শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

আমার জীবনে মাওলানা খানের প্রভাব: আবদুল গাফফার


তামাদ্দুন২৪ডটকম: ২০০৪/৫ সালের কথা। আমার তারাবি ঠিক হয় হবিগঞ্জ চুনারুঘাটের চণ্ডীছড়া চা বাগান মসজিদে। খুব শখ করেই এতোদূরে তারাবি পড়াতে যাই । ট্রেনে উঠে শায়েস্তাগঞ্জ হয়ে চুনারুঘাট পৌঁছি। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রেখে চা বাগান মসজিদে যখন হাজির হই তখন আছরের এক রাকাত নামাজ শেষ। জামাতে শরীক হয়ে নামাজ শেষ করি। এতোক্ষণে ইমাম সাহেব যথারীতি তালিমে বসেছেন। আমিও তালিমে বসলাম। ইমাম সাহেব মাসিক মদীনা হাতে নিলেন। পত্রিকা খুলে পড়া শুরু করলেন। সবাই জড়োসড়ো হয়ে তালিম শুনতে লাগলেন। আমি সবার দিকে তাকাতে লাগলাম। তালিমের পর মুনাজাত হলো। সবাই চলে গেলে আমি ইমাম সাহেবের সাথে পরিচিত হলাম। তার মসজিদের তারাবির ইমাম জেনে খুশি হলেন। তিনি কাছে টেনে নিলেন। আমি বললাম, মাওলানা মুহিউদ্দীন খানকে চিনি। এবং বিস্তারিত পরিচয় তুলে ধরলাম।তিনি আবার বুকে টেনে নিলেন। কোনো পত্রিকা তালিম হতে পারে এটা আমার ধারণাই ছিলো না। প্রতিদিন তালিম হতো আর আমি ভাবতাম,একটা পত্রিকা কোন পর্যায়ে গেলে তা তালিমের বস্তুতে রূপান্তরিত হয়। যেখানে 'ফাযায়েলে আমাল' ব্যতীত অন্য কিছু চিন্তা করাটা বোকামি সেখানে মদীনা বছর বছর ধরে নিয়মিত তালিম হয়। এটা একটা পত্রিকার মাকবুলিয়্যাতের অন্যতম লক্ষণ।

মাসিক মদীনা সম্পাদক মাওলানা মুহিউদ্দীন খান। এই পরিচয়ে এবং এই নামের সাথে সম্পর্ক দীর্ঘদিনের।

১৯৯৬ সালে যখন আমি ৭৭ নং সতীশ সরকার রোডে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী জামালুল কুরআন মাদরাসায় ভর্তি হই। তখনই এই মহামানুষটির সম্পর্কে জানতে শুরু করি। শৈশবের লেখালেখির আগ্রহ আমাকে এ ক্ষেত্রে উদ্বুদ্ধ করে। প্রায় বিকেলেই তার গেন্ডারিয়া বাসার সামনে দিয়ে ঘুরতাম। এক রমজানে তার বাসায় তারাবি পড়লাম।একসাথে খেলাম।আগ্রহ আরো বেড়ে গেলো। জামালুল কুরআনের আট বছরের শিক্ষাকালীন সময়ে নিজেকে মাওলানা মুহিউদ্দীন খানের প্রতিচ্ছবি হওয়ার স্বপ্ন দেখতাম। এরপর সাংগঠনিক জীবনের পাশাপাশি লেখালেখির ময়দানে পা বাড়ালাম। দিনরাত পড়তাম।যেখানে যে বই পেতাম।পড়ে শেষ করে ফেলতাম। প্রতি সপ্তাহে ১ বার যেতাম।নোয়াখালী টাওয়ারের ২য় তলায় মদীনা কার্যালয়ে গিয়ে বই ও লেখকের নাম মুখস্থ করতাম। এর ভিতরে মাওলানা মুহিউদ্দীন খান সাহেবের সাথে একপ্রকার সম্পর্ক হয়ে গেলো। শিক্ষা সমাপ্তির পর মাদরাসার পাশাপাশি যোগ দিলাম পাক্ষিক মুক্ত আওয়াজে। দীর্ঘ একটা সময় কাটলো মুক্ত আওয়াজে। এ সময় প্রতিদিন একবার মাওলানা মুহিউদ্দীন খানের সোহবতে যেতাম।

এ উসিলায় প্রতিদিন নতুন কোনো বরেণ্য লেখক পেয়ে যেতাম।
আর মাওলানা খান সাহেবের কাছ থেকে ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতা তো ছিলই। আমার সৌভাগ্য, আমি মাওলানা খান সাহেবের সাথে অনেক কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। আর লাল চা- মুড়ি বিস্কুটের কথা বাদই দিলাম। তিনি দরাজ কন্ঠে যে ডাক দিতেন তা আজ শুধুই স্মৃতি। যখন অসুস্থ হয়ে পড়লেন, তখন দিনে দুইবার অফিসে উঁকি দিতাম। কিন্তু এ অফিস ফাঁকা পড়ে রইলো। ইতোমধ্যে পাক্ষিক মুক্ত আওয়াজ বন্ধ হয়ে গেলো, সারাদেশের পাঠকের পীড়াপীড়িতে বের করলাম পাক্ষিক সবার খবর। কষ্ট করে পত্রিকাটি চালু রাখলাম। একদিন লালবাগের মাওলানা আহলুল্লাহ ওয়াসেল সাহেব রহ. ও মাওলানা বশির মেসবাহ সাহেব মাওলানা মুহিউদ্দীন খান সাহেবকে দেখতে তার বাসায় গেলেন, হাতে ছিলো পাক্ষিক সবার খবর। খান সাহেব তাদের হাত থেকে পত্রিকাটি নিয়ে ভালোভাবে চোখ বুলালেন,এরপর বললেন, তোমরা সম্পাদককে বলবে, নিউজপ্রিন্টে হলেও সে যেনো পত্রিকা নিয়মিত রাখে। মাওলানা মুহিউদ্দীন খান রহ. এর দুআয় পত্রিকাটি আজও নিয়মিত বের হচ্ছে। কিংবদন্তি মাওলানা মুহিউদ্দীন খান রহ.আজ নাই,কিন্তু আমার জীবনে তার প্রভাব প্রতিমুহূর্ত লক্ষ্য করি। এবং দুআ করি,আল্লাহ যেনো তার জীবনের অনুকরণে আমার জীবন গড়ার তাওফিক দেন।


সম্পাদক, সবার খবর
সেক্রেটারি
জাতীয় লেখক পরিষদ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ