শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

রাজনীতি একটি বুদ্ধিবৃত্তিক শিল্প | সৈয়দ শামছুল হুদা


তামাদ্দুন২৪ডটকম: রাজনীতি একটি বুদ্ধিবৃত্তিক শিল্প, এ ক্ষেত্রে আমাদের নৈপুণ্য প্রদর্শন কাম্য। আজ সারা বিশ্বে তারাই নেতৃ্ত্ব দিচ্ছে যারা এই শিল্পে বেশি দক্ষতা প্রদর্শন করতে পারছে। যারা মনে করে সব কিছুকেই অস্ত্র দিয়ে সামলে নিবে, তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে। আপনি অস্ত্র প্রয়োগের সুযোগই পাবেন না, যদি শত্রু আপনাকে সুযোগ না দেয়। আপনি প্রযুক্তির ছুঁয়ায় সর্বক্ষণ ওদের হাতেই বন্দি। ওদের জালে আটকা থেকেই আপনি অনেক কিছু করার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। আর আপনার চমকদার কথায় অনেক তরুণ পাগলপারা হয়ে যাচ্ছে। আপনি জীবন ও জগত সম্পর্কে কতটা ওয়াকিফহাল তা বুঝতে কষ্ট হয়।

আজকের বিশ্বে যে সকল রাজনীতিবিদ দাপটের সাথে দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে তারা সকলেই রাজনৈতিক শিল্প দ্বারা শাসন করছে। আপনি যদি বাংলাদেশের দিকেই তাকান, তাহলেই আপনি অনেক কিছু দেখতে পাবেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আপনি যতই অপছন্দ করেন, মনে মনে গালি দেন, কিন্তু তার রাজনৈতিক দক্ষতার সামনে অনেকেই ঠুনকো। প্রতিটি ঘটনার এত নিপুণ হ্যান্ডেলিং অনেক ক্ষেত্রে কল্পনাকেও হার মানায়।

আজ বিশ্বের প্রভাবশালী শক্তিগুলোর ডাটা সংগ্রহ করুন, দেখুন তারা কেউ কথার যাদু দিয়ে, কেউ কাজের যাদু দিয়ে, কেউ কৌশলের যাদু দিয়ে প্রতিপক্ষকে কীভাবে ধুলিস্যাত করে দিচ্ছে। একসময় যেই তালেবানদেরকে একেবারেই আনকোরা মনে করা হতো, সেই তালেবানরাই এখন কাতারে শত্রুর সাথে বৈঠক করছে। সেই তালেবানরাই এখন আজন্ম শত্রু রাশিয়ায় গিয়ে বৈঠক করছে। চীনে গিয়ে বৈঠক করছে। তালেবানরা এ কথা বলছে না যে, আমরা কোন তাগুতের সাথে বৈঠক করবো না।

আজকের বিশ্বে চীন, রাশিয়া এবং তুরস্ক এই তিনটি দেশকে আমার কাছে সবচেয়ে বর্ধনশীল রাজনীতির ক্ষেত্র মনে হয়। তুরস্ক বিশ্বমোড়লদের 'শব্দ রাজনীতি' দিয়ে এমনভাবেই ঘায়েল করছে, যার ভয়ে অনেক পরাশক্তিই এখন তটস্থ। ইউরোপ, আফ্রিকাতেই শুধু নয়, এশিয়া এবং আমেরিকাতেও তুরস্কের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে। এরদোয়ান যেন কথার যাদুকর। রাজনীতিটাকে কীভাবে শিল্পে পরিণত করতে হয় তা এরদোয়ানকে দেখলে কিছুটা অনুভব করা যায়। ইমরান খান এ খেলার সফরসঙ্গী হতে চায়। কিন্তু নানা সীমাবদ্ধতার কারণে পারছে না।

চীন সব আগ্রাসী কর্মকান্ডে জড়িত। কিন্তু তার অপরাধ নিয়ে কেউ এখনো বিশ্বমিডিয়ায় জোড়ালো আওয়াজ তুলে ধরতে পারছে না। চীনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট আজীবনের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। এ নিয়ে কেউ কোন প্রকার স্বৈরতন্ত্রের অভিযোগ তুলছে না। তথাকথিত গণতন্ত্রের কোন আওয়াজ এখানে চলে না। চীন কখনো অর্থ দিযে, কখনো প্রযুক্তি দিয়ে, কখনো সেবা দিয়ে বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে।

বুদ্ধিবৃত্তিক খেলায় চীন এবং তুর্কি শাসক একেবারে প্রথম সারিতে। তাদের ধারে কাছেও কেউ নেই। পুতিন নানা খেলা খেলছে। কিন্তু সেটা দৃশ্যমান হচ্ছে না। তারা এখনো সাম্রাজ্যবাদী শক্তি হিসেবে নিজেদেরকে প্রকাশ করতে পারছে না। কেজিবির একজন প্রশিক্ষিত সাবেক কর্মকর্তা হিসেবে পুতিন যথেষ্ট খেলা দেখালেও চীন এবং তুরস্কের পর্যায়ে নেই। যদিও তুরস্ক রাশিয়ার তুলনায় এখনো অনেক পিছিয়ে। তারপরও তুরস্ক অতিদ্রুতই রাশিয়াকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাবে।

বিশ্বরাজনীতিতে টিকতে হলে শক্তি প্রয়োগও লাগে। কিন্তু সেটাকে বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ের মারপ্যাচে ফেলে এমনভাবে কাজ করতে হবে যাতে স্বার্থও হাসিল হবে, আবার শত্রুও কাদঁতেও পারবে না। যেমনটা চীন করেছে মিয়ানমারে। রোহিঙ্গারা কাঁদতেও পারিনি। যেমনটা তুরস্ক করেছে কাতারে। সৌদী আরবকে তুরস্ক নাকানি-চুবানি খাইয়ে দিয়েছে। কিন্তু সৌদী আরবের কিছূই করবার নেই।

আঘাতের ক্ষেত্র তৈরী করতে হলেও আগে বুদ্ধিবৃত্তিক আক্রমনের ক্ষেত্র তৈরী করে নিতে হবে। চীন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এটা করতে সক্ষম হযেছে। তুরস্কও শুরু করেছে। তুরস্ক যেখানেই হাত ঢুকানোর সুযোগ পাচ্ছে, সেখানে এক হাতের জায়গায় দু’হাত ঢুকিয়ে দিচ্ছে। শত্রুকে টের পেতেই দিচ্ছে না, কিসের থেকে কী হয়ে যাচ্ছে। ১৫জুলাই ২০১৭ এর সেনা অভুত্থানের পর তুরস্কের শয়তানিয়্যাতের বীজ অনেকটাই অঙ্কুর থেকে উৎপাটন করে ফেলেছে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে আলেম সমাজকে রাজনীতির খেলায় সফল হতে হলে আরো অনেক অনেক বেশি কৌশলী হতে হবে। বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মকান্ড বাড়াতে হবে। নিজেদের কর্মক্ষেত্রের পরিধি, চিন্তার পরিধি, সমর্থকের পরিধি অনেক বাড়াতে হবে। কুঁয়ার মধ্যে থেকে লাফিয়ে বেশি কিছু করা যাবে না। বৃদ্ধিবৃত্তিক সংগ্রাম, লড়াই, আন্দোলন যত বেশি হবে, ততই সফলতা পদচুম্বন করবে।

সর্বশেষ একটি উদাহরণ দিয়েই লেখাটি শেষ করতে চাই। ইসরাইলের সাথে তুরস্কেরও বন্ধুত্ব আছে। আবার মুহাম্মদ বিন সালমানেরও সম্পর্ক আছে। এই সম্পর্কের মধ্যেও যে বিশাল বৈপরিত্য আছে, তা যে কোন রাজনৈতিক বিশ্লেষক খুব সহজেই আঁচ করতে পারবে। সাধারণ দৃষ্টিকোন থেকে দেখলে মনে হবে, উভয়েই ইসরাইলের দালাল।

জেনারেল সেক্রেটারী
বাংলাদেশ ইন্টেলেকচুয়াল মুভমেন্ট (বিআইএম)
সহ সভাপতি
জাতীয় লেখক পরিষদ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ