শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

যে হ্যাকিংয়ের ঘটনাগুলো সিনেমাকেও হার মানায়!


তামাদ্দুন২৪ডটকম:
হ্যাকিং বলতেই আমাদের চোখের সামনে মাস্ক পড়া অনেক গুলো ভয়ংকর চেহারা ভেসে উঠে। যারা বিভিন্ন প্রোগ্রাম ইনস্টল করে ভিক্টিমকে কাবু করে থাকে। হ্যাকিংয়ের পরিধি বিশাল। আপনার হাতের ছোট্র ডিভাইস থেকে শুরু করে খোদ মহাকাশের স্যাটেলাইট পর্যন্তও হ্যাক করা পসিবল! চলুন আজ বিখ্যাত কিছু ঘটনার সাথে পরিচিত হই:

১. স্টাক্সনেট
আমরা সবাই জানি ইরান সম্প্রতি তাদের পরমাণু কার্যক্রম বন্ধ করেছে। কিন্তু সেটা ঠেকানোর জন্য পেছনে আরও অনেক কিছুই করা হয়েছিল। তার একটি প্রজেক্ট হলো স্টাক্সনেট। পারমাণবিক কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয় সিমেন্সের যন্ত্রপাতি। এটা প্রমাণিত হয়েছে যে আমেরিকা এবং ইসরাইল মিলে মাইক্রোসফট উইন্ডোজের ভেতর এমন একটি ওয়ার্ম (গোপন সফটওয়্যার) ঢুকিয়ে দিয়েছিল যা সিমেন্সের সেই যন্ত্রপাতিগুলো ঠিকমতো কাজ করতে দিত না। মেশিনের চাকাগুলোকে বিভিন্ন গতিতে পরিচালিত করত, কিন্তু অপারেটর সেটা বুঝতে পারত না। তাকে দেখাত একটা ডাটা; আর আসলে চলছে আরেক ডাটা নিয়ে।
ভয়াবহ ব্যাপার, বিশেষ করে সেটা যদি হয় পারমাণবিক চুল্লীতে। এরকমভাবে যদি উল্টাপাল্টা কাজ করিয়ে দেয়া যায়, তাহলে সেখানে দুর্ঘটনা ঘটলে ইরানের কী হতো কে জানে! আরও ভয়ঙ্কর হলো, এমন একটা দুটো ওয়ার্মের কথা আমরা জানি। এমন আরও অজস্র ওয়ার্ম বিভিন্ন জায়গায় স্থাপন করে রাখা হয়েছে।

২. আমেরিকার অস্ত্রভা-ারে চীনের হানা
চীনের হ্যাকাররা আমেরিকার কিছু কিছু অস্ত্রভা-ারের এক্সেস নিয়েছিল। তারা আমেরিকার মিসাইল প্রতিরক্ষা প্রোগ্রামের তথ্যসহ বেশকিছু অস্ত্রের ডিজাইন চুরি করে নিয়ে যায়। এটা নিয়ে বারাক ওবামার সরকার তেমন উচ্চবাচ্য করেনি। বিষয়টি নিয়ে চীনের সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে হয়েছিল।

৩. স্প্যামহাস এ্যাটাক
স্প্যামহাস নামের একটি প্রতিষ্ঠান আছে যারা ই-মেইল স্প্যামিং বন্ধ করে। তারা পৃথিবীর একটি অন্যতম বড় সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। পুরো পৃথিবী থেকে এরা স্প্যাম ই-মেইলের তালিকা বানিয়ে সেগুলোকে বাদ দেয়ার চেষ্টা করে থাকে। আমস্টারডামে অবস্থিত সাইবার-বাঙ্কার নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ই-মেইলকে এরা ব্ল্যাক লিস্ট করেছিল। এটা বুঝতে পেরে সাইবার-বাঙ্কার পাল্টা প্রতিশোধ নেয়। সাইবার-বাঙ্কার ‘ডিস্ট্রিবিউটেড ডিনায়েল অব সার্ভিস’ (উউঙঝ) আক্রমণ করে এবং প্রতি সেকেন্ড ৩০০ গিগাবাইট ইন্টারনেট ট্রাফিক পাঠাতে সক্ষম হয়। এত বিশাল পরিমাণে ট্রাফিক একদিকে পরিচালিত হওয়ার ফলে পুরো ইন্টারনেট ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। এবং পুরো ইউরোপের ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক ভেঙ্গে পড়ে। এর ফলে সাইবার-বাঙ্কারের কর্মকর্তা কামফাসকে স্পেন থেকে গ্রেফতার করা হয়। এবং তার কেসটি বিচারাধীন রয়েছে।

৪. কনফিকার
২০০৮ সালে ‘কনফিকার’ নামের আরেকটি শক্তিশালী ওয়ার্মের খোঁজ পাওয়া যায়, যা কোটি কোটি ওয়েবসাইটের সার্ভারে নিজেকে কপি করে রেখেছে। এটা এতই শক্তিশালী যে, নিজেকে নিজে পাশের আরেকটি সার্ভারে কপি করে দিতে পারে। এটা এত বিশাল আকারে ছড়িয়ে গেছে যে, এর দ্বারা ইনফেকটেড সার্ভারগুলো সব একত্রে যদি তাদের কম্পিউটিং ক্ষমতা ব্যবহার করে, তাহলে এই গ্রহের যে কোন সিস্টেমকে মুহূর্তেই উড়িয়ে দিতে পারবে। তবে এখন পর্যন্ত গাপন সফটওয়্যারটি কারও কোন ক্ষতি করেনি এবং এর পেছনে কারা কাজ করছে তা এখনও জানা যায়নি; শুধু বলা যায় এরা ‘গিফটেড প্রোগ্রামার’।

৫. অপারেশন গেট রিচ
এই পৃথিবীর বেশির ভাগ হ্যাকারই এই ধরনের কাজ করে থাকে ক্ষমতার জন্য। তারা নিজেদের স্বাক্ষর রাখতে চায়। তারা দাবি করে, তারা তাদের দেশকে ভালবাসে। দেশের পক্ষে এরা লড়ে; নয়ত অন্যের শত্রুদের পিছু নেয়। কিন্তু কেউ কেউ সত্যি সত্যি টাকার জন্যই হ্যাকিং করে থাকে। তাদের একজন হলেন আলবার্টো গঞ্জালেস। তিনি এই থেকে টাকা বানাতে চেয়েছিলেন। তাই ২০০৫ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যেই তিনি প্রায় ১৭ কোটি (জ্বী, বাংলাদেশের জনসংখ্যার সমান) ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ডের তথ্য সংগ্রহ করে ফেলেছিলেন। তারপর তিনি নাম্বারগুলো নিজে ব্যবহার না করে খোলা বাজারে ইন্টারনেটে অন্যদের কাছে বিক্রি করে দেন। এটাই এখন পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে বড় আইডেন্টিটি চুরির ঘটনা। এর জন্য গঞ্জালেসের ২০ বছরের জেল হয়েছে।

৬. পে-স্টেশন নেটওয়ার্ক হ্যাক
আমরা সবসময় ভাবি, প্রথাগত কম্পিউটার সিস্টেম হ্যাক হতে পারে। কিন্তু ২০১১ সালে সনি বুঝতে পেরেছিল যখন তাদের পে-স্টেশন নেটওয়ার্ক হ্যাক হয়ে যাওয়ার বেদনা। প্রায় ৮ কোটি ব্যবহারকারীর তথ্য চুরি হয়ে যায় এবং ২০ দিন তাদের গেম নেটওয়ার্ক বন্ধ রাখতে হয়েছিল। তাতে সনির ১৭১ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছিল। বিনোদন খাতে এটাই ছিল সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা।

৭. কোমোডো হ্যাক
কোমোডো হলো সার্টিফিকেট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, যারা ইন্টারনেটের বিভিন্ন ওয়েবসাইটের আইডেন্টিটি নিশ্চিত করে। আপনি যখন গুগল, ফেসবুক, ইয়াহু ইত্যাদি ওয়েবসাইটে ভিজিট করেন, তখন ব্রাউজারে দেখতে পান একটি সবুজ রঙের চিহ্ন যা দিয়ে ভিজিটাররা বুঝতে পারে তিনি সঠিক গুগল/ফেসবুক সাইটে আছেন। কোন ফেক পেজে ভিজিট করছেন না। কিন্তু ২০১১ সালেই কোমোডোর সিস্টেম হ্যাক করে একজন ইরানের হ্যাকার। তিনি সেখান থেকে বিখ্যাত সব ওয়েবসাইটের সার্টিফিকেট চুরি করেন। এর ফলে তিনি গুগল এবং ফেসবুকের মতো দেখতে একটি সাইট বানিয়ে ভিজিটরকে বোকা বানাতে পারবেন যে, ওটা আসলেই গুগল কিংবা ফেসবুকের নিজস্ব সাইট। এভাবে গ্রাহকদের বোকা বানিয়ে অনেক তথ্য চুরি করতে পারেন।

৮. মেলিসা ভাইরাস
কম্পিউটারের ইতিহাসে এটাই সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে যাওয়া ভাইরাস বলে ধারণা করা হয়। আমেরিকার নিউজার্সি শহরের প্রোগ্রামার ডেভিড স্মিথ। তিনি তার কাজে বোরড হয়ে গিয়েছিলেন। তখন বসে বসে লিখে ফেললেন একটা ভাইরাস। এটাকে দেখে মনে হবে মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের একটি ডকুমেন্ট। কিন্তু এই চোরা সফটওয়্যারটি নিজেকে আপনার ই-মেইল তালিকা থেকে প্রথম ৫০ জনকে নিজে নিজেই ই-মেইল করে কপি করে দিতে পারত। ১৯৯৯ সালে প্রথম এটাকে একটি পর্নো সাইটে দেয়া হয়। বোকা মানুষ এটাকে পর্নো ভিডিও ভেবে ডাউনলোড করে। তারপর যা হওয়ার তাই হয়েছে। এটাকে ঠেকানোর জন্য খোদ মাইক্রোসফট এবং ইন্টেলকে মাঠে নামতে হয়।

৯. প্যান্টাগনের নেটওয়ার্ক হ্যাক
এই গ্রহের সমস্ত হ্যাকারের নজর হলো প্যান্টাগন। আমেরিকার মিলিটারি নেটওয়ার্কে প্রবেশ করতে পারার স্বপ্ন দেখেন অনেকেই। অনেকেই হয়ত জানেন যে, ওই নেটওয়ার্ক থেকেই জন্ম হয়েছে বর্তমানের ইন্টারনেটের। ১৯৯৯ সালে ফ্লোরিডার একটি হাইস্কুলের ছাত্র জনাথন জেমস খুব সহজেই হ্যাক করে ডিপার্টমেন্ট অব ডিফেন্সের নেটওয়ার্ক এবং নিজের একটি সফটওয়্যার ওখানে ইনস্টল করে রেখে আসে। এর ফলে খুব সহজেই জেমস ওই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারত। জেমস অনেক গোপন ই-মেইল পড়তে পারত। এমনকি তার কাছে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের অনেক ডাটা চলে আসে। এই অপরাধের জন্য তাকে ছয় মাসের হাউস এ্যারেস্টে রাখা হয় (কিশোর অপরাধী হিসেবে)। কিন্তু এর কয়েক বছর পরেই জেমস আত্মহত্যা করে।

১০. অপারেশন শ্যাডি র্যাট
এই গ্রহের সবচেয়ে প্রত্যাশিত সাইবার আক্রমণ হলো দূরে বসে অন্যের একটি কম্পিউটারকে দখল করে নেয়া। এর থেকে চতুর বিষয় আর কী হতে পারে! এর ফলে পৃথিবীর যে কোন স্থানে বসে ওই কম্পিউটারটিকে পুরোমাত্রায় ব্যবহার করা যেতে পারে। কথিত আছে ২০০৬ সাল থেকে চীনের সরকার এই ধরনের একটি প্রজেক্ট ব্যবহার করে যাচ্ছে যার নাম ‘অপারেশন শ্যাডি র্যাট’।

সংগ্রহে: সা’দ আল মিহিক

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য