শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

আলেমদের শিক্ষা দিচ্ছে মুভ ফাউন্ডেশন?

মনির আহমেদ মনির : মুভ ফাউন্ডেশন। এটি জার্মান দূতাবাস ও উত্তর আমেরিকার একটি দেশের আর্থিক সহায়তা প্রাপ্ত ও বহুবিধ মদতপুষ্ট একটি এনজিও সংগঠন । এতোদিনে হয়তো অনেকেই সংগঠনটির নামের সাথে পরিচিত হয়েছেন। তাদের প্রধান কাজ মূলত মুসলিমদের সহনশীলতার শিক্ষা দেয়া, ইসলামের উপরে কথিত মানবতাবাদের স্থান দেয়া , তাদের দৃষ্টিতে চরমপন্থার বিরুদ্ধে কাজ করা। সহজ ভাষায় বললে একটি কাটছাঁট বিকলাঙ্গ ইসলাম উপহার দেয়া। যার ফলে মুসলিমরা পশ্চিমা দখলদারিত্ব ও ধর্মহীন বিশ্বব্যবস্থার বিরোধীতা না করে বরং সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে। এজন্য তারা টার্গেট করেছে মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গুলোকে। আয়োজন করছে চমকপদ শিরোনামে নানা কর্মশালা।

এতোদিন আমরা জেনে এসেছি, আলেমরা মানুষদের ইসলাম শিক্ষা দেয় কিন্তু এখানে ঘটছে বিষয়টির পুরোপুরি ব্যতিক্রম। মুভ ফাউন্ডেশন উল্টো আলেমদের শিক্ষা দিচ্ছে কোন বিষয়ে ইসলামের অবস্থান কেমন হওয়া উচিৎ। তারা মুসলিমদের সিলেবাস ও কর্মপন্থারও দিকনির্দেশনা দিচ্ছে । কিন্তু তারা নিজেস্ব উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন ইসলামপন্থীদের মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে না করে পিঠে হাত বুলিয়ে করতে চাচ্ছে। তাই এসেছে বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীর বেসে। এতেই ধোঁকা খাচ্ছে কিছু সরলপ্রাণ মুসলিম।

আমি খুব অবাক হয়েছি মুভের প্রোগ্রামে অংশ নেয়া কিছু ভাইয়ের প্রোগ্রাম পরবর্তী প্রতিক্রিয়া দেখে। তাদের মধ্যে নেই বিন্দুমাত্র অপরাধবোধ । তাদের বক্তব্য হলো, আমি যে প্রোগ্রামে অংশ নিয়েছি তাতে তো খারাপ কিছু দেখিনি। আমাকে দিয়ে তো খারাপ কিছু বলানো হয়নি, তাদের উদ্দেশ্য যাই হোক, আমাকে দিয়ে তো ইসলামের বিরুদ্ধে কিছু বলানো হয়নি। তাহলে আমার এখানে যেতে সমস্যা কোথায়? সুযোগ পেলে আমি বারবার যাব মুভের সেমিনারে, কর্মশালায়। তাদের বেঁধেদেয়া টপিকে আলোচনা করবো। এতেতো আমি কোন অসুবিধা দেখিনা । তোমরা হিংসুটে, প্রতিক্রিয়াশীল তাই তোমাদের কিছুই সহ্য হয়না ।

আচ্ছা ভাই। আপনি অসুবিধা দেখেন না! না দেখার কিছু কারণও হয়তো রয়েছে ‌। আসলেই অসুবিধা আছে কিনা আসুন একটু ঘেঁটে দেখি। ধরুন, একটি বাহানীর নাম দাজ্জাল ফাউন্ডেশন, সে বাহিনীর কাজ ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা । এখন এ যুদ্ধে পরিচালনা জন্য তো অনেক কাজই করতে হবে । অর্থ সংগ্রাহক , সৈন্য , পরিকল্পনাকারী, সরঞ্জাম, প্রতিপক্ষের তথ্য সংগ্রাহক ,বার্তা বিভাগ, বাবুর্চি , বহু কর্মচারী প্রভৃতি । ফিল্ডে মুসলিমদের হত্যা করে কেবলমাত্র সৈনিক । কিন্তু ইসলামের বিরুদ্ধে কিন্তু যুদ্ধ করছে দাজ্জাল ফাউন্ডেশনের সবাই । দাজ্জাল ফাউন্ডেশনের বার্তা বিভাগের একজনের নাম হাবলু, এখন হাবলু যদি বলে আমি কি কোন মুসলিমকে হত্যা করেছি ? তাহলে আমার সেখানে কাজ করা অন্যায় হবে কিভাবে ? আমি তো কেবল দাজ্জাল ফাউন্ডেশনের সংবাদ প্রচার ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে কাজ করেছি । এতে দোষের কী আছে?!! হাবলুর কি দোষ আসলেই আছে? বিজ্ঞ পাঠকের কাছেই প্রশ্ন রইলো ।

প্রতিটি এনজিও বা সংগঠনের নির্দিষ্ট লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বা গোল থাকে। তা বাস্তবায়নের জন্যই সংস্থা নানা কর্মসূচি ও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রোগ্রাম হাতে নেয় । মুভের মতো বৈদেশিক অর্থে পরিচালিত একটি বৃহৎ সংস্থা তার কাজ গুলো অপরিকল্পিত ভাবে করছে সুস্থ বিবেকের কেউ বিশ্বাস করবে না । মুভের প্রোগ্রামে যখন কেউ আলোচনা করছে তা ততটুকুই প্রচার হবে যতটুকু তাদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজন । তারা সে বিষয়গুলোই নির্ধারণ করে দিবে কথা বলতে যার মাধ্যমে তারা ধীরে ধীরে তাদের গোলে পৌঁছাতে পারে । আপনাকে দিয়ে হয়তো প্রথম দিন খারাপ কিছু বলতে বলবে না কিন্তু তাদের সংস্থার পক্ষে আপনাকে বিজ্ঞাপন হিসেবে ঠিকই ইউজ করছে আপনি হয়তো তো টেরও পাচ্ছেন না । আপনি তাদের কিছু না করলেও অন্তত প্রমোটে তো ভূমিকা রাখছেন। আর এজন্যই তারা আপনার পেছনে অর্থ খরচ করছে।

আবার কেউ হয়তো বলতে পারেন মুসা নবী তো ফেরাউনকেও দাওয়াত দিতে গেছে তাহলে মুভের প্রোগ্রামে গেলে দোষের কী? আসলে সেখানে কেউ দাওয়াত দিতে যায় না, যায় ওয়ার্কসপে অর্থাৎ তাদের থেকে শিখতে। আর দ্বিতীয়ত আলেমদের সে বিষয়েই কথা বলার সুযোগ দেয় যে বিষয়ে কথা বললে তাদের লক্ষ্য বাস্তবায়নে একধাপ এগুতে পারবে। অর্থাৎ তাদের বেঁধে দেয়া ছকের মধ্যেই আপনাকে ঘুরপাক খেতে হচ্ছে । আর তাদের উদ্দেশ্যের বিপরীত কিছু তো তারা প্রচার করবে না । সুতরাং এসব অপ্রাসঙ্গিক কথা বলে অপরাধ জায়েজ করার সুযোগ নেই ।

আর আপনি যদি প্রকৃত পক্ষেই মুভের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের একমত হয়ে থাকেন আমার আপাতত আপনাকে বলার কিছু নেই। অপরদিকে যারা মুভের হয়ে কাজও করবেন আবার বলবেন আমি তো খারাপ কিছু করছি না! তাদের বলবো, প্লিজ ভাই হাবলুর মতো কথা বলবেন না!
https://www.facebook.com/101Ahmed/posts/1442204299275012

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য