শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

নিজ কক্ষে ঢুকতে চান ভিপি নুর

আমিন মুনশি : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভবনে ভিপির কক্ষে হামলার পর এখন পর্যন্ত নিজ কক্ষে প্রবেশ করতে পারেননি নুরুল হক নুর। নুরের অভিযোগ, তদন্তের জন্য কক্ষটি সিলগালা করে রাখা হয়েছে। হামলার পর নিজ কার্যালয়ে প্রবেশ করতে চেয়েও তা সম্ভব হয়নি বলেও জানান তিনি।

গত ২২ ডিসেম্বর এ হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের একাংশ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এ হামলায় অংশ নেয়। এতে ভিপি নুরসহ অনেকেই আহত হন। তবে হামলার সঙ্গে নিজেদের কোনও সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করে আসছে ছাত্রলীগ। ঘটনার পর থেকেই ভিপির কক্ষটি সিলগালা করে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্তব্য করতে রাজি হননি হামলার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবু মো. দেলোয়ার হোসেন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যার কক্ষ (ভিপি) তার সঙ্গে গতকাল কথা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তো আর মন্তব্য করার কিছু নেই।’

এদিকে আইনজীবীরা বলছেন, উচ্চ আদালতের কোনও নির্দেশ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কক্ষটি এতদিন সিলগালা করে রাখতে পারে না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী বলেন, ‘ভিপি একজন ছাত্রপ্রতিনিধি। শিক্ষার্থীদের স্বার্থেও তার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ তদন্তের নামে এতদিন তার কক্ষটি সিলগালা করে রাখতে পারে না। যদি আদালতের কোনও নির্দেশ থাকে, তাহলে সেটি ভিন্ন বিষয়।’

এদিকে ভিপি নুর জানান, নিজ কক্ষে প্রবেশ করতে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করেছেন। তবে কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট করে কিছুই জানায়নি।

নুর বলেন, ‘শনিবার ক্যাম্পাসে গিয়েও নিজ কক্ষে ঢুকতে পারিনি। পরে অপেক্ষা করে চলে আসি।’

প্রসঙ্গত, ২৩ ডিসেম্বর ভিপি নুরের ওপর হামলার ঘটনা খতিয়ে দেখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবু মো. দেলোয়ার হোসেনকে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তবে গত ১ জানুয়ারি ছয় কার্যদিবস শেষ হলেও তদন্তের কাজ শেষ না হওয়ায় প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি কমিটি। এরপর আরও ১০ কার্যদিবস সময় দিতে উপাচার্যের কাছে আবেদন জানালে সময় বাড়িয়ে দেওয়া হয়। আগামী ১৫ জানুয়ারি ওই ১০ কার্যদিবস শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ওই সময়ের মধ্যে কমিটি প্রতিবেদন জমা দিতে পারবে কিনা, তা এখনও নির্দিষ্ট করে বলতে পারছে না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক জানান, তদন্তের কাজ চলমান। আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে না পারলে, আরও সময় চাওয়া হবে।

কমিটির আহ্বায়ক আবু মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘তদন্তের কাজ শেষ না হওয়ায় আমরা ১০ কার্যদিবস সময় বাড়িয়ে নিয়েছি। আজকেও ১২ জনের সাক্ষাৎকার নিয়েছি। তদন্ত চলমান। তদন্তের কাজ যদি ১০ কার্যদিবসের মধ্যে শেষ করতে পারি, তাহলে সময়মতো প্রতিবেদন দিয়ে দেবো। আর না হয়, সময় আরও বাড়িয়ে নেবো।’

এ বিষয়ে ডাকসুর সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত কক্ষটি সিলগালা থাকবে। কারণ কমিটি তদন্তের স্বার্থে যেকোনও সময় ওই কক্ষ ব্যবহার করতে পারেন।’

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য