শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

পাকিস্তানের আত্মঘাতি রাজনীতি: অধ্যাপক ডা. মাওলানা সৈয়দ শামছুল হুদা

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমরান খান 

তামাদ্দুন২৪ডটকম:

পাকিস্তানকে অস্থিতিশীল করতে ভেতর বাহির থেকে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। রাজনীতির রঙ্গমঞ্চে উত্থাপ ছড়াতে অনেক দল পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ছে। পুঁজিবাদী রাজনীতির অনেক সুবিধাভোগিরা ইমরান খানের রাজনীতিকে কোণঠাসা করতে মাঠে সক্রিয়। ইমরান খান স্বল্প সময়ের প্রধানমন্ত্রীত্বের সময়ে কৃচ্ছতা সাধনের যে রেকর্ড গড়েছেন তা নতুন প্রজন্মের কাছে প্রশংসনীয় হয়ে উঠলেও এতদিনের সুবিধাভোগী গোষ্ঠী উৎকণ্ঠিত।

বিশেষকরে জাতিসংঘে ইমরান খান যে অসাধারণ ভাষণ দিযেছেন এর ফলে পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের সামনে সাময়িক সময়ের জন্য হলেও ইমরান খান হিরো বনে গেছে। এই অবস্থায় পাকিস্তানের জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ইমরান খানকে ফেলে দেওয়ার যে আহবান জানিয়েছে তা তাদের জন্য কতটুকু ফলপ্রসু হবে তা সময়ই বলে দিবে।

আজকে যদি সুবিধাভোগীদের ইঙ্গিতে সেনাবাহিনী ইমরান খানকে রাজনীতির রঙ্গমঞ্চ থেকে ফেলে দেয়, তার পরবর্তীতে কোন দিনই পাকিস্তানী জমিয়ত ক্ষমতায় আসতে পারবে বলে মনে হয় না। বিশ্ব মোড়লরা জমিয়তকে পাকিস্তানে ক্ষমতাসীন হতে দিবে না। অতীত তার যাই হোক, গত কয়েকমাসের ক্ষমতায় থেকে ইমরান খান মুসলিম বিশ্বের রাজনীতিতে যতটুকু চমক দেখিয়েছেন তাকে স্বাগত জানিয়েছে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম চিন্তাবিদ আল্লামা তাকী উসমানী দা.বা.। বিশ্ববরেণ্য দাঈ মাওলানা তারিক জামিল। উভয় আলেম ইমরান খানের ওপরে ধর্মীয় প্রভাব বিস্তারে বিশেষ ভুমিকা রাখছেন।

আজ যদি ইমরানের পতন ঘটে দায় আসবে জমিয়তের ঘাড়ে। ফলাফল কিন্তু কোন দিনই জমিয়তের ঘরে আসবে বলে মনে হয় না। আলেম-উলামাদের হাতে পাকিস্তানের ক্ষমতা আসার কল্পনা অলিক ভাবনা ছাড়া আর কিছুই নয়। আমার ক্ষুদ্র পর্যবেক্ষণে এটা মনে করি যে, আলেমগণ সবসময়ই রাষ্ট্রের ওপর প্রভাব সৃষ্টিকারী শক্তি হিসেবে থাকার মধ্যেই নিরাপদ থাকবে। যদি ক্ষমতার ভাগাভাগিতে রাষ্ট্রশক্তির রক্তচক্ষুর মুখোমুখি হয়, তাহলে চূড়ান্ত আঘাতে জর্জরিত হবে আলেম সমাজই।

বাংলাদেশে ২০০১সালের নির্বাচনের পুর্বে আলেমরাই বেশি ভুমিকা রেখেছে। নির্বাচনের পরে তারা তেমন কিছুই পায় নাই। পাকিস্তান গঠন আন্দোলনে আলেমদের বড় ত্যাগ ছিল, কিন্তু ক্ষমতার ভাগাভাগিতে তাদের জোটেনি কিছুই। বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে এদেশের আলেমরাই সবচেয়ে বেশি রক্ত দিয়েছে। বৃটিশের বিদায়ের পর আলেমরা কিছুই পায় নাই।

আফগানিস্তানের মতো সশস্ত্র আন্দোলনের মাধ্যমে যদি ক্ষমতার পরিবর্তন করা যায় তাহলে যদি কিছু মিলে। গণতান্ত্রিক পথে আন্দোলন করে, লাখো-কোটি মানুষের লংমার্চ করলেও ফলাফল শুন্যই থাকবে। মধু খাবে অন্যরা। মাঝখানে সাধারণ মানুষের ঘৃণার পাত্রে পরিণত হবে আলেম সমাজ। আর এ কারণে বন্ধ হয়ে যেতে পারে ধর্মীয় রাজনীতিও।

কাশ্মীরের অস্থিরতা, জাতিসংঘে ইমরানের চমক লাগানো ভাষণ, সামরিক শিল্প, শিক্ষা, ও মিডিয়ার ‍উন্নয়নে ত্রিদেশীয় জোট গঠনের্ উদ্যোগ নেওয়ায় ইমরান খানকে নিয়ে যেভাবে আলোচনা হচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে নির্বাচনী বৈধতার প্রশ্ন নিয়ে একটি পরিস্থিতি তৈরী করা, আর এর সূত্র ধরে ক্ষমতা সেনাবাহিনীর হাতে চলে যাওয়ার ক্ষেত্র তৈরী করার দ্বারা আলেম-উলামাদের ভাগ্যের চাকা ঘুরবে বলে মনে হয় না।

লেখক: সম্পাদক-নুরবিডি

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য