শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

ফ্রি-সেক্স প্রসেসিং


১।
বিবিসির একটা নিউজ দেখে অবাক হয়ে গেলাম। বাংলাদেশের কয়েকটা স্কুল ও মাদ্রাসায় নাকি 'সেক্স এডুকেশন' নামে ক্লাস শুরু হয়েছে৷ বিবিসি প্রতিবেদকের ভাষ্য অনুযায়ী- এই ছেলেমেয়েরা একসাথে থেকে এমনকিছু শিখে বা এমনকিছু আলোচনা হয় যেগুলোকে আমাদের দেশে দেখে থাকে আড়চোখে।
মেয়েদেরকে এই ক্লাসের অনুভূতি জিজ্ঞাসা করলে তারা মুখে লজ্জার ছাপ ছাড়াই সেক্সক্লাস নিয়ে কথা বলে স্বাচ্ছন্দে৷ ছাত্রীদের কথা অনুযায়ী তার এমন স্বাভাবিক হওয়ার পিছনে কাজ করেছে এই ক্লাস। আগে এসব নিয়ে শুনতে বা বলতে লজ্জা লাগতো, এখানে এসে সেই লজ্জা ভেঙ্গেছে। ছাত্রছাত্রীদের একসাথে রেখে গোপন থেকে গোপন আলাপ করলেও তারা স্বাভাবিভাবেই দেখছে৷
২।
সহশিক্ষায় নিয়মিত ক্লাস না করলেও সরকারি পরীক্ষা দেয়াতে দু'একবার ওসব ক্লাসে বসেছি। আলিয়া মাদ্রাসার ফিকহের শিক্ষক যখন হায়েজ- নিফাস বা গোপন বিষয় নিয়ে কথা বলে তখন সেখানকার অবস্থাটা নিজ চোখে দেখার ভাগ্য কপালে জুটেছে। তখন দীনের তেমন বোঝ ছিলো না তবুও বিষয়টা অন্তরের গভীরে দাগ কেটেছে।
এভাবেই-তো ছেলে-মেয়ের মাঝে থাকা লজ্জা নামক বাঁধ ভেঙ্গে তারা বনে যায় বেহায়া, হয়ে যায় পাশ্চাত্যের অনুসারী। শুরু করে প্রেম-পিরিতি, বয়ফ্রেন্ড নিয়ে ঘুরোঘুরি, কিসিং,মিসিং আরো কত কী! তাই বিজ্ঞরা অকপটে স্বীকার করেন, এই ভয়াবহ অবস্থার জন্য চলমান সহশিক্ষাও দায়ী।
৩।
ভাবুন, আপনি একটি মেয়ের সাথে বসে সেক্স বিষয়ক আলোচনা শুনছেন, তখন কেমন লাগবে?নিশ্চয় সুস্থ শরীর ও মনে একটি চাহিদা জেগে ওঠবে, যা মিটাতে তখুনি একজন মাধ্যমের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিবে।
যদি বলেন এখন প্রচলিত নাই দেখে একটু কষ্ট হলেও পরবর্তীতে ঠিক হয়ে যাবে, যেমনটা হয়েছে আমেরিকাতে। তাহলে কথা আছে, পাশ্চাত্যের এই অবস্থার পিছনের ইতিহাস ও বাস্তবতা জানার এখনও বাকি আছে৷
আমেরিকা ইউরোপেও একসময় এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে লজ্জা পেত৷ তখন সুস্থ-পুরুষ ও মহিলা একসাথে বসেবসে এসব শুনলে নিজেদের মাঝে বয়সগত চাহিদা জাগ্রত হওয়ার বিষয়টা আন্দাজ করতে পারতো।
কিন্তু যখন থেকে তাদের ফ্রি-সেক্স বা যখন-তখন যেই কারো সাথে যৌনচাহিদা মিটানোর মত অবস্থা ও পরিস্থিতি তৈরি হল তখন তারা বিষয়টাকে স্বাভাবিকভাবেই নেয়া শুরু দিল। কারণ ইতিমধ্যে এদের বানিয়ে দেয়া হয়েছিল, সভ্যতাহীন অসভ্য একটা জাতী। যাদের মাঝে কোন নিয়মকানুন নেই, ধর্মের আদেশ নিষেধ মান্য করার মানষিকতা নেই বরং যাকে যখন পাবে তখন যৌনচাহিদা মিটিয়ে নিবে-এমনটাই তাদের পরিবেশের দাবি।
৪।
আমাদের দেশের পরিবেশ-পরিস্থিতি আলাদা। এখানে অবাদে যৌনাচার এখনো বৈধ হয়নি, কেউ বৈধ করার জন্য জোরতাগিদ দিয়ে আন্দোলনও শুরু করেনি। তাছাড়া বৈধভাবে যৌন চাহিদা মিটানোর পথও এখানে অসাধ্যকে সাধন করার মত। যাদেরকে এসব ক্লাস করানো হচ্ছে তাদেরকে বিয়ে করানো-তো স্বপ্নেও অকল্পনীয়।কারণ বাংলাদেশের শরীয়ত অনুযায়ী তারা এখন শিশু, ১৮ বছর শেষ না করা পর্যন্ত বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ।
এরা এখন কোথায় যাবে? এতদিন লুকিয়ে হস্তমৌথন করে বা একেবারে গোপনে, ভয়েভয়ে, অনেক কাহিনীর পরে লিটনের ফ্ল্যাটে গিয়ে মাঝেমধ্যে যৌনচাহিদা মিটিয়ে নিয়েছিল।এখন শব্দ ও বিষয়গুলো সহজ হচ্ছে, ধীরে ধীরে এসব বিষয়ে তারা স্বাভাবিক হচ্ছে এবং সাহস বাড়ছে । সুতরাং এখন তারা ধীরেধীরে, আরো সহজে যৌনভোগ করা করা শুরু দিবে৷ তখন হয়তো আমেরিকার সেই কুকুরজীবনের প্রথা তথা লিভ- টুগ্যাদার বৈধ করার সামাজিক প্রয়োজনীয়তা দেখা দিবে এবং এই দাবিতে অনেক তরুণ-তরুণী রাজপথে নেমে আসবে।
৫।
পরিবেশ-পরিস্থিতি তৈরি করে আমেরিকা সহ পাশ্চাত্যের সবগুলো দেশে এভাবেই লজ্জাকে ধ্বংস করে অসভ্যতাকে সভ্যতা হিশেবে ফিট খাওয়ানো হয়েছে৷ সেই একই প্রজেক্ট চালু করেছে আমাদের দেশে৷ মুক্তচিন্তা নামক পাশ্চাত্য দাসত্যের প্রসার করে জাতীকে ধীরে ধীরে নিয়েছে ও নিচ্ছে ধ্বংসের অতলগহ্বরে৷ যেখান থেকে ওঠে আসা শুধু মুশকিল না বরং অসম্ভবই বলা চলে৷
৬।
বিষয়গুলো শূণ্যতে ঢিল ছোড়া নয়, এগুলোই বাস্তবতা৷ দাজ্জালের বিশ্ব এভাবেই ধীরেধীরে মানুষের ভিতরে সমস্যা সৃষ্টি করছে, নিপুণভাবে কুটকৌশলে তাদের কাজ এগিয়ে চলছে। বিশ্বাস হোক বা না হোক, বিশ্ব পরিস্থিতি আমাদেরকে এই বাস্তভতাই শিক্ষা দিচ্ছে।
তাই আমাদের এখন ঘুম না ভাঙলে একসময় নিজ মাথা ভেঙে শোক করলেও কাজ হবেনা, এখন বাস্তবতা না বুঝলে পরে আর লাভ হবেনা।

মারুফ তাকী
নয়াবাজার,ঢাকা।
২/৪/১৯ ইং।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য