শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

পৃথিবীর দুর্ধর্ষ যত গোয়েন্দা সংস্থা


তামাদ্দুন২৪ডটকম:
পৃথিবীজুড়ে বিভিন্ন দেশের সরকারি গোপনীয় কার্য সম্পাদনের লক্ষ্যেই ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি বা গোয়েন্দা সংস্থার সৃষ্টি। গোয়েন্দা সংস্থার কাজ হলো নিজ দেশের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা, গবেষণা করা এবং দেশ ও দেশের নাগরিকদের নিরাপদে রাখা। এ ধরনের সংস্থাকে ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি, গুপ্তচর সংস্থা, সিক্রেট সার্ভিস এজেন্সিও বলা হয়। বিভিন্ন গোপনীয় তথ্য প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণ, গুপ্তচরবৃত্তি, সরকারকে জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়াদি সম্পর্কে তথ্য প্রদান, এমনকি প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থরক্ষার্থে হত্যাকাণ্ডের মতো কাজও করে থাকে এ সংস্থাগুলো! এসব সংস্থার মধ্যে ভিনদেশিদের হুমকি মোকাবেলায় কাজ করে ইমপ্রোব অবলম্বনে বিশ্বের এমন শীর্ষ কয়েকটি দুর্ধর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা নিয়ে আজকের এই আয়োজন।

১. মোসাদ (ইসরাইল)

বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ ও দুর্ধর্ষ গোয়েন্দা সংস্থাটি কোন দেশের? আমেরিকা, ভারত নাকি রাশিয়া? এই দেশগুলোর গোয়েন্দা সংস্থা বেশ শক্তিশালী হলেও সবচেয়ে দুর্ধর্ষ গোয়েন্দা সংস্থাটি আসলে ইসরাইলের। তাদের গোয়েন্দা সংস্থাটির নাম ‘মোসাদ’। মোসাদের নীতি খুবই সহজ, নিজেদের স্বার্থরক্ষায় যেকোনো কিছুই করতে তারা প্রস্তুত। আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মোসাদ’ নাম দিয়ে এটির কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৫১ সালের মার্চের শেষের দিকে। এর কর্মচারী-কর্মকর্তারা সংখ্যায় কত তার সঠিক তথ্য নেই। তবে ধারণা করা হয়, এই সংখ্যা ১ হাজার দুইশ’র মতো হতে পারে। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, গোপন কার্যক্রম চালানো, আধাসামরিক অভিযান পরিচালনা করা তদপুরি ইসরাইলের স্বার্থরক্ষায় যেকোনো কিছু করাই এর প্রধান কাজ। মোসাদ ফিলিস্তিনের পিএলও সদস্যদের উৎখাতে ভূমিকা পালন করেছিল যখন ১৯৭২ সালের জার্মানির মিউনিখ অলিম্পিকে ১১ ইসরাইলি অ্যাথলেটকে হত্যা করা হয়েছিল। এ ছাড়া তারা ফ্রান্সের তৈরি মিগ-৫ বিমান চুরি করে আনে। মোসাদের এই রহস্যময় শক্তির পেছনে আছে তাদের দুর্ধর্ষ পরিচালনা পদ্ধতি। কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে কাজ করে থাকে মোসাদ। তাই তাদের সম্পর্কে সবটুকু জানা কারো পক্ষেই সম্ভব নয়। তবে জানা যায়, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয় মোসাদের ৮টি বিভাগ। এই বিভাগের এজেন্টরা ডিপ্লোম্যাট, ব্যবসায়ী, সাংবাদিকসহ অন্যান্য ছদ্মবেশে কাজ করেন। তাদের মূল কাজ তথ্য, ঘটনা, ঘটনার গতি-প্রকৃতি সংগ্রহ করা।

২. এমআইসিক্স (যুক্তরাজ্য)

এমআইসিক্স ব্রিটিশ মিলিটারির ইন্টেলিজেন্সের একটি বিশেষায়িত শাখা। সংস্থাটির অফিসিয়াল নাম সিক্রেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (এসআইএস)। ১৯০৯ সালের অক্টোবরে সিক্রেট সার্ভিস ব্যুরো নামে এটি গঠিত হয়। এমআইসিক্স, মোসাদ এবং আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ একসঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় রাখে। এই তিন সংস্থা একে অপরের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান করে। এমআইসিক্সের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্ব্বী দেশে হামলা ও হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার বিভিন্ন ইস্যুতে এ তিনটি সংস্থা একসঙ্গেই কাজ করেছে বলে জানা যায়। ১৯৮৮ সালে তিনজন আইরিশ রিপাবলিকান আর্মিকে জিব্রালটারে হত্যা করে ইউকে স্পেশাল ফোর্সেস। এতে সহায়তা করে মোসাদ। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার মোসাদের কাছে তার দেশের নাগরিকদের জন্য হুমকি এমন লোকদের একটি তালিকা দিয়েছিল। এ ছাড়া মিসরের প্রেসিডেন্ট জামাল আবদুল নাসেরকে হত্যার পরিকল্পনায় সমর্থন দিয়েছিল এমআইসিক্স। অবশ্য ১৯৭০ সালে তিনি হার্ট অ্যাটাকে মারা যান। ১৯৬০ সালে এমআইসিক্স হত্যার পরিকল্পনা করে কঙ্গোর প্রধানমন্ত্রী জাতীয়তাবাদী নেতা প্যাটরিক লুমামবাকে। পরে ১৯৬১ সালে তিনি নিহত হন। অফিসিয়ালি তাকে হত্যার অনুমতি দেয় হাওয়ার্ড স্মিথ নামের এক কর্মকর্তা। ১৯৭২ সালে জন ওয়াইম্যান আয়ারল্যান্ডের রাজনৈতিক নেতাদের বোমা হামলা করে হত্যার একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করে। ওয়াইম্যান আইরিশ রিপাবলিকান আর্মি নেতা লিটলজনসকে এ সংক্রান্ত একটি তালিকা দেয়। তালিকায় স্যামুয়েস কস্টেলো, সিন কারল্যান্ড ও সিন মাইকেল স্টাইফেনের নাম ছিল।

৩. এসভিআর (রাশিয়া)

ফরেন ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস হচ্ছে রাশিয়ার বেসামরিক গোয়েন্দা সংস্থা। সংক্ষেপে এটি ‘এসভিআর’ নামে পরিচিত। মস্কোর ইয়াসেনেভোতে এর সদর দফতর অবস্থিত। এটি তাদের আগের গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবির পরিবর্তিত রূপ। রাশিয়ার অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করে সংস্থাটি। রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা দেখাশোনা করে ‘দ্যা ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিস’। ‘ফরেন ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস’ (এসভিআর) রাশিয়ার বৈদেশিক বিষয়গুলো দেখাশোনার পাশাপাশি বিদেশে বিভিন্ন সামরিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ে গোয়েন্দাগিরি করে থাকে। তারা বিভিন্ন উচ্চ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করে। সংস্থাটির বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ড এবং ইন্টারনেটে অসত্য তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। রাশিয়ার সঙ্গে চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কারণে ধারণা করা হয়, এসভিআর ও চীনা গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক রয়েছে। এদের মূল দায়িত্ব বৈদেশিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স পরিচালনা, গুপ্তহত্যা, বর্ডার সার্ভেইল্যান্স, রফতানি নিয়ন্ত্রণ, কাউন্টার টেরোরিজম, নিজস্ব লোক সংগ্রহ ও নেটওয়ার্ক তৈরি, বিদেশি কূটনীতিকদের ওপর নজরদারি। সারা বিশ্বে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে এসভিআর গোয়েন্দারা, যারা নিয়মিত গোপন তথ্য সরবরাহ করে যাচ্ছে। সংস্থাটির মোট কর্মকর্তার সংখ্যা এবং এদের জন্য বরাদ্দ করা বাজেটের পরিমাণ নিজস্ব কৌশল হিসেবে গোপন রাখা হয়।

৪. সিআইএ (যুক্তরাষ্ট্র)

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির কয়েক মাইল পশ্চিমে ভার্জিনিয়ায় ন্যাশনাল সিকিউরিটি আইনের আওতায় ১৯৪৭ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর সিআইএ গঠিত হয়। পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ও তুখোড় এ গোয়েন্দা সংস্থা, যারা শুধু নিজ দেশেই নজরদারি করছে না, নজর রাখছে পুরো বিশ্বে। সিআইএ এতটাই গোপন ও সূক্ষ্মভাবে কাজ করে যে, এদের কার্যক্রম সম্পর্কে কোনো ধরনের অনুমান করা কঠিন। বলা হয়ে থাকে, প্রযুক্তির দিক থেকে সব গোয়েন্দা সংস্থা থেকে এগিয়ে সিআইএ। প্রচলিত আছে, সিআইএ এমন সব গোপন মিশন পরিচালনা করেছে যা এখন পর্যন্ত কেউ জানে না। সিআইএ’র প্রাথমিক কাজ হচ্ছে বিদেশি সরকার, সংস্থা ও ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা এবং তা জাতীয় নীতিনির্ধারকদের কাছে সরবরাহ ও পরামর্শ প্রদান করা। সিআইএ এবং এর দায়বদ্ধতা ২০০৪ সালে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। প্রেসিডেন্টের অনুরোধে সিআইএ গোপন কার্যক্রমেও অংশ নেয়। পাশাপাশি আধাসামরিক অপারেশন এবং অন্য দেশে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অপারেশন পরিচালিত হয়ে থাকে বিশেষ কার্যক্রম বিভাগের মাধ্যমে। শোনা যায়, সিআইএ পৃথিবীর সব ধরনের ডিভাইসে একসেস নিতে পারে। বিশেষ সার্চ ইঞ্জিনের সাহায্যে অনলাইন-অফলাইনের সব ধরনের তথ্য তারা পেতে পারে। এত শক্তিশালী সংগঠনটির ব্যর্থতাও কম নয়। ৯/১১-এর বিমান হামলা প্রতিরোধে সিআইএ ব্যর্থ হয়। আফগানিস্তানে ১০ লাখ সোভিয়েত সৈন্যের আগমন সম্পর্কে কোনো তথ্য তারা পায়নি এবং ইরাকে সাদ্দাম হোসেন সরকারের ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্র থাকার অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। সিআইএ’র সব থেকে নেতিবাচক দিক হচ্ছে, এদের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী হিটম্যান (ভাড়াটে দক্ষ খুনি) নিয়োগের অভিযোগ রয়েছে, যার মাধ্যমে তারা পলিটিক্যাল কিলিং করে থাকে।

৫. বিএনডি (জার্মানি)

জার্মানির বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থার নাম ফেডারেল ইনটেলিজেন্স সার্ভিস (বিএনডি)। জার্মান চ্যান্সেলরের অফিস থেকে সংস্থাটি সরাসরি নিয়ন্ত্রিত হয় এবং চ্যান্সেলরের কাছে জবাবদিহি করে। এটা ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থা। এটি ১৯৫৬ সালের ১ এপ্রিল প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুতে সংস্থাটি সিআইএ’র সহযোগী হিসেবে কাজ করে। বার্লিনে অবস্থিত সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ে চার হাজার কর্মী একসঙ্গে কাজ করে। বিশাল এই কার্যালয়টি প্রায় ৩৫টি ফুটবল মাঠের সমান। বিএনডি বৈদেশিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, কাউন্টার ইনটেলিজেন্স পরিচালনা, বিভিন্ন দেশে গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা, কাউন্টার টেরোরিজম, নিজস্ব লোক সংগ্রহ ও নেটওয়ার্ক তৈরিতে কাজ করে। এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারকদের বৈদেশিক নীতিনির্ধারণে সহায়তা, বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যক্তি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ প্রভৃতি বিষয়ে কাজ করে। এককথায় বহির্বিশ্বে জার্মানির স্বার্থের পক্ষে যা কিছু করার প্রয়োজন, তারা সেটাই করে। বিদেশে জার্মান স্বার্থের প্রতি হুমকির ব্যাপারে তারা সরকারকে আগাম সতর্কীকরণে সোর্স হিসেবে কাজ করে। টেলিফোনে আড়ি পাতা ও ইলেকট্রনিক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমেও তারা কাজ করে। তারা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ বিস্তার, প্রযুক্তির সব ধরনের অবৈধ হস্তান্তর, সংঘবদ্ধ অপরাধ, অস্ত্র ও মাদক পাচার, মানি লন্ডারিং, অবৈধ অভিবাসন ও তথ্যযুদ্ধের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করে। তারা বৈদেশিক গুপ্তচরবৃত্তিতে জার্মানির একমাত্র গোয়েন্দা সংস্থা হওয়ায় সামরিক ও বেসামরিক উভয় ধরনের গুপ্তচরবৃত্তিতেই নিয়োজিত থাকে।

সুত্র: উইকিপিডিয়া। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য