শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

বিজয় দিবস বাঙালি জাতির আনন্দের দিন


এইচ. এম. মুশফিকুর রহমান: বিজয় মানে আনন্দ। বিজয় মানে উৎসব। বিজয় মানে কোনো কিছু পেয়ে যাওয়ার খুশি। প্রতিটি বিজয়েরই আনন্দ আছে, এ কথা ঠিক। তবে দেশের বিজয় মানে মহা আনন্দ। মহা খুশি। কেননা একটা দেশের বিজয় একটা জাতিকে স্বাধীনতা এনে দেয়। স্বাধীনতা ছাড়া কোনো জাতি বা গোষ্ঠী অথবা কোনো দেশ সম্মান আর মর্যাদা নিয়ে বিশ্বের দরবারে দাঁড়াতেই পারে না। মহান বিজয় দিবস, বাঙালি জাতির আনন্দের দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) আত্মসমর্পণ করেছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। ৯ মাসব্যাপী যুদ্ধ শেষে বিজয়ের মধ্য দিয়ে পৃথিবীর বুকে অভ্যুদয় ঘটেছিল বাংলাদেশের। আমরা পেয়েছি আমাদের দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব।

আমরা বাংলাদেশের সন্তান। এ দেশ এই মাটি আমাদের ভালোবাসার বন্ধনে সজীব হয়েছে। এই দেশের আলো হাওয়ায় আমরা বেড়ে উঠেছি। মাথার ওপর অসীম নীল আকাশ আমাদের মনকে উদার হতে সাহায্য করেছে। এই দেশের মাটিতে কী চমৎকার ফসল ফলে। কোনো রকম মাটির ভেতর বীজ বুনে দিলেই গাছগাছালি আর ফসলের সুন্দর বেড়ে ওঠা প্রত্যক্ষ করি আমরা। আমাদের এই দেশকে নিয়ে অনেকেই নিজেদের স্বার্থ হাসিল করেছে। বিদেশী বণিকেরা ছুটে আসত এখানে। ব্যবসাবাণিজ্য করে বেশ টাকাকড়ি নিয়ে তারা ফিরে যেত নিজেদের দেশে। এটাই বাংলাদেশের ইতিহাস।

প্রতি বছর গৌরবের বিজয় দিবস আসে নতুন সম্ভাবনা নিয়ে। এ দিনটি আমাদের জন্য একটি আত্মসমীক্ষার দিনও বটে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও বিজয় অর্জনের ৪৮তম বর্ষপূর্তিতে আমাদের অর্জন নেহাত কম নয়। মুক্তিযুদ্ধের প্রধানতম ভিত্তি ছিল সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি এবং সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যবোধ। এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়, অর্থনৈতিক সূচকে আমরা এগিয়ে চলছি। জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার, রপ্তানি আয়, রেমিট্যান্স এবং গড় আয়ু সূচকে আমাদের যথেষ্ট অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। বাংলাদেশ এখন বিশ্ব অর্থনীতির উদীয়মান শক্তি হিসেবে স্বীকৃত। সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা সত্ত্বেও বাংলাদেশ তার প্রবৃদ্ধি ধারা অক্ষুন্ন রাখতে অক্ষম হয়েছে।

দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে। মফস্বল এলাকায় কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন এবং উপজেলা-জেলা হাসপাতালগুলোতে মোবাইল স্বাস্থ্যসেবা টেলিমেডিসিন সিস্টেমসহ চালু করা হয়েছে। মাধ্যমিক পর্যায়ে বিনামূল্যে বই বিতরণ করা হচ্ছে। কৃষকদের জন্যে কৃষিকার্ড, ১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব খোলার ব্যবস্থা করেছেন।

শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ বিশ্বে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত (জঁষব গড়ফবষ) স্থাপন করেছে। শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমানোর সূচকে বাংলাদেশের সাফল্যে বিশ্বনেতৃবৃন্দ রীতিমতো অবাক হয়েছেন। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের সুফল ইতোমধ্যেই পেতে শুরু করেছে দেশের জনগণ। সরকারের জন্যে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছিল পদ্মা সেতু নির্মাণ। কিন্তু স্বপ্নের পদ্মা সেতু আজ বাস্তবে দৃশ্যমান হতে চলেছে এবং পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রযুক্তিবান্ধব কৃষিনীতির কারণেই বাংলাদেশ ইতোমধ্যে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার ছড়াছড়ি রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক সংলাপের অপরিহার্যতার প্রেক্ষিত রচনা করছে।

স্বাধীনতা সংগ্রামের পেছনে আমাদের রাজনৈতিক আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার, অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করা এবং বৈষম্যমুক্ত সমাজ, সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন সক্রিয় ছিল। দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হলেও গণতন্ত্র শক্ত ভিত্তিতে দাঁড়িয়েছে, বাস্তবতার আলোকে তা বলা যাবে না। সহনশীলতা, ধৈর্যশীলতা, সবার জন্য আইনের সমপ্রয়োগ নিয়ে এখনও প্রশ্ন তোলার সুযোগ মেলে। সংঘাত-সহিংসতার রাজনীতি থেকে এখনও বেরিয়ে আসতে পারিনি। জনগণ এখনও রাজনীতি নিয়ে উদ্বেগ ও শঙ্কা প্রকাশ করেন।

বিজয়ের পূর্ণ স্বাদ উপভোগের জন্য যথেষ্ট করণীয় এখনও রয়ে গেছে। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত মূল্যবোধ রক্ষায় আরও যতœবান হতে হবে। সেক্ষেত্রে অর্থনৈতিক অগ্রগতির পাশাপাশি গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সবার চাই সুস্পষ্ট অঙ্গীকার। জনগণের সক্ষমতা অর্জনে বিশেষ ভূমিকা রাখতে হবে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের রাজনৈতিক শক্তিকে। বিভেদ-বিভক্তি ভুলে উন্নয়নের পথে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। যারা সুশাসনের পরিবর্তে কুশাসন দুঃশাসন চাপিয়ে দেয় তাদের বিরুদ্ধে বিজয় অর্জন করতে হবে। বিজয় অর্জন করতে হবে যারা মানুষকে ঘৃণা করে তাদের ওপর। তবেই আমাদের দেশ হবে সুন্দর।


লেখক: কলামিস্ট,

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য