শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

পথকলিদের পাশে আলেম ও তলাবারা

আশরাফ মানসুর : ঋতু বদলে প্রতি বছরেই আসে শীতের মৌসুম। এ মৌসম কারো জন্য অত্যন্ত মজার একটি ঋতু। আবার কারো জন্যে এই শীতকালীন নিদারুণ কষ্ট বেদনার। পুরো শীতকাল জুড়েই প্রতিদিন খবরের কাগজে প্রকাশিত হয় ঠান্ডা জনিত মৃত্যু সংবাদ।এর মধ্যে অধিকাংশই শিশু এবং বৃদ্ধ। এবারের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিলো 4.5’।যা বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম। গরিব-দুঃখী মানুষের জন্য যা করুণ কষ্টের ব্যাপার। কৃষকরা এই হাড় কাঁপানো শীতে মাঠে-ঘাটে কাজ করতে পারে না। ঠান্ডার কারণে পর্যাপ্ত কম্বল না থাকায় রাতে ভালোভাবে ঘুমাতে পারে না। মাঝে মাঝে উঠে আগুন জ্বালিয়ে উষ্ণতা নেওয়ার চেষ্টা করে।

আবার অনেকে অপেক্ষায় থাকে সকালের এক টুকরো রোদের জন্য। নাতিদীর্ঘ রাতটাকে অনেকের কাছে প্রতীক্ষার রজনী চেয়ে দীর্ঘ মনে হয়। কারণ বেদনার সময় কাটতে চায় না। শীতের সাথে রয়েছে মৃদু বাতাস যা শরীরের শিরা উপশিরা পর্যন্ত পৌঁছে দেয় শীতের বিষাদতা। এই ঠাণ্ডার ভয়ে অনেকে মাঠে-ঘাটে কাজকর্ম করা ছেড়ে দিয়েছে। ফলে হয়ে পড়েছে আর্থিকভাবে অসচ্ছল! কিনতে পারে না শীতের পর্যাপ্ত জামাকাপড়! খেতে পারে না শীতকালীন শাকসবজির।এই অনিন্দসুন্দর একটাই মৌসুমে তারা পার করছে মানবেতর জীবন! জীবন হয়ে ওঠে তাদের জন্য দুর্বিষহ! অথচ আমরা সব সময় বলি "মানুষ মানুষের জন্য" তাহলে এই কথাটার বাস্তবতা কোথায়? আর বাস্তবিক ব্যবহার কোথায়?

যদিও শীতকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সংগঠন ছাড়াও ব্যক্তিগত উদ্যোগে শীতার্থদের পাশে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ আলেম-ওলামা মাদরাসাছাত্র কোন অংশে পিছিয়ে নেই এই মহৎ কাজে।গতকাল ইজতেমা ও তার আশেপাশের এলাকায় এলাকায় মাদ্রাসার ছাত্ররা গরিব-দুঃখী শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করে।helpless child's foundation এর প্রতিষ্ঠাতা হাসিবুর রহমান হাসিব জানান, তারা উত্তরা মডেল মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা ইউসুফ মানসুর সাহেবের পৃষ্ঠপোষকতায় এই সেবামূলক কাজ করছে। তাদের সংগঠনে কাজ করছে প্রায় দেড়শতাধিক ছাত্র ।তারা প্রতি বৃহস্পতি ও শুক্রবার এবং অন্যান্য ছুটির দিনগুলোতে দেশের বিভিন্ন স্থানে অসহায়দের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করে।

শীতবস্ত্র বিতরণ ছাড়াও তাদের কর্মসূচিতে রয়েছে, পথ শিশুদের উন্মমুক্ত পাঠদান। চিকিৎসা গ্রহণে অসমর্থ হতদরিদ্রদের আর্থিক সহায়তা প্রদান। স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি এবং প্রয়োজন অনুপাতে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে বিনামূল্যে রক্তদান এবং বন্যা কবলিত মানুষদের জন্য খাবার পৌঁছে দেওয়া। রয়েছে সাপ্তাহে তিনদিন ও দৈনিক ক্লাসের ব্যবস্থা ইত্যাদি। তারা নিজস্ব উদ্যোগে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য helpless child's foundation নামে এই বেসরকারি সংস্থা। হাসিবুর রহমান হাসিব উক্ত সংস্থার লক্ষ্য উদ্দেশ্য ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, "আমাদের প্রত্যেকটা শিশু যেন হয় যোগ্য নাগরিক এবং আমরা চাই সুবিধাবঞ্চিত শিশু থাকবে না বাংলাদেশ। অশিক্ষিত কোনো শিশুকে ঘুরে বেড়াবে না কোন রেল স্টেশনে বা আশ্রয়স্হলে কারণ আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। এই শিশু যদি শিক্ষাহীন বা মেরুদণ্ডহীন হয় তাহলে হুমকির মুখে পড়বে বাংলাদেশ"

তিনি আরো বলেন, যাদের সামর্থ্য আছে তারা যদি এই মহৎ কাজে এগিয়ে না আসে তাহলে আমাদের এই সংকট দূরীকরণ সম্ভব নয় কারণ 'দশের লাঠি একের বোঝা' তাই সবাইকে সম্মিলিতভাবে প্রচেষ্টা করতে হবে তবেই আমরা আশা করতে পারি একটি শিক্ষা সংস্কৃতি সম্পন্ন সমৃদ্ধ বাংলাদেশ! আমাদের সোনার বাংলাদেশ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ