখন দেখি মাদরাসার মূল গেইটে দু'জন ছাত্র দাঁড়িয়ে আছে এস্তেকবালের (অভিবাদন) জন্য। ব্যাপারটাতে অভিভূত হলাম। তামাদ্দুনের অফিস আর মাদরাসার অফিস মূলত একটাই। অফিসে গিয়ে খ্যাতিমান অনেক লেখকেই দেখতে পেলাম। তাঁদের সাথে দেখা করে অনুষ্ঠানে যোগ দিলাম। অনুষ্ঠানটা মূলত জাতীয় লেখক পরিষদের প্রস্তুতি মূলক সভা। সারা দেশেই তাঁরা এমন প্রস্তুতি সভা করছেন। সদস্য সংগ্রহ করছেন। এই সংগঠনের মাধ্যমে তারা কী কী করতে চান, তা লোকদেরকে জানাচ্ছেন। সংগঠনের মূল কার্যক্রম এখনও শুরু হয় নি। মজার ব্যাপার হল তরুণ লেখকরা কল্পনাতীত সাড়া দিচ্ছে তাঁদের ডাকে।

আমি অনুষ্ঠানের এক কোণে বসে গেলাম। একটু পরেই দেখি এক ভাই উত্তপ্ত গরমে ঠাণ্ডা লেবুর শরবত নিয়ে এসেছেন। শরবতটুকু পান করে কলিজা ঠাণ্ডা হয়েগেল। মন থেকে দুআ এল। হয়ত দ্রুত ক্লান্তি দূর করার জন্য এই শরবতের প্রয়োজন ছিল! আলহামদুলিল্লাহ।

একেএকে অনেকেই কথা বলছেন। হঠাৎ আমার নাম ঘোষণা হল। আমি ছোট মানুষ। লোকেরা আমাকে তেমন একটা চেনেও না। কোনো জায়গায় আমার বক্তৃতা-ভাষণ দেওয়ার অভ্যাসও নাই। জড়তা গুলো এখনও কাটিয়ে ওঠতে পারি নাই। তবুও কাঁপা কাঁপা গলায় দু-চার কথা বলে শেষ করে দিলাম।

আসলে প্রত্যেকটা সফরেই আমাদের জন্য প্রচুর পরিমাণ শেখার জিনিস রয়েছে। এই শেখার উদ্দেশ্যও মূলত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমি যাওয়ার চেষ্টা করি। আজকে কওমি অঙ্গনে শক্তিশালী মিডিয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা হল। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়।

আজকে আমরা ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব এবং শাশ্বত বাণীগুলো পৃথিবীর আনাচে-কানাচে পৌঁছে দিতে পারছি না শুধুমাত্র মিডিয়ার অভাবে। দুষ্ট মিডিয়াগুলো ইসলামকে সবসময়ই প্রশ্নবিদ্ধ করে রাখতে পছন্দ করে। বর্তমানে জাতীয় গণমাধ্যমগুলোতে এক-দু'জন ছাড়া যারাই কাজ করছে, তারা কেউ ইসলামের ভালো চায় না। তারা একেকজন হিন্দু-খৃষ্টানদের কেনা গোলাম। সামান্য কয়টা টাকার লোভে নিজেকে বিকিয়ে দিয়েছে। তারা ইসলামের কথা বলতে গেলে নিজেদেরকে মৌলবাদী মনে করে। নিজেরা যেন ছোট হয়ে যায়। ইগোতে লেগে যায় তাদের। তাই তারা ইসলামের কথা বলে না। ইসলামই যে একমাত্র শান্তির ধর্ম, মানুষের মুক্তির ধর্ম এটা ওরা স্বীকার করে না।

দেখেন, কওমি মাদরাসার ছাত্রদের দারা, আলেম উলামাদের দারা দেশের কোনোই কি সুনাম-সুখ্যাতি অর্জিত হয়নি? তাঁরা দেশের উন্নয়নে কোনো অবদান রাখে নি?
অবশ্যই রেখেছে। কিন্তু, হলুদ মিডিয়াগুলো তাঁদের অবদান প্রকাশ করার বেলায় সংকীর্ণমনার পরিচয় দেয়।

আজকের অনুষ্ঠানে এই সমস্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হল। জাতীয় লেখক পরিষদের কর্ণধার যারা আছেন, তাঁরা এই মিডিয়ার অভাবটা পূরণ করতে চান এবং সেটা নবীন-প্রবীণদেরকে সঙ্গে নিয়েই।

লেখাটা আর দীর্ঘ করা উচিত হবে না। পাঠক নিশ্চয়ই রেগে গেছেন আমার এই লেখাটা পড়ে! পাঠক,ক্ষমা করবেন। সামনে থেকে ইনশাআল্লাহ ভালো কোনো লেখা উপহার দিব আপনাদেরকে।

সর্বশেষ মাঈনুদ্দীন ওয়াদুদ ভাইয়ের প্রতি মন থেকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি আমাকে দাওয়াত দেওয়ার জন্য। তার জন্যই সুন্দর এই আয়োজনটা পেয়েছি। আর ধন্যবাদ জানাচ্ছি অনুষ্ঠানের "বিরিয়ানি পর্ব" এর জন্য।
আল্লাহ তাআলা সবাইকে ভালো রাখুন, সুস্থ রাখুন!
লেখকঃ সম্পাদক-ঈশান

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য