শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

মাওলানা মুহিউদ্দীন খান রহ. স্বরণে...। মুসা আল হাফিয


তামাদ্দুন২৪ডটকম: মুহিউদ্দীন খান রহ.। ডানা লাগিয়ে দিয়েছিলেন আমার পীঠে। ভাবা যায় , জালালাইন পড়ুয়া এক কিশোরের লম্বা এক প্রবন্ধকে মাসিক মদীনায় তিনি ছেপে দিলেন প্রধান রচনা হিসেবে! তারপর অনবরত মুসলিম জাহানে আমার লিখে যাওয়া , কলাম আর কলাম!

মদীনা ও মুসলিম জাহানে প্রকাশিত আমার কলাম থেকে বাছাই করে ২০০৩ সালে ছাপা হলো ' আমি বিজয়ের সন্তান।' তিনিই বলেছিলেন আনওয়ার হুসেন লালনকে ' হাফিজের বইটি ইমপ্যাক্ট থেকে ছাপিয়ে দাও। পরিবেশক থাকবে মদীনা পাবলিকেশন্স। '
পল্টনে তার অফিসে বসে আছি। পাশে তার বহু গুণীজন। আমাকে বললেন 'অনুবাদ করেন? ' বললাম ' অতি অল্প, গতি ধীর। ' বললেন ' না, এভাবে হবে না। বেতকল্লুফ অনুবাদ করে যেতে হবে। '
তারপর অনুবাদে আমার ভীরু কদমে চলতে শেখা। হঠাৎ একদিন পত্র পেলাম তার! ' হাজারায়ে ছুওম কি কিয়ামতের সুগরা ' বইটি অনুবাদ করে দিতে হবে। আগ্রহী হলে যেন দ্রুত জানাই। আগ্রহ প্রকাশ করলাম, হাতে এলো বই। ইহুদীবাদ নিয়ে এমন বই আরেকটি পড়া হয়নি আমার। দারুণ এক মুগ্ধতা থেকে সম্পন্ন করলাম অনুবাদ। বাংলাবাজারের অফিসে নিয়ে গেলাম হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি। সেদিনই প্রথমবার পেলাম অনুবাদগ্রন্থের অগ্রিম সম্মানী! সহাস্যে আমার হাতে তুলে দিলেন কয়েক হাজার টাকা!
মদীনা থেকে বইটি ছাপা হলো পরের মাসে। সহস্রাব্দের কিয়ামত নামে।

জানতাম না বইটি প্রকাশের সংবাদ। জানলাম বিস্ময়সহ! আমি তখন জামেয়া মাদানিয়া বিশ্বনাথে। মাদ্রাসার মাহফিলে প্রধান মেহমান খান সাহেব। হাজার হাজার মানুষের সমাগম। খান সাহেব মঞ্চে উঠলেন। হাতে তার একখানা বই! খুতবা ও প্রাথমিক আলোচনা শেষে তিনি বললেন, আজ আমি এসেছি একটি বইয়ের কথা বলতে এবং একজন চিন্তাবিদ আলেমের কথা বলতে! সকলের কান খাড়া। কী বলবেন খান সাহেব!
তিনি বইটি খুললেন, ভুমিকা পাঠ করলেন এবং আমার বিষয়ে অনেকক্ষন ধরে যা বললেন, তা এখন আমার অশ্রু ঝরায়। বিশাল সেই মাহফিলে তিনি যে উচ্চাশা ব্যক্ত করেছিলেন, যে সম্মানের শিরোপা আমার মাথায় তুলে দিয়েছিলেন, আমি এর যোগ্য হতে পারিনি আজও। ভাবি, মহান এই মণীষার ভালোবাসা ও প্রত্যাশাকে লাঞ্চিত করছি না তো আপন ক্ষুদ্রতা দিয়ে!!
পিতা! আজও আপনার অনুগ্রহকে প্রত্যক্ষ করছি নিজের ডানে - বায়ে। আপনি যে দায় রেখে গেছেন আমাদের উপর, আপনার অভিহিত এই 'সন্তান ' তার দীপ্তিতে প্রজ্জলিত হতে চায়।

লেখক: আলেম বুদ্ধিজীবি

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য