শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

সফল কর্মজীবনের ১০টি নির্দেশনা


তামাদ্দুন২৪ডটকম:

কর্মজীবন। জীবনের সবচে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। অন্যের সামনে নিজের ব্যক্তিত্ব ও সফলতা ফুটিয়ে তোলার সময়। তাই মানুষ সফলতা চায় নিজের পেশায়। কর্মে মানুষের ভালোবাসা ও স্বীকৃতি চায়। প্রভাব ফেলতে চায় সহকর্মীদের মাঝে। তবে কর্মজীবনে সফল হওয়া ততটা সহজ নয়। তাই প্রিয় তালিবে ইলম শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আলোচ্য প্রবন্ধে দশটি মূল্যবান উপদেশ উল্লেখ করা হল, যেনো শিক্ষাজীবন শেষে এগুলোকে পাথেয় হিসাবে কাজে লাগানো যায়।

১. আত্মপরিচয় জানা।
বুঝ ও মেধাশক্তি বৃদ্ধি করা মানুষের সহজাত ও সাধ্যের বিষয়। তা নিজের ব্যক্তিগত দুর্বলতা ও সক্ষমতার বিষয়গুলো যথাযথভাবে অনুধাবনের মাধ্যমে অর্জন হতে পারে। তাই নিজ সামর্থের বিষয়গুলো উন্নতির চর্চা করা এবং দুর্বলতার বিষয়গুলো দূর করতে চেষ্টা করা উচিত। এভাবে কর্মজীবনে অনাকাঙ্খিত বিপদাপদ ও সমস্যাসমূহ মোকাবেলার মাধ্যমে নিজের ব্যক্তিত্বকে ফুটিয়ে তোলা যেতে পারে। অতএব কোন সমস্যা-সংকটে অন্যের দোষারোপ না করে নিজের চলাফেরা, আচার-ব্যবহার চরিত্র নিয়ে আত্মসমালোচনা করাই উত্তম। তবে আগে নিজেকে বোঝতে হবে ভালোভাবে, নিজ যোগ্যতা ও প্রতিভার বাস্তব অবস্থা সম্পর্কেও জানতে হবে। পাশাপাশি সাধ্যের অতিরিক্ত কোন দায়িত্ব গ্রহণ করা হতেও বিরত থাকতে হবে এবং যা করবে বাস্তসম্মত কর্মসূচী নিয়েই করবে, তাহলেই তা বাস্তবায়ন সহজ হবে।

২. স্বচ্ছ ও সুবিন্যস্ত চিন্তা করা।
জীবনের বাঁকে বাঁকে মানুষ যে সব পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়, সুক্ষ্ম ও সুবিন্যস্ত চিন্তা-ফিকিরের মাধ্যমে সহজেই তা নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। বাস্তবসম্মত গবেষণামূলক গোছানো চিন্তা-ভাবনা মানুষকে যতটা উপকৃত করে, অনেক তথ্য-উপাত্ত ও হাজারো বই-পুস্তকও ততটা উপকৃত করতে পারে না। সুবিন্যস্ত ও নিরপেক্ষ চিন্তা-গবেষণা মানুষকে সমস্যার কারণ বের করে তার সঠিক সমাধান গ্রহণে সাহায্য করে।

৩. আত্মবিশ্বাস নিয়ে কাজ করা।
আত্মবিশ্বাস মানুষকে এগিয়ে যেতে প্রেরণা যোগায়, ক্লান্তি-অবসাদকে স্বাভাবিক করে তোলে। যে ব্যক্তি কর্মজীবনে সফলতা চায় তার উচিত জীবনটাকে আনন্দ ও সৌভাগ্যের মনে করা, কল্যাণের সুদৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে প্রফুল্ল চিত্তে নিজ দায়িত্বে মনোনিবেশ করা। জীবনের সুন্দর সুন্দর আকর্ষণীয় উপলক্ষ থেকে নিজের হৃদয়-মন ও চোখ-কান উদাস না রাখা। কেননা যখনই কোন মানুষ প্রবল আত্মবিশ্বাস নিয়ে জীবনের লক্ষ্যে মনোযোগী হয় তখনই তার কাছে সকল কষ্ট-ক্লেশ, বাধা-বিপত্তি তুচ্ছ মনে হয়।

৪. অন্যের সুখে-দুঃখে সঙ্গী হওয়া।
অন্যের আবেগ-অনুভূতি ও মনোভাব উপলব্ধি করাও অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অত্যাবশ্যকীয় বিষয়। তবে তা প্রকাশ পেতে পারে বিভিন্নভাবে যেমনঃ- অন্যের সমস্যা মনোযোগের সাথে শোনে তা সমাধানের জন্য তাদের সাথে স্বশরীরে শরীক হওয়া কিংবা সাধ্যানুযায়ী আর্থিকভাবে সহযোগিতা করা, মানুষের আনন্দে আনন্দিত হওয়া, ব্যথায় ব্যথিত হওয়া। বিভিন্ন উপলক্ষে তাদের সাথে সৌজন্য ও সৌহাদ্যপূর্ণ আচরণ আর শুভেচ্ছা বিনিময় করে নিজেকে সুখে-দুঃখে তাদেরই একজন সদস্য বলে পরিচয় দেওয়া।

৫. অহংকার করে আত্মপ্রতারিত না হওয়া।
অনেক তরুণ-যুবক এমন ধ্যান-ধারণা ও চিন্তা-ভাবনা নিয়ে কর্মজীবনে পদার্পণ করে যেনো তারা সব কিছু অর্জন করে ফেলেছে, তারা সব দিকনির্দেশনা ও সমালোচনার ঊধ্বের্, ফলে তারা কোন উপদেশ বা পরমর্শের প্রতি তেমন কর্ণপাত করে না। এভাবেই তারা আত্মপ্রতারিত হয়ে সাধারণ মানুষের কাছে নিন্দনীয় হয়, এবং হাতে গোনা কিছু লোক ছাড়া কাউকেই বন্ধু হিসাবে পাশে পায় না। পক্ষান্তরে যে সব যুবক ভদ্র ও বিনয়ী হয়, গর্ব-অহংকার করে না স্বাভাবিকভাবেই তারা আশপাশের সকলের অবস্থাভাজন ও প্রিয়পাত্র হয়ে ওঠে।

৬. ব্যর্থতায় ভেঙ্গে না পড়ে নবোদ্যমে জেগে উঠা।
কর্মজীবন এক কণ্টকাকীর্ণ বন্ধুর পথ। জীবনে একাধিকবার ব্যর্থতার স্বাদ গ্রহণ ব্যতীত খুব কম মানুষই কর্মজীবনে পূর্ণ সফলতা অর্জন করতে পেরেছে। যে ব্যক্তি অবিরাম চেষ্টা-সাধনায় জমে থাকে সেই জীবনযুদ্ধে বিজয়ী হতে পারে, তার জন্যই সফলতা আর মর্যাদার পথ সুগম হতে থাকে। সুতরাং জীবনে যদি কখনো ব্যর্থতার মুখোমুখি হতে হয় তবে পর্যালোচনা করে তার কারণ খুঁজে বের করতে হবে, হতে পারে এমন কোন অভিজ্ঞতা অর্জন হবে যা দ্বারা ভবিষ্যতে ব্যর্থতার বিষয়গুলো সহজেই এড়িয়ে যাওয়া যাবে।

৭. প্রথম কর্মদিবসকে বাস্তব শিক্ষার সূচনা মনে করা।
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা আর কর্মজীবন থেকে শিক্ষা দুটি ভিন্নœ বিষয়। তাই লক্ষণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে কর্মজীবনে মুতালাআ ও অধ্যাবসায়ের মাধ্যমে ইলম অন্বেষণের অভ্যাস ধরে রাখা, আর বিভিন্ন অবস্থা ও পরিস্থিতিতে নিজের অভিজ্ঞতা সঞ্চার করা। কেননা কর্মজীবনে যে সব পরিবেশ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এর দ্বারাই অভিজ্ঞতা আর দূরদর্শিতা বৃদ্ধি পায়।

৮. স্বল্প ও মিষ্টভাষী হওয়া।
ভালো কথা একটি সদকা। উত্তম কথা মানুষের মাঝে যাদুর মত কাজ করে সুতরাং ‘ فضلك من ’ অথবা ‘ لوسمحت ’ “দয়া করে” বা “অনুগ্রহপূর্বক” ইত্যাদি বিনয়সূচক শব্দ ব্যবহার করে কোন ব্যক্তির কাছে নির্দিষ্ট কোন বস্তু চাওয়া হলে অবশ্যই তার উপর একটি সুন্দর প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি অন্যের কথাও মনোযোগ সহকারে শোনার যে সৌন্দর্য-মাধুর্য তাতেও অভ্যস্ত হতে হবে যেনো অন্যের কথা দ্বারাও উপকৃত হওয়া যায়।

৯. পারিশ্রমিক পেতে তাড়াহুড়া না করা।
অনেক লোক আছে যারা অর্থ ও বিনিময়ের প্রতিশ্রুতি না পেলে কোন কাজই করতে চায় না। সহকর্মী ও নেতৃত্বস্থানীয় ব্যাক্তিদের মূল্যায়ন পেতে হলে নগদ নগদ কোন প্রতিদান ও কৃতজ্ঞতা আশা না করাই উচিত। যথাযথ দায়িত্ব পালনে সচেতন থেকে জনকল্যাণমূলক কাজ করে মানুষকে সাহায্য-সহযোগিতা করে তাদের যাবতীয় বিষয়টি সহজ করে দেয়াই প্রথম কর্তব্য।

১০. মানুষের স্বভাব-চাহিদার ভিন্নতা বুঝা।
প্রত্যেকটা মানুষের মাঝেই কিছু না কিছু স্বাতন্ত্রতা রয়েছে। এমনকি সহকর্মীদের দুইজনের মাঝেও সব বিষয়ে সাদৃশ্যতা পাওয়া যায় না। মানুষ রং-ঢং, আকার-আকৃতি, আগ্রহ-রুচি ও ব্যক্তিত্ব সব কিছুতেই একেকজন একেক রকম হয়। তাই অন্যের সাথে মুআমেলা-মুয়াশারা ও আচার-ব্যবহারে বিষয়টিকে সতর্কতার সাথে খেয়াল রাখত হবে। সব মানুষের কাছে একধরনের ব্যবহার কামনা করাও উচিত নয়। এমনকি একই অবস্থায় সবার সাথে একই আচরণ করা ঠিক নয়। নিংসন্দেহে এসব পার্থক্য ও ভিন্নতাগুলো অনুধাবন ও উপলব্ধি করার দ্বারা ভালোমন্দ, দোষ-গুণ অবস্থাভেদে মানুষের সাথে উত্তম আচরণ করা সহজ হবে। আর এটাও মনে রাখতে হবে যে, মানুষের সাথে যেমন আচরণ করা হবে তাদের থেকে তেমন আচরণই পাওয়া যাবে।

মোটকথা কর্মজীবনে কেউ যদি পূর্ণ সফলতা কামনা করে, তাহলে অবশ্যই তাকে এই দশটি উপদেশের আলোকে একটি সুন্দর ও আদর্শ জীবন সাজাতে হবে। সততা, আমানতদারিতা, দয়া-মায়া ও উত্তম চরিত্রে চারিত্রবান হওয়ার মাধ্যমে আলোচ্য উপদেশগুলোর প্রকাশ ঘটাতে হবে। অন্যের কাছ থেকে যেমন আচার-ব্যবহার ও আখলাক প্রত্যাশা করা হয় সে আখলাককে নিজের বৈশিষ্টে পরিণত করতে হবে।

মূল: ড. আলী আহমদ আলী
ভাষান্তর : নকীব বিন মুজীব
৩/৫/৩৫ হি
আল-আরাবিয়্যাতু লিন-নাশিঈন ৫/২২৪

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য