শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

শায়খে হবিগঞ্জী রহ. টুকরো টুকরো শিক্ষা: মুসা আল হাফিজ


তামাদ্দুন ডেস্ক: ১.তিনি যখন হাটহাজারিতে পড়তেন, লিল্লাহ বোর্ডিং এ খানা গ্রহণ করতেন না।টাকাপয়সাও ছিলো না তেমন । তাহলে কী করতেন ? ছাতু বা ময়দা কিনে পানিতে মিশিয়ে আগুনে জাল দিয়ে তা খেয়ে নিতেন। যখন শিক্ষকতায় এলেন, বেতন গ্রহণ করতেন না। আর্থিক অবস্থা ভালো হয়েছে নব্বইয়ের দশকে। এর আগে প্রচণ্ড অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে গেছে। কিন্তু মাদরাসায় বেতন একটি ধার্য থাকলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি।ইন্তেকালের আগ পর্যন্ত একটি টাকাও নেয়া হয়নি। ওয়াজ- নসিহতে যেতেন। হাদিয়ার পরিমাণ সেকালে ছিলো পথখরচার অনুরূপ। অনেকেই ভালোবেসে বড় অঙ্কে টাকা দিতেন। সেগুলো প্রায়ই উমেদনগর মাদরাসার প্রয়োজনে ব্যয় হয়ে যেতো। মাদরাসার আয় ছিলো নিতান্তই নগন্য। এলাকা ছিলো বেদআতকবলিত। মাদরাসা ছিলো তাঁর আপন পরিবারের অংশ। নিজের পরিবারের প্রয়োজনের উপরে অনেক ক্ষেত্রেই প্রাধান্য পেয়েছে মাদরাসার প্রয়োজন।
২.
হাটহাজারিতে পাঠকালে দেখতে ছিলেন ছোট, নিতান্তই ছোট। মুফতি ফয়জুল্লাহ রহ. তাঁকে স্নেহ করতেন খুবই। শুধু মেধার কারণে মহব্বত জন্মেছিলো, তা নয়।আদব ও পরহেজগারীই ছিলো প্রধান কারণ। হাটহাজারিতে যতদিন ছিলেন, এক নম্বর ছিলেন। মখতসর জামাতে যখন পড়েন, সমকামের ভয়াবহতা নিয়ে একটি রেসালা লেখেন আরবীতে। নাম ইকতেনাসুশ শাওয়ারীদ ফি সুহবাতিল আমারিদ। এতে ছিলো মুফতি ফয়জুল্লাহ রহ. এর বাণী ও প্রশংসা। আবদুল ওয়াহহাব রহ.এর বাণী ও প্রশংসা। এমন সব আশাবাদ তাঁরা ব্যক্ত করেন, যা বিস্ময়কর মনে হতো অনেকের কাছে। তিনি বলতেন, উস্তাদদের এই আশাবাদ আমাকে আরো দায়িত্ববান করেছিলো। মনে হয়েছিলো যে, একে পূর্ণতা না দিলে তাদের প্রতি অপমান হবে।
৩.
তাঁর আকর্ষণের কেন্দ্রে ছিলো কুরআন মজিদ ও বোখারী শরীফ। কুরআন মজিদ প্রতিনিয়ত তেলাওয়াত করতেন। মুখস্ত করার আগ্রহ বাড়তো প্রত্যহ। পাকিস্তানে জামেয়া আশরাফিয়া লাহোরে ছয় মাসের অবকাশে হিফজ করে নেন কুরআন মজিদ। হঠাত্ দেখা গেলো তিনি হাফিজ। খুবই ভালোমানের হাফিজ। কিন্তু কীভাবে? লোকেরা জানতো না। ফলে এ নিয়ে বৃহত্তর সিলেটে আছে নানা কিংবদন্তী। যেমন তিনি ছিলেন মুহাদ্দিস, স্ত্রী ছিলেন হাফিজা। স্ত্রী প্রশ্ন করলেন, কুরআন উপরে থাকে না হাদিস উপরে থাকে? তিনি বুঝতে পারলেন, আসলে কী বলা হচ্ছে। তিনি পরের দিন বের হয়ে গেলেন বাড়ী থেকে। কয়েক মাসের মধ্যে হাফিজ হয়েই ঘরে ফিরলেন। কিংবদন্তী তো বড়দের নিয়েই তৈরী হয়। এর মধ্যে বাস্তবতা থাকে না প্রায়ই। তাঁর তেলাওয়াত ছিলো অনবদ্য। জীবনের শেষ দিন অবধি কুরআন হিফজে রাখার ব্যাপারে ছিলেন যত্নশীল ও সচেষ্ট। আর কুরআন মজীদের তাফসীরে তো কাটিয়ে দিলেন প্রায় পুরো কর্মজীবন।
বোখারী শরীফ তিনি সম্পূর্ণ পড়েন হাটহাজারিতে শায়খ আবদুল কাইয়্যুম রহ. এর দারসে। দ্বিতীয়বার পড়েন মুফতি ফয়জুল্লাহ রহ. এর বাড়ীতে, বিশেষ মজলিসে। তৃতীয়বার পড়েন লাহোরে শায়খ ইদ্রিস কান্দালভী রহ. এর কাছে। চতুর্থবার পড়েন ইউসুফ বানূরী রহ. এর কাছে। পঞ্চমবার পড়েন দারুল উলূম দেওবন্দে ফখরুদ্দীন মুরাদাবাদী রহ. এর কাছে। এ ছাড়া বোখারীর একংশ পড়েন শায়খ জাকারিয়্যা রহ. এর কাছে। তিনি বলতেন আরো সুযোগ পেলে আরো মুহাদ্দিসদের কাছে পড়তাম।
আল্লাহ তায়ালা বোখারী শরীফের সাথে তাঁকে বিশেষভাবে যুক্ত করে নেন। ১৯৬৬ সালে জামেয়া আশরাফুল উলূম বালিয়া থেকে বিদায় নিয়ে আল্লামা নূর উদ্দীন গহরপুরী রহ. সিলেট চলে আসেন। বালিয়াওয়ালারা একজন শায়খুল হাদিসের জন্য আবেদন করেন হাটহাজারির মুহতামিম আবদুল ওয়াহহাব রহ এর কাছে। তিনি পত্রযোগে বালিয়ায় বোখারী শরীফ পড়ানোর আদেশ দেন শায়খ হবিগঞ্জীকে। সেই থেকে ৫৮ বছর ধরে তিনি বোখারী পড়িয়ে আসছিলেন। যে দিন চলে যান, সে দিনও পড়িয়েছেন দুই ঘন্টা। ২০১৬ -১৭ সালে পুরো ত্রিশ পারা করে ৬০ পারা বোখারী পড়িয়েছেন দুই মাদরাসায়।
৪.
ওয়জ মাহফিলে তিনি সফর করতেন দেশ-বিদেশে। প্রায় ৬০ বছর ধরে তিনি একাধারে তাফসীর ও ওয়াজ -নসীহত করে গেছেন। এতো দীর্ঘ সময় ধরে সেটা করার তাওফিক এক দুর্লভ ব্যাপার। তাঁর মতো জযবা ও জোশ সম্পন্ন ওয়ায়েজ বিরলই বলতে হবে। ইমান-আকিদা, দেশ,জাতি, তাহযিব-তামাদ্দুন, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ত, দেশীয় ও বিশ্বরাজনীতি বার বার ঘুরে ফিরে আসতো তাঁর আলোচনায়। খুবই শক্ত ও বলিষ্ট ভাষায় কথা বলতেন। কিন্তু ভারসাম্যের নীতি থেকে সরে যাননি। প্রতিটি বাতিলের বিরুদ্ধেই উচ্চকিত ছিলেন। কিন্তু এমনভাবে বলতেন, যাতে দরদ থাকতো, মমতা থাকতো, দায়িত্ব থাকতো। বাতিল যাতে হক্বের দিকে আসে, সেটা থাকতো মনোযোগের কেন্দ্রে। বাতিল যাতে আরো দূরে সরে না যায়, আরো শক্ত রকমের বাতিলে পরিণত না হয়, সেটা তিনি খেয়াল রাখতেন। পেশাদার বক্তা তিনি ছিলেন না। কোনো সহকারী বা প্রতিনিধি তার ছিলো না। ডায়রিও তেমন মেন্টেইন করতেন না। ওয়াজের ব্যাপারে কারো মধ্যস্ততা, কোনো শর্তাবলী ইত্যাদিকে পছন্দ করতেন না।
৫.
অনেক সময় সারা রাত চলে যেতো সফরে। ফজরের আগে হয়তো এসেছেন। দেখা গেলো ফজরের পরেই বসে গেছেন দারসে। পড়াচ্ছেন ঘন্টার পর ঘন্টা। ক্লান্তির কোনো ছাপই নেই চেহারায়। তিনি দেশে আছেন আর দারস মিস হয়েছে, তা ছিলো প্রায় অসম্ভব।
ক্লাসে তিনি ছিলেন খুবই প্রাণবন্ত। দরকারী নয়, এমন আলোচনায় যেতেন না। ব্যাখ্যা করতেন অল্পকথায়। এমন প্রক্রিয়ায়, যাতে সকল মতামত ও ব্যাখ্যার শেষ কথাটা স্পষ্ট হয়ে যায়।ছাত্রদের মানসিকতা ও মেধার দিকে খেয়াল রাখতেন। তাদের বিকাশের প্রতিও ছিলেন যত্নবান। বায়জাবী শরীফকে তিনি নিজের নেসাবে রাখতেন। আমি যখন তাফসীরে পড়ি, বায়জাবীর ক্লাসে আমাকে ডেকে আনতেন। বলতেন তুমি তাদের সাথে আজকের সবক তাকরার করো, আমি শুনি। অন্যদের বলতেন, প্রশ্ন করার জন্য। তারা প্রশ্ন করলে আমার জবাব যখন সুন্দর হতো, যথার্থ হতো, তাঁর চেহারা খুশিতে উজ্জল হয়ে যেতো। এরপর বলতেন, এখানে আরো নুকাত আছে। যা সাধারণত আলোচনায় আসে কম। অত:পর শুরু হতো বিভিন্ন রুমুজ, আসরার, দাক্বায়িক ও হাক্বায়িকের বর্ণনা। দারসটা অন্য রকম হয়ে যেতো। সবাইকে বলতেন, যা তোমরা বুঝেছো, তা তোমাদের জন্য বলেছি আর যা বুঝতে পারোনি, তা আসলে মুসা আল হাফিজের জন্য বলেছি!
৬.
রাজনীতিতে তিনি ছিলেন খুবই আদর্শনিষ্ঠ। আদর্শের বিজয় কীভাবে হয়, কোন প্রক্রিয়ায় হয় এবং আদর্শের পতাকাবাহীদের মাথা কীভাবে উচু হয়, এটা তিনি খুব গভীরভাবে লক্ষ্যে রাখতেন। ক্ষমতাবানদের কাছে হাজিরা দেয়া বা তাদের খুশি রাখার চেষ্টাকে তিনি সমগ্র সত্তা দিয়ে ঘৃণা করতেন। যখন চারদলীয় জোট ক্ষমতায়, তখনও জোটের এমপি, মন্ত্রীদের তাঁর কাছে যেতে হতো। একবার নবিগঞ্জে জোটের পক্ষ থেকে বিএনপির এক প্রার্থীকে দাঁড় করানো হয়। তিনি ও তাঁর দলকে উপেক্ষা করা হয়। তিনি দাঁড় করিয়ে দেন মাওলানা আবদুল মালিক চৌধুরীকে। প্রশ্ন করলাম, হুজুর! এতে তো জোটের ভোট ভাগ হয়ে যাবে? বললেন, তা হবে না। শুধু একটা শিক্ষা হবে ওদের। আর যাতে আমাদের অবহেলা না করে। তিনি মাঠে নেমে পড়লেন চৌধুরীর পক্ষে। বিএনপি হাইকমান্ড পেরেশান হয়ে গেলেন। তারা যোগাযোগ করলেন হবিগঞ্জীর সাথে। তিনি ছাড় দিচ্ছেন না। পরে হুজুরের মাদরাসায় এলেন কেন্দ্রিয় নেতৃবৃন্দ,সাবেক মন্ত্রী ও খালেদাজিয়ার উপদেষ্টা। তারা নিজেদের ভুল স্বীকার করলেন। এক সাবেক মন্ত্রী বললেন, হুজুর, আপনার জেলায় যদি আপনাকে জিজ্ঞেস না করে আমরা জোটগত কিছু করি, তাহলে আপনার হাতের লাঠি দিয়ে পেটাবেন। মাওলানা আবদুল মালেককে বসানো হলো। তার যাবতীয় খরচের অর্থ প্রদান করলেন বিএনপির প্রার্থী।
যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী ছিলেন হবিগঞ্জের এমপি। তাঁকে আসতে হতো মাদরাসায়। অন্যান্য এমপিরা তো আসতেনই। ওয়াজ মাহফিলে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে আছেন এমপি, এ দৃশ্য ছিলো একান্তই স্বাভাবিক। মন্ত্রী আসবেন আর পোস্টারে নাম দিতে হবে, প্রশ্নই আসে না।
শাপলা চত্বরে হেফজতের অবস্থান কর্মসূচির আগে এ কর্মসূচি প্রথমে পালিত হয় হবিগঞ্জে। প্রশাসনকে সেখানে নতি স্বীকার করতে হয়। জনতার হাতে ছিলো লাঠি। প্রশাসন ছিলো মারমুখি। শত শত পুলিশ সারি বেঁধে বন্দুক হাতে দাঁড়িয়ে আছে আর ঠিক সামনাসামনি লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে আছে অগণিত জনতা। তিনি ঘোষণা দিলেন, আমি পিছু হটবো না। আমার কর্মসূচি পালন করতে দিতে হবে। মন্ত্রী যোগাযোগ করলেন। বাড়াবাড়ির জন্য দু:খ প্রকাশ করলেন। সরকারের তরফে প্রতিনিধি পাঠালেন। শায়খের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সফল হলো। এরপর এলো হেফাজতের ঢাকা ঘেরাউয়ের কর্মসূচি। সেখানে শুরুতে আল্লামা আহমদ শফির সাথে শায়খে হবিগঞ্জীর একান্ত বোঝাপড়া ও পরামর্শ প্রক্রিয়া জারি থাকলেও ঢাকায় এসে তিনি কোনোভাবেই আমিরে হেফজতের সাথে দেখা করতে পারেননি। সে অন্য এক ইতিহাস।
শাপলাচত্বর পরবর্তী হেফজতের চিত্র ও চরিত্রে তিনি ছিলেন ব্যথিত। আমীরে হেফাজত এবং শীর্ষস্থানীয় সকল আলেমের উপস্থিতিতে হাটহাজারিতে জ্বালাময়ী বক্তব্য রেখে আপন ভিন্নমত তোলে ধরেন।
৭.
তাসাউফে তার দৃষ্টিভঙ্গি ছিলো একান্তই আলাদা। মুরিদ তো করতে চাইতেন না। অনেক বলার পরেই কেবল রাজি হতেন। নিজেকে একজন ওয়ায়েজ, শায়খুল হাদিস বা রাজনীতিকের মধ্যেই লুকিয়ে রাখতেন। নিজের আসল সত্তাকে প্রকাশ হতে দিতেন না। তাঁর আসল সত্তা ছিলো তার আধ্যাত্মিকতা। বলতেন, কুতুবিকে কিতাবের মধ্যে লুকাইতে পারবায়? না পারলে খাঁটি পীর হতে পারবা না। একদিন দাওরায়ে হাদিসের বিদায়ী ছাত্রদের উদ্বুদ্ধ করা হলো,, হুজুরের কাছে বায়আত গ্রহণের জন্য। কীভাবে বিষয়টি তিনি জানলেন। মসজিদে বয়ান রাখলেন, কেউ কেউ তাশকিল করে, যেন লোকেরা আমার কাছে মুরিদ হয়। এভাবেই ক্যাম্পেইন করা হয়। অমুকের মুরিদ হও, অমুক এতো বড় পীর। এটা নির্বাচনী প্রচারণা নয়। এটা এহসান ও তাসাউফ। লাখ লাখ ভক্ত দিয়ে কী হবে? মুরিদের সংখ্যা দিয়ে কী হবে? মুরিদ বাড়াতে চাইলে এলাকার পর এলাকা মুরিদে মুরিদে ভরে যেতো। কেউ না চাইতেই যদি মুরিদ বাড়তে থাকে, সেটা খারাপ নয়। কিন্তু এ জন্য প্রচারণা, ক্যাম্পেইন খুবই খারাপ। তিনি এশকে খোদার অভিব্যক্তিসমূহকে লুকাতে ছিলেন পরম যত্নবান। বলতেন এটা গোপন সম্পর্ক। এটা দেখিয়ে বেড়ালে চলে? হাল, মাকাম, কারামত ইত্যাদির পিছে পড়া থেকে সালিকদের নিষেধ করতেন।কিন্তু হালওয়ালাদের সমালোচনা করতেন না। প্রকৃতপক্ষে তিনি নিজেই ছিলেন হালওয়ালা। তবে সালিকদের শেখাতেন সহজ রাস্তা। বলতেন, আল্লাহর পরিচয় ও তার সাথে সম্পর্কটাই মা’রিফত। সুন্নতে রাসূলই (সাল্লাল্লাহুআলাইহিওয়াসাল্লাম) শরীয়ত ও তরিকত। এ পথেই সহজে পরিত্রাণ । এটাই যথার্থ পথ। অন্য দিকে নজর দিলে বিপদ বাড়বে, ভেজাল মিশ্রিত হবে।
৮.
তিনি ছিলেন ‘জামে শাখসিয়াত’ তাঁর ব্যক্তিত্বে ছিলো বহুমুখি কর্ম—ধারার সমাহার। বাংলাদেশের সমাজ বাস্তবতায় দীন ইসলামের সবগুলো প্রয়োজন ও কর্মতৎপরতায় তাঁর সমন্বিত অংশগ্রহণ ছিল। প্রতিটি শাখায় তিনি কাজ করেছেন প্রজ্ঞা ও দক্ষতার সঙ্গে। তাঁর শিষ্যদের দিকে তাকান, দেখবেন সেখানে আছেন শায়খ গিয়াসুদ্দীন শায়খে বালিয়া রহ. এর মতো কালজয়ী মনীষী, শায়খ নূর হোসাইন কাসিমী (দা,বা,) এর মতো বহুমুখী গুণাবলীর জাতীয় ব্যক্তিত্ব আবার ময়মনসিংহের মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ সাদী (দা,বা,) এর মতো শায়খুল হাদীস ও আঞ্চলিক নেতৃত্ব, কামরাঙ্গিরচরের শায়খুল হাদীস মাওলানা সোলাইমান নোমানীর (দা,বা,) মতো বিদগ্ধ আলেম ও মুহাদ্দিস, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা নেজামুদ্দীন রহ, এর মতো বিচক্কণ রাজনীতিক ও ব্যবস্থাপক, মাওলানা আবদুল রব ইউসুফির (দা,বা,) মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, মাওলানা আবদুল মালিক রহ, এর মতো মুফাসসির ও শায়খুল হাদীস { যার ছাত্র হচ্ছেন মাওলানা নুরুল ইসলাম ওলিপুরী (দা,বা,)}, মাওলানা আশরাফ আলী বানিয়াচঙ্গীর (রহ.) মতো মুফাসসির ও হাদীসবেত্বা থেকে নিয়ে উজ্জ্বল ও বহুবিস্তারিত অনেকেই। নানা খাতে অবদান রেখেছেন তাঁর শিষ্যরা। এর মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছিলো তার ব্যক্তিত্বের নানামুখি প্রভাব।
তিনি আসলে বড়দের হাতে নিজেকে তৈরী করেই বড় হয়েছেন। উপমহাদেশের মহান মনীষীদের অনেকেরই সান্নিধ্য থেকে লাভ করেছেন আলো। আল্লামা রসূল খান রহ, ইউসুফ বানূরী রহ, ইদ্রিস কান্ধালভী রহ, আবদুল্লাহ দরখাস্তী রহ,শায়খুল হাদীস জাকারিয়া রহ.ইবরাহীম বলইয়াভী রহ,ক্বারী তৈয়ব রহ, মুফতি ফয়জুল্লাহ রহ, ফজলুর রহমান মুরাদাবাদী রহ, বদরুল আলম শায়খে রেঙ্গা রহ. .... এমন সব নাম, যাদের একজনের সান্নিধ্য ও শিষ্যত্বই একজনকে দীপ্তিমান করে তোলার জন্য যথেষ্ট। তাঁর ব্যক্তিত্ব ছিলো তাদের বহুমুখি আলোর একটি শিখা। ফলত তিনি তার কালে হয়ে উঠেছিলেন অতীত মনীষীদের আয়না। যে দিকে তাকালে বুঝা যায় আয়নায় বিম্বিত সেই উচ্চতা ও মহিমাময় গুণাবলী থেকে আমরা কত দূরে এবং কত নিচে নেমে কত বেশি ক্ষুদ্র হয়ে যাচ্ছি !

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য