শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

‘কওমি অঙ্গনকে কলংকিত করা এই ছেলেদের দমন করতে হবে’

রশীদ জামীল : কথা আছে অনেক। কথা আরো অনেকেরই থাকতে পারে। যাদের নিয়ে কথা, কথা তাঁদেরও থাকতে পারে। তার মানে তো এই হতে পারে না যে, আমরা শালীনতা ভুলে যাব! একটু সভ্যতা, একটু ভদ্রতা, একটু মরুওত- এই নিয়েই তো সংসার। তাও যদি হারিয়ে ফেলি, থাকলটা কী?

মুফতি ফয়জুল্লাহ একজন আলেম। ইসলামী আন্দোলনের একটি সাহসী কণ্ঠ। তাঁকে ঘিরে শাপলা কেন্দ্রিক কথা থাকতে পারে। কথা তো আরো অনেককে নিয়েই আছে। যত কথাই থাকুক, কোনো কথা দিয়েই এমন ঘটনাকে হালাল করা যাবে না। কেউ যদি এই ঘটনাকে সাপোর্ট করবার চেষ্টা করেন, তাহলে সেটা হবে চরম ঐতিহ্যঘাতী ব্যাপার। ইতিহাস তাঁকেও একদিন টার্গেট বানাতে পারে।

আমাদের একটা ঐতিহ্য ছিল। এখনো আছে কিছুটা। গুটি কতেক উশৃঙ্খল ছেলের কারণে এই ঐতিহ্য ম্লান হয়ে যাক, আমরা এটা কীভাবে চাইতে পারি! কওমি অঙ্গনকে কলংকিত করা এই ছেলেদের দমন করতে না পারলে সামনের দিনে এমন পরিস্থিতি যে বারবার এবং অন্য কারো দিকে ফিরে আসবে না- কেউ কি হলফ করে বলতে পারবে?

কওমি মাদরাসা বেয়াদব জন্ম দেয় না। সুতরাং, কোনো বেয়াদবের স্থান এই আঙিনায় হতে পারে না। সংশ্লিষ্ট মাদরাসা প্রধানদের কাছে আমাদের বিনীত দাবি, এই বেয়াদবদের চিহ্নিত করুন। বানরকে গাছে উঠতে দিয়েন না। তাহলে আর নামাতে পারবেন না।

২.
বাংলাদেশের শীর্ষ উলামায়ে কেরাম, যারা রাজনীতির সাথে জড়িত, দয়া করে ভাবুন। দায় আপনারাও এড়িয়ে যেতে পারেন না। আপনাদের দলের কর্মীরা যখন প্রতিপক্ষ দলের সিনিয়ার আলেমদের নাম ধরে ধরে অপমান করে কথা বলে, অত্যন্ত দু:খজনকভাবে আমরা আপনাদের কাছ থেকে যথাযথ প্রতিক্রিয়া দেখতে পাই না!

আপনারা যদি কঠোর হতেন, আপনাদের দলের কোনো কর্মী যখন অন্য দল, পথ বা মতের আলেমকে নিয়ে বাজে কথা বলে, তখন যদি টুঁটি চেপে ধরতেন, যদি লাই না দিতেন, তাহলে এরা এত দু:সাহস দেখানোর সাহস পেত না।

মনে রাখবেন, এখনই লাগাম টেনে ধরতে না পারলে ঐতিহ্যের অস্তিত্ব বলে আর কিছু বাকি না-ও থাকতে পারে! আজ মুফতি ফয়জুল্লা’র দিকে বেয়াদববির তীর ছুঁড়া হয়েছে। কাল এই তীর যে আপনার দিকেও ধেয়ে আসবে না- সেই গ্যারান্টি আপনাকে কে দেবে?

এর আগে মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ সাহেবের ছবিতে জুতা নিক্ষেপ করা হয়েছিল। আমরা তখন বলেছিলাম এই কালচারকে লাই দেওয়া ঠিক হচ্ছে না। ফরিদ মাসউদ সাহেবকে নিয়ে কথা থাকতে পারে। কথা বলুন। কঠিন ভাষায় বলতে চাইলে বলুন। কিন্তু শুভ্রকেশি একজন আলেমের দাঁড়ির ছবির উপর জুতা নিয়ে উঠা- এটা প্রতিবাদের ভাষা হতে পারে না।

তখন অনেকেই কথাটির গভীরে যেতে চাননি। বলতে চেয়েছেন ফরিদ সাহেবকে ডিফেন্স করবার চেষ্টা করা হচ্ছে। আজ বোধকরি তাঁরা অনুধাবন করতে পারছেন। বুঝতে পারছেন বেয়াদবদের কোনো নীতি থাকে না।

তবুও যদি আমরা না বুঝি, তবুও যদি হুঁশ ঠিকানায় না আসে, বেয়াদবদের কঠিন হাতে দমন করতে পারা না যায়, তাহলে ধ্বংস হবার জন্য মানসিক প্রস্তুতি শুরু করে দেওয়া দরকার।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য