শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

আল্লামা আশ্রাফ আলী দা:বা: ; এবং কিছু কথা: মারুফ তাকী


এক,
শায়খুল হাদীস আশ্রাফ আলী হাফিজাহুল্লাহ বর্তমান সময়ে কওমি অঙ্গনের গ্রহণযোগ্য একজন মুরুব্বির নাম। উনি পদবির দিক দিয়ে যেমন সম্মানিত ব্যক্তিত্বের দিকে দিয়েও তেমনি যোগ্য।
আম্মুর আপন মামা, সে সম্পর্কে আমার নানা। সম্পর্কটায় অল্প একটু দূরত্ব থাকলেও বাস্তবে নানার বাড়ির মতই ছিলো আসা-যাওয়া ও সম্পর্ক। এখনো মামাদের সাথে মামার মতই চলাফেরা, কথাবার্তা হয়। ছোটকালে নানার আদর পেয়েছিলাম আপন নাতির মতই।
সেই সুবাদে দেখা হয়েছিল উনার ব্যক্তিত্ব, আমল এবং মানুষের সাথে সম্পর্ক। উনার আমলের বিষয়ে যদি শুনতে চান তবে বলব তার আমল দেখার মত ধৈর্য আমাদের মত বান্দার মাঝে নেই। উনার পিতৃয়সূত্রে পাওয়া সম্পদও অনেক! কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি রেখে গিয়েছেন উনাদের জন্য৷ আর ইলমি অবস্থান তো বাংলাদেশের আদনা থেকে আদনা আলিমের জানা, সেটা নিয়ে আলোচনা করা অপ্রয়োজনীয়।

দুই,
তবুও আমি মনে করি না, তিনি ভুল করতে পারেন না। সরকারের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করেন না, এমন মিথ্যাও আমি আপনাদের শোনাবো না। আমি এও বলবো না উনি সাহসী নেতা! বীর মুজাহিদ ব্যক্তিত্ব! কারণ উনি কিছু বিষয় খুব ভয় পান, তা ছোটকাল থেকে দেখে আসছি। কুমিল্লার বিভিন্ন আন্দোলন বন্ধে উনার হাত ছিল, সেই সত্যকথাটাও অস্বীকার করবো না। তবে হতে পারে এখানে কোন হিকমত আছে, তিনি আন্দোলনের বাস্তবতা বুঝেন দেখে সবসময় মিছিল-মিটিং না হওয়ার পিছনে কার্যকরী পদক্ষেপ নেন। ( আল্লাহ তায়ালা ভালো জানেন।)
শুধু আশ্রাফ আলী সাহেব না! বরং কোন আলিমের ব্যাপারে আমার এই আকীদা নেই, উনারা ভুলের ঊর্ধ্বে! আমি মনে করি, সবাই ভুলের ভিতরে। তবে কোন ভুলগুলো নিয়ে আলোচনা করা ঠিক হবে তা নিয়ে আমার নিজস্ব একটা নীতিমালা আছে। আমি মনে করি- ''বড়দের ব্যক্তিগত নয় শর'ঈ কোন ভুল হলে তা নিয়ে দলিল ভিত্তিক আলোচনা ও পর্যালোচনা করবো'' কারণ ইতিহাস সাক্ষী- বড়দের মুবাহ কোন কাজের পিছে ছিল হিকমত যা সবার জানা জরুরি নয়। যার ভালো না লাগবে তার উচিৎ এড়িয়ে চলা।

তিন,
তথাপি আমরা ফাসিকের কথায় বড় একজন মাথার তাজকে নিয়ে আলোচনা- সমালোচনা করছি৷ অথচ দরবারে গমন- এটা শর'ঈ কোন জরুরি নিষিদ্ধ কোন বিষয় নয়, এটা মুবাহ কাজ; তবুও তার ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে ভালোই ঝর তুলে যাচ্ছি, আল্লাহ সকলকে ক্ষমা করুন।
ভাই! আশ্রাফ আলী দা:বা:-এর সম্পদের পরিমাণ এতই যে, উনি চাইলে সব মন্ত্রীদের হজ্বে নিতে পারবেন। তাছাড়া উনার দুইছেলে এবং একমাত্র মেয়ের জামাতা হজ্ব ট্রাভেলসের মালিক। তারা চাইলেই যেকোন সময় বিনামূল্যে মুয়াল্লিম বা বড় আলিম হিশেবে নিতে পারতেন। এটা করলে তাদের ব্যবসায় ক্ষতি হতো না; বরং উনার সাথে অনেক লোক যেতে চাইতো, এতে তাদের ব্যবসা আরো চাঙ্গা হতো। তা না করে সমালোচনার কথা নিশ্চিত যেনেও উনি কোন বুঝে সরকারের পা ধরে যোগ দিবেন সরকারি হাজ্বীদের তালিকায়?
তারপরও সব যুক্তি বাদ দিয়ে মেনেই নিলাম ফাসিক সত্য বলেছে, ঠিক নসের কাছাকাছি!? এতে তো শরীয়তের কোন বাধা দেখি না৷ কোন আলিম তো বলেন নি দরবারের টাকায় হজ্বে যাওয়া হারাম, অথবা এমন কোন কঠিন শরঈ নিষেধাজ্ঞা দেননি। এটা একটা মুবাহ বা অনুত্তম কাজ।যার দায়বার উনার নিজের উপর, উনি-ই বুঝে নিবেন কী করতে হবে।

চার,
ভাই! অন্যের পাছায় থাকা হাল্কা ময়লা না দেখে নিজের গায়ে লেপ্টে থাকা মাখা-মাখা পায়খানাগুলো ধোয়ার কাজে একটু সময় দেন। নানা বর্তমানে অনেক অসুস্থ আছেন, পারলে দোয়া করে কোনরকম ভালো যেই লোকগুলো বেচে আছে তাদের বাঁচিয়ে রাখেন। কারণ উনাদের পরবর্তী প্রজন্ম কেমন হবে তা হয়তো এখুনি অনেকটা বুঝতে পেরেছেন।
আমি আশাবাদী- আমি ও আমরা মানুষের শর'ঈ বিষয় ছাড়া ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে মাতামাতি থেকে বিরত থাকবো। গীবত থেকে বাঁঁচবো। আল্লাহ তায়ালা আমাদের তাওফিক দান করুন, আমিন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য