শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

‘দুনিয়াজুড়েই প্রিন্ট মিডিয়ায় একটা ভাটার টান শুরু হয়েছে’ মতিউর রহমান


তামাদ্দুন২৪ডটকম:
ছাপা পত্রিকা মরে যাচ্ছে—এমন অভিধার পক্ষে আমি নই। আমি আগেও বলেছি যে সংবাদপত্রশিল্প নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। আমরাসহ সারা বিশ্বের প্রকাশক, সম্পাদক আর সাংবাদিকেরা নতুন নতুন কনটেন্ট সংযুক্ত করে একে প্রাসঙ্গিক রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন.....

পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে আমার জীবন শুরু হয় ১৯৭০-এর জুনে সাপ্তাহিক পত্রিকা একতার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে। এটা ছিল বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র। পরে সেই পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করি ১৯৯১-এর মাঝামাঝি পর্যন্ত। আরও পেছনে তাকালে দেখবেন, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইয়ুব খানবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলাম। সামরিক শাসনবিরোধী এই আন্দোলন শুরু হয়েছিল ১৯৬২ সালের পয়লা ফেব্রুয়ারি। এই আন্দোলনের প্রায় সব রকমের কাজে আমি যুক্ত ছিলাম। কখনো লিফলেট লিখছি, লিফলেট বিলি করছি, পোস্টার ছাপাচ্ছি, কখনো-বা মিছিল করছি। তবে মিছিলে আমি থাকতাম একদম পেছনের দিকে। স্লোগান বা রাজনৈতিক সভা-সমিতিতে বক্তৃতা দেওয়ার অভ্যাস আমার ছিল না। প্রায় তিন দশক সক্রিয় রাজনীতিতে ছিলাম, কিন্তু কখনো কোনো মঞ্চে বক্তৃতা দিইনি.....

১৯৮৮ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত সংবাদ আর অন্যান্য সাপ্তাহিকে নিয়মিত কলাম, প্রতিবেদন লিখেছি। সেই তুলনায় আমার কোনো ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ছিল না। আমার একমাত্র সম্বল ছিল দুই দিনের একটি সেমিনার, যা আগেই বলেছি। ২০১০ সালের পর আমরা ভারতে বেশ কয়েকটি সেমিনারে অংশগ্রহণ করি। বেশ কয়েকজন বিখ্যাত ভারতীয় সাংবাদিক আর সংবাদপত্র পেশাজীবীদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখি.....

সংবাদপত্রকে অর্থনৈতিকভাবে সফল হতে হলে প্রচারসংখ্যা বাড়াতে হবে, এর ফলে বিজ্ঞাপনের আয়ও বাড়বে। শুধু পত্রিকা বিক্রি করে পত্রিকা চলে না। এ থেকে মোট ব্যয়ের ১/৪ ভাগ মাত্র আসে। বাকিটা আয় করতে হয় বিজ্ঞাপন থেকে.....

প্রথম আলোর ই-পেপার আগে ফ্রি ছিল। কিন্তু খরচ দিন দিন বাড়ছে। ফলে আমরা বাধ্য হলাম ই-পেপারকে পে-ওয়ালের আওতায় নিতে। এটা থেকে খুব আয় হচ্ছে এমন নয়। কিন্তু ভাবনাটা হচ্ছে, কনটেন্টের জন্য ব্যয় করার ধারণার সঙ্গে পাঠককে পরিচয় করানো.....

এই পত্রিকাকে এক নম্বর পত্রিকা করতে হবে আর অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে। যদি তা কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, দল বা সরকারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকে, তাহলে কালের বিচারে এর কোনো মূল্য থাকবে না। তখন এর কোনো স্বীকৃতি বা গ্রহণযোগ্যতা থাকবে না। প্রতিষ্ঠাকাল হতে আমাদের মৌলিক নীতি ছিল যে, প্রথম আলোকে হতে হবে স্বাধীন, পক্ষপাতহীন আর অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী.....

যদি আমরা পেশাদার সংবাদকর্মীরা যাচাই না করে প্রকাশিত সংবাদের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সজাগ থাকি, তাহলে সমাজে ও দেশে এর নেতিবাচক প্রভাব কমাতে পারবো.....

আমাদের প্রত্যেকের আরও ভালো এক বাংলাদেশ, এক যথার্থ গণতান্ত্রিক আর আইনের শাসনে চলা দেশ গঠনের আশা রাখা উচিত, এর জন্য কাজ করা উচিত.....

দুনিয়াজুড়েই প্রিন্ট মিডিয়ায় একটা ভাটার টান শুরু হয়েছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে স্বাবলম্বী থেকে প্রিন্ট মিডিয়াকে প্রাসঙ্গিক রাখতে আমরা বহু প্রতিকূলতার মোকাবিলা করছি। সবশেষে বলব, প্রিন্ট মিডিয়া প্রাসঙ্গিক থাকবে, কারণ ‘ছাপাই প্রমাণ’.....

লেখক: সম্পাদক-প্রথম আলো

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য