শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

চশমা ও মেহেদী হাসান : ইয়াহইয়া ইউসুফ নদভী


তামাদ্দুন২৪ডটকম: মেহেদী হাসান। বয়স এখনও পনেরো পেরোয় নি। গরিব বাবা মায়ের দ্বিতীয় সন্তান। সংসারে বাবাকে সহযোগিতা করতে হবে। টানাটানির সংসার। তাই ছাড়তে হয়েছে পড়াশোনা। হিফজটা আর শেষ হলো না। মাত্র ৫০০০/= টাকার চাকরিটা করে যাচ্ছে দায়িত্বশীলতার সাথে। বাবাও ছোট্ট একটা কাজ করেন। এভাবে চলছে তাদের সংসার। মাস শেষে গুনতে হয় ভাড়ার টাকা। দশ/বারো হাজার।
আমি ভাবছিলাম একটা ফোন আসতে পারে। কোনো হৃদয়বানের পক্ষ থেকে। একটু আগে হারিয়ে যাওয়া নতুন চশমাটা আমাকে খুব কষ্ট দিচ্ছে।

বাসায় এসে বললাম, তোমার জীবনের প্রথম চশমা পরতে প্রস্তুত হও! কিন্তু চশমাটা যে হারিয়ে ফিরেছি, তখনও জানি না। খুঁজে আর পেলাম না! সবার হাসি হাসি মুখগুলো দুশিন্তায় ডুবে গেলো। হন্যে হয়ে বেরিয়ে গেলাম চশমার খোঁজে। যেখানে যেখানে নোঙর ফেলেছিলাম সব জায়গায় জিজ্ঞাসা করলাম। সবাই বিনয়ের সাথে না বলে দিলেন। মন খারাপ করে ফিরে এলাম। নিজের চশমা হলে হয়তো এতোটা মন খারাপ হতো না।

এসেই দেখি, টেবিলের ওপর রেখে যাওয়া মোবাইলে লাইট জ্বলছে। তিন তিনবার কে যেনো ফোন করেছে। উত্তর দিলাম। ওপাশে বিনীত একটা কণ্ঠ।

আপনার বাসা কোথায়!
এ ব্লক!

কিছু হারিয়েছেন?
হু, একটা চশমা!

একটু আসবেন ওই দোকানটার সামনে!
আসছি এক্ষুনি!

গিয়ে দেখি মেহেদী হাসান ছোট্ট ব্যাগটা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মুখে একটু দুশ্চিন্তা। মালিক পেতে দেরি হচ্ছে বলে। আমি কাছে গিয়ে বললাম, তুমি?! তুমি পেয়েছো ভাইয়া? মেহেদী হাসান মিষ্টি করে হাসলো। মাথা নাড়লো। আমি আপ্লুত হয়ে ওর হাত থেকে ব্যাগটা নিলাম। অনেক শুকরিয়া জানালাম। তৃপ্ত হতে পারছিলাম না। কিন্তু আর কী করবো? তাই পিঠে হাত বুলিয়ে চলে আসছিলাম বাসায়। হাঁটছি। দেখলাম মেহেদী হাসানও আমার পাশে একটু পেছনে। শান্ত পায়ে হাঁটছে। মুখে এক টুকরো হাসি। উপকার করার তৃপ্তিতে ভাস্বর। এবার আমি থেমে গেলাম। ওর হাতটা ধরলাম। পারিবারিক অবস্থা জানলাম।

সোজা নিয়ে এলাম বাসায়। সদ্য প্রকাশ পাওয়া দুটি বই দিলাম। খুব খুশি হলো মেহেদী হাসান। ও বেরিয়ে যাওয়ার আগে কিছু টাকাও ওর হাতে জোর করে তুলে দিলাম। না না বলতে লাগলো। আমি শক্ত করে বললাম, তোমার আম্মুর জন্যে! তখন নিলো! মুখে অপার্থিব একটা ছায়া ঝলমল করতে লাগলো। নিশ্চিত মা-ভক্ত অনুগত ছেলে।
মেহেদী হাসান ছোট্ট বালক। কাজটা করেছে বয়স্ক দক্ষ মানুষের মতো। হারিয়ে যাওয়া চশমার কাগজ খুলে ফোন নম্বর আবিষ্কার করেছে। ফোন দিয়েছে একবার নয় তিনবার। কাজ শেষে ও বাসায় ফিরছিলো। হঠাৎ দেখে রাস্তায় পড়ে আছে নতুন একটা ব্যাগ। তুলে নিলো!

অনেক দিন পর আমি মানুষের আচরণে মুগ্ধ হলাম। বুদ্ধিমত্তায় আপ্লুত হলাম। প্রায় চশমার মূল্যটাই খুশি হয়ে তাঁর হাতে তুলে দিয়ে অজানা এক পুলকে এখন ভাসছি।

আলোচিত শিশু সাহিত্যিক

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ