শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

পৃথিবীর সবচেয়ে সফল বিয়ে


প্রতিকী ছবি 

তামাদ্দুন২৪ডটকম: আপনাদের কখনো মনে প্রশ্ন জাগে না কেন হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিয়ে আল্লাহ একজন চল্লিশ বছর বয়সী নারীর সাথে দিলেন??
আল্লাহ চাইলে তো তার জন্য পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম কুমারীকে হাজির করতে পারতেন।

এই জায়গায় জীবন সম্পর্কে আমাদের চিন্তার গভীরতা, আমাদের জীবনবোধ এবং স্টেরিওটিপিক্যাল দাতা পুরুষ ও গ্রহীতা নারীর ধারনার সীমাবদ্ধতা আমাদের চোখে পড়ে।

একজন অপেক্ষাকৃত কম বয়সী, সুন্দরী, অধিক ঊর্বর ও প্রজননক্ষম নারীর সাথে একজন অপেক্ষাকৃত বেশি বয়সী পুরুষ যার যথেষ্ট শারীরিক ও আর্থিক সামর্থ্য আছে তার বিয়েকে আমরা প্রাকৃতিক বলে মনে করি।
মানব সভ্যতার গোড়া থেকে সেটাই চলে আসছে এবং এই ধরনের প্রজনন মানুষের বংশবিস্তারের জন্য আদর্শ বলে বিবেচনা করা হয়ে থাকে।

খেয়াল করলে দেখা যাবে, আল্লাহ তার সবচেয়ে প্রিয় বান্দা ও তার বন্ধুর জন্য প্রজনন ও দাম্পত্যের এই মডেলকে গ্রহণ করেন নাই। তিনি গ্রহণ করলেন এক বিপরীত মডেল।
তিনি তার বন্ধুর জন্য বাছাই করলেন এমন একজন নারীকে, যিনি ইতোমধ্যেই অন্তত দুজন সন্তানের মা হয়েছেন। যার নিজস্ব শক্তিশালী অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড আছে, আরবের সবচেয়ে বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালানোর অভিজ্ঞতা আছে, পুরুষদের সাথে কাজ করা ও তাদের পরিচালনা করার অভিজ্ঞতা আছে।

এবার যদি আমরা আল্লাহর রাসুলের (সা.) জীবনের দিকে তাকাই, তাহলে আমরা দেখতে পাবো, তাকে আল্লাহ পাঠিয়েছেন একটা জীবনাদর্শ প্রচারের কাজে। আর দশজন পুরুষের মতো খাওয়া, ঘুমানো, রোজগার করা এবং বংশবিস্তার করা তার জীবনের অংশ ছিল বটে, কিন্তু লক্ষ্য ছিল না। তাই তার জীবনকে আল্লাহ এমনভাবে সাজিয়েছেন, যা এই আদর্শ প্রচারের কাজটাকে সর্বোচ্চ রকমের সফল করে।

আল্লাহর এই পরিকল্পনা ছিল নিখুঁত।
উম্মুল মুমিনীন, আমিরাত আল কুরাঈশ হযরত খাদিজাতুত তাহিরা (রা) ছিলেন নবীজীর (সা) জীবনে সবচেয়ে প্রভাবশালী অভিভাবক।

তার মাধ্যমে আল্লাহ নবীজীকে (সা) সম্পদ দিয়েছেন, সামাজিক উচ্চমর্যাদা দিয়েছেন। তিনি আদর্শ স্ত্রীর মত নবীজীকে (সা) সত্য অনুসন্ধানের কাজে সহায়তা করেছেন, নিজে গিয়ে খাবার দিয়ে এসেছেন হেরা গুহায়।

হেরা গুহা থেকে ওহী নাযিলের পর বাড়ি ফিরে যখন আল্লাহর রাসুল (সা.) কাপছেন, তখন তাকে সান্তনা দিয়েছেন এই খাদিজা, তিনি তার আত্মবিশ্বাসকে পুনরুদ্ধার করেছেন। সবার আগে তিনি নিজে ইসলাম গ্রহণ করেছেন, প্রকৃতপক্ষে বিয়ের আগেই খাদিজা (রা) বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলেন যে মুহাম্মাদ (সা.) নবী হতে চলেছেন।

খাদিজা (রা) নবীজীর (সা) অন্তত ছয়জন, ইবনে ইসহাকের মতানুযায়ী সাতজন সন্তানের মা ছিলেন। এর বাইরে তিনি যত্ন করে বড় করেছেন হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রা) এবং হযরত যায়েদ ইবন হারিসাকে।

যখন সমস্ত কুরাঈশ গোত্র মিলে বনী হাশিম আর বনী মুত্তালিবকে শে'বে আবী তালিবে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল, দুর্ভিক্ষের সেই কঠিন দিনগুলিতে হযরত খাদিজা রা. নিজের অঢেল সম্পদ মুসলিমদের জন্য ব্যয় করেছেন।

এই যে ত্যাগের বিশাল ফিরিস্তি দিলাম, কোন তরুণী মেয়ের পক্ষে কি এটা করা সম্ভব হত?? এতটা পরিপক্কতার সাথে এসব সমস্যার সমাধান কি কোন কুড়ি-পচিশ বছর বয়সী মেয়ের পক্ষে সম্ভব ছিল??
নিঃসন্দেহে ছিল না।

মূলত আল্লাহ এই বিয়ের মাধ্যমে তার হাবীবের জন্য একজন দুনিয়াবী অভিভাবকের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

এত কিছুর পরেও, বিয়ের সময়, চল্লিশ বছর বয়সে উম্মুল মুমিনীন খাদিজা (রা) ছিলেন অত্যন্ত সুন্দরী ও হালকা পাতলা শারীরিক গড়নের অধিকারিণী। আফিফ কিন্দীর বর্ণনা থেকে অনুমান করা যায়, এমনকি নবুওয়াতের পর যখন তার বয়স ছিল ষাটের কাছাকাছি তখনো তিনি রাজকীয় চলনের অধিকারীনি ছিলেন। তার সন্তানদের বেশিরভাগ জন্ম নিয়েছে তার পয়তাল্লিশ থেকে ষাট বছর বয়সের মধ্যে।
এটা তখনকার আরবের বিবেচনায় অস্বাভাবিক ছিল না, তৎকালীন আরবে প্রবাদই ছিল এমন, যদি কোন নারী পঞ্চাশের কোঠায়ও উর্বর থাকে তবে নিশ্চিত থাকো সে আরব, আর যদি সে ষাটের কোঠায়ও উর্বর থাকে, তবে বুঝে নাও সে নারী কুরাঈশ।

এবার আসুন আমরা আমাদের তথাকথিত আধুনিক, প্রগতিশীল, শিক্ষিত সমাজের কথা ভাবি।
পচিশ বছর বয়সের একজন সুদর্শন, সৎ, পরিশ্রমী কিন্তু দরিদ্র যুবক যে কিনা দেশের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠানের জেনারেল ম্যানেজার, তাকে ঐ প্রতিষ্ঠানের মালিকা চল্লিশ বছর বয়সী একজন সুন্দরী, সচ্চরিত্রা, বিধবা নারী বিয়ের প্রস্তাব পাঠালেন এবং বিয়ে করলেন।

আমাদের তথাকথিত শিক্ষিত ও আধুনিক সমাজ কি এটা হজম করতে পারবে??

অথচ এটাই ছিল আল্লাহর কাছে ইতিহাসের সেরা বিয়ে এবং সম্ভবত, পৃথিবীর রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক ইতিহাসে সবচেয়ে সফল বিয়ে।

--মুহাম্মদ সজল

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য